বুধবার-১৯শে জুন, ২০১৯ ইং-৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১:২৯
প্রেমের টানে স্বামী-সংসার ফেলে খুলনায় জার্মান নারী যাত্রাবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে স্বর্ণকার নিহত পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত চীনা নাগরিকের মৃত্যু ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে বিদেশি বিনিয়োগে ডুমুরিয়ার এএসআই সাময়িক বরখাস্ত ১৬ ঘণ্টা পর নদীতে ভেসে উঠল নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের লাশ দিনাজপুরে দেশের প্রথম লোহার খনি আবিষ্কার

আবাসন খাতে কমতে পারে নিবন্ধন ফি

1 week ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪. কম ডেস্ক:   আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ফ্ল্যাট ও প্লট নিবন্ধন ফি কমিয়ে ১০ শতাংশের নিচে নির্ধারণ করা হতে পারে। একই সঙ্গে ফ্ল্যাট কেনায় এলাকাভেদে বিদ্যমান করের হার গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমানো হতে পারে। অপ্রদর্শিত বিনিয়োগের সুযোগ বহাল থাকছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত এপ্রিলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে আবাসন খাতের সংগঠন বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএলডিএ) এবং রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনাকালে সভাপতির বক্তৃতায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া নিবন্ধন ফি কমানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন।

প্রাক-বাজেট আলোচনাকালে আবাসন খাতের চলমান সমস্যা সমাধানের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি আবাসন খাতে বিদ্যমান ১৪-১৬ শতাংশ নিবন্ধন ব্যয় অনেক বেশি। এতে ব্যয় বাড়ছে। আবাসন খাতে গতি আনতে এ ক্ষেত্রে যৌক্তিক পদক্ষেপ গ্রহণে স্থানীয় সরকার এবং আইন মন্ত্রণালয়ে শিগগিরই এনবিআর থেকে চিঠি দেওয়া হবে।’

এনবিআর চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্যের আগে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, ‘ফ্ল্যাট এবং জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে কয়েক বছর থেকে ১৪-১৬ শতাংশ অতিমাত্রার নিবন্ধন ব্যয় বিদ্যমান। একই সঙ্গে পুরনো ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে পুনরায় নতুন ফ্ল্যাটের সমান নিবন্ধন ব্যয় করতে হয় যা অযৌক্তিক। নিবন্ধন ব্যয় ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা প্রয়োজন।’ গৃহায়ণ শিল্পের উদ্যোক্তাদের আয়কর হ্রাস এবং অর্থ পাচার ঠেকাতে কোনো শর্ত ছাড়া আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়াসহ এক গুচ্ছ প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবি জানান আলমগীর শামসুল আলামিন।

রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট  লিয়াকত আলী ভূইয়া গত রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আবাসন খাতের সমস্যা সমাধানে এনবিআর এবং রিহ্যাব প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি করা হয়। এই কমিটির সুপারিশের মধ্যে নিবন্ধন ফি কমানোর বিষয়টি অন্যতম। এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাতে গতি আসবে।’

এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘নিবন্ধন ব্যয় বেশি থাকার কারণে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার ফ্ল্যাট অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। হাজার হাজার প্লটও অবিক্রীত আছে। আশা করছি, সরকার আমাদের দাবি বিবেচনা করে আগামী অর্থবছরে নিবন্ধন ফি কমানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ভ্যাট বা মূসক, নিবন্ধন ফিসহ সব মিলিয়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তরে ১৪ শতাংশ থেকে ১৬ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে। এ ব্যয় কমিয়ে ১০ শতাংশের নিচে ধার্য করা হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে রিহ্যাব থেকে ভ্যাট ১.৫ শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি ১.৫ শতাংশ, গেইন ট্যাক্স ২ শতাংশ, নিবন্ধন ফি ১ শতাংশ, স্থানীয় সরকার কর ১ শতাংশ-এভাবে মোট ৭ শতাংশ নির্ধারণ করার দাবি রয়েছে।

সংগঠনের প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমানে ব্যয় বেশি হওয়ায় ফ্ল্যাট বা প্লটের ক্রেতারা নিবন্ধনে উৎসাহিত হচ্ছেন না। ফলে সরকার এই খাত থেকে রাজস্ব আয় কম পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে অবিলম্বে নিবন্ধন  ব্যয় কমানো প্রয়োজন। সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে নিবন্ধন ব্যয় বেশি। সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশের নিবন্ধন ব্যয় গড়ে ৪ থেকে ৭ শতাংশ। সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ