বৃহস্পতিবার-২০শে জুন, ২০১৯ ইং-৬ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১:৩৬
সোহেল তাজের অপহৃত ভাগ্নে উদ্ধার মাদারীপুরের অহিদুল হত্যা : চারজনের যাবজ্জীবন উত্তরার সাতটি অ্যাভিনিউতে বন্ধ হচ্ছে রিকশা-লেগুনা জলবায়ু বাজেটে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার দাবি বিদেশে ২১ হাজার বাংলাদেশি শরণার্থী এশিয়া প্যাসিফিকে দ্রুততম প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের, এডিবির প্রতিবেদন পরিবেশ মেলা, বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

অ্যাডভান্স ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিস দেশের আবাসন শিল্পে অবদান রেখে আসছে’ -প্রকৌশলী এস এম আনোয়ার হোসেন

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  প্রকৌশলী এস এম আনোয়ার হোসেন
চেয়ারম্যান, এ্যাডভান্স ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিস লিঃ
প্রকৌশলী এস এম আনোয়ার হোসেন। চেয়ারম্যান, এ্যাডভান্স ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিস লি:। আবাসন শিল্পের সঙ্গে জড়িত দীর্ঘদিন। এই শিল্পের ভালো মন্দ নিয়ে ভাবেন, কাজ করেন। অ্যাডভান্স ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিস দেশের আবাসন শিল্পে অবদান রেখে আসছে দীর্ঘদিন।  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাংবাদিক গন
সাক্ষাৎকার : দেশীয় অর্থনীতিতে আবাসন শিল্পের ভূমিকা কতটুকু বলে মনে করেন?
আনোয়ার হোসেন : বাংলাদেশে অনেক সেক্টর রয়েছে। এর মধ্যে রিয়েল এস্টেট সেক্টর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশের রিয়েল এস্টেট সেক্টর অনেক নতুন। আবাসন এই শিল্পের ভূমিকা বলতে গেলে প্রথমে আমি বলব এই সেক্টরটি আমাদের দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এটি এমন একটি শিল্প যার লেনদেন হয়ে থাকে দেশের অভ্যন্তরে। যেমন ডেভেলপমেন্টের জন্য উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ম্যাটেরিয়ালস্ ডেভেলপমেন্ট এবং মার্কেটিং পর্যন্ত যেসব খরচ হয়ে থাকে তা দেশের অভ্যন্তরে হয়। অর্থাৎ এই শিল্পের বিকাশের জন্য আমাদের বাইরের কোনো দেশের ওপর নির্ভর করতে হয় না। এই সেক্টরকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশে অনেক শিল্প গড়ে উঠেছে। সুতরাং বলা যায় এই শিল্পটি শুধু একটি ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই, বিভিন্ন শিল্প এই আবাসন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। এই শিল্পে বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রায় ১ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এই শিল্পের মাধ্যমে অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। বাংলাদেশে এমন একটি আর্কিটেক্চার খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি রিয়েল এস্টেট শিল্পের সঙ্গে জড়িত নন।
এত কিছুর পরও এই শিল্পের ইমেজ সঙ্কট রয়েছে। অনেকের ধারণা এই সেক্টরে যারা ব্যবসা করছেন তারা রাতারাতি বড়লোক হয়ে যাচ্ছেন এবং এর কারণ ক্রেতাদেরকে ঠকানো। ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের কাজে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবাসন শিল্পের প্রতি মানুষের এই নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছেÑ যা একদিনে তৈরি হয়নি। তবে ইতিবাচক কাজ অনেক হয়েছে কিন্তু সেটা নিয়ে কেউ কথা বলেন না।
সাক্ষাৎকার : আবাসন শিল্পে এ্যাডভান্স ডেভেলপমেন্টের ভূমিকা সম্পর্কে যদি বলেন…
আনোয়ার হোসেন : বাংলাদেশে অনেক রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রয়েছে যার মধ্যে এ্যাডভান্স ডেভেলপমেন্ট অন্যতম। আমরা ইতোমধ্যে অনেক প্রজেক্ট সম্পন্ন করেছি। প্রজেক্ট করার পাশাপাশি এই সেক্টরের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের জন্য বিভিন্ন উপাদান তৈরিতে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। এর আওতায় আমরা একটি অত্যাধুনিক কংক্রিট ব্লিচিং প্ল্যান্ট প্রজেক্ট তৈরি করছি যেটি বিল্ডিং তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এই কংক্রিট বাংলাদেশের প্রায় ১০০টি ডেভেলপার কোম্পানি ব্যবহার করছে।
আমরা একটা নতুন প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। এই প্রজেক্টের মধ্যে রয়েছে কম খরচে আবাসন ব্যবস্থা। এক লাখ ৮০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে আড়াই লাখের মধ্যে ৩ বেড রুমের একটি ফ্ল্যাট তৈরি করা যাবে। এ দেশে গ্রামে যারা বসবাস করে তাদের বাড়িঘর প্লানমাফিক তৈরি করা হয় না এবং বসবাসযোগ্য থাকে না। যাদের বাড়ি করার সামর্থ্য রয়েছে তারাও ভালো সোর্সের অভাবে ভালো বাড়ি তৈরি করতে পারে না। আমাদের এই প্রজেক্টের লক্ষ্য হলো খুব কম খরচে মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা। আমাদের সহযোগিতা করছে নেদারল্যান্ডস সরকার। আমাদের আরো প্রজেক্টের মধ্যে রয়েছে এ্যানার্জি সেভিং করা। যেহেতু আমাদের দেশে বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে সেহেতু যেসব বিল্ডিং এসি ব্যবহার করে সেখানে রুমগুলো যদি এমন সিস্টেম ব্যবহার করা হয় যাতে বিদ্যুৎ সমস্যা দূর হবে। এ ছাড়া আমাদের প্রজেক্টের রয়েছে ভাসমান বাড়ি, ভাসমান ব্রিজ তৈরি করা এবং ভাসমান এগ্রিকালচার শেড তৈরি করা। গ্রামে আমাদের যেসব প্রজেক্ট রয়েছে সেখানে বিল্ডিং তৈরি করা হবে
২-৩ তলার মধ্যে এবং শহরের বিল্ডিংগুলো হবে হাইরাইজ। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের আবাসন শিল্পের সঙ্কট দূর করা।
সাক্ষাৎকার : এবারের নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছেন? আপনি তো নিজেও একজন প্রার্থী…
আনোয়ার হোসেন : আগামীতে রিহ্যাবের কমিটিতে নির্বাচিত হয়ে যারা কাজ করবে তারা যেন কর্মঠ ও ক্লিন ইমেজের হয় আমি এটা আশা করি। কারণ এই সেক্টরটির উন্নয়নের জন্য এর ভেতরে অনেক পরিবর্তন আনতে হবে। আশা করি আগামী নির্বাচনে উপর্যুক্ত প্রার্থী নির্বাচিত হবে। যদি আমরা ভালো মানসিকতা নিয়ে কাজ না করি তাহলে ভালো কাজ হবে না। এখানে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় আমি আনতে চাই না। আমরা যদি সঠিক পরিকল্পনা মাফিক সামনে এগুতে পারি তাহলে আবাসন শিল্পের মান আরো বৃদ্ধি পাবে। যদি ক্রেতা ও জমির মালিকদের মধ্যে ভালো সাপোর্ট দেয়া যায় তাহলে আমাদের কাজের সুবিধা হবে। আমরা যদি রিয়েল এস্টেটের ডেভেলপমেন্ট বিষয়টি উন্নত করার জন্য রিসার্চের ব্যবস্থা করি তাহলে এর মান আরো বৃদ্ধি পাবে ও শক্তিশালী হবে।সূত্র: সাপ্তাহিক
আমি রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গে অনেকদিন ধরে জড়িত। আমি এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়েছে অতীতে আমাদের যে ত্র“টি হয়েছে সেগুলো দূর করে আবাসন শিল্পকে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরো সাংগঠনিক হওয়া প্রয়োজন। এই প্রত্যাশা করে আমি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।
আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ১৯টা দফা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে রিহ্যাবকে একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করা। এখানে অবশ্যই ক্রেতার স্বার্থ বিবেচনা করতে হবে। এটা শুধু জবাবদিহিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং এগুলো বাস্তবায়িত করার জন্য ভূমিকা পালন করতে হবে।
রিয়েল এস্টেট সেক্টরে রাজউক সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি ল্যান্ড ডেভেলপারেরও কাজ করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আশার পর ঘোষণা দিয়েছে যে সাধারণ মানুষের বাসস্থানের সৃষ্টি করার জন্য কাজ করে যাবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ঢাকা শহরের চারদিকে স্যাটেলাইট টাউন তৈরি করা হবে। সরকার ডেভেলপারদের মাধ্যমে ফ্ল্যাট প্রদান কর্মসূচি চালু করলে ঢাকা শহরে আবাসন সমস্যা দূর হবে। ঢাকা শহরে অনেক জমি আছে যেগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় না। এ জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।
আমাদের ব্যাংক ঋণে সুদের হারও খুব বেশি। এই হার কমাতে হবে। নীতিমালাগুলো ক্রেতা ও নির্মাতা করতে হবে। তবেই এগিয়ে যাবে এই শিল্প।

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ