বুধবার-১৯শে জুন, ২০১৯ ইং-৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১:১১
প্রেমের টানে স্বামী-সংসার ফেলে খুলনায় জার্মান নারী যাত্রাবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে স্বর্ণকার নিহত পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত চীনা নাগরিকের মৃত্যু ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে বিদেশি বিনিয়োগে ডুমুরিয়ার এএসআই সাময়িক বরখাস্ত ১৬ ঘণ্টা পর নদীতে ভেসে উঠল নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের লাশ দিনাজপুরে দেশের প্রথম লোহার খনি আবিষ্কার

অর্থ লেনদেন : দুদক পরিচালক বাছির ও ডিআইজি মিজানের পাল্টাপাল্টি দাবি

1 week ago , বিভাগ : সারাদেশ,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদ্য বরখাস্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। ডিআইজি মিজানের সঙ্গে কথোপকথনে ব্যবহৃত কণ্ঠ নিজের নয় বলে গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠ’র কাছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট, কেউ পারলে প্রমাণ করে দেখাক।’ অন্যদিকে গণমাধ্যমের কাছে ডিআইজি মিজানুর রহমান দাবি করেন, তাঁর কাছে সব রেকর্ড আছে। কমিশন থেকে ডাকা হলে তিনি সমস্ত প্রমাণসহ কমিশনে তা উপস্থাপন করবেন।

অডিও রেকর্ডটি বানানো এবং মিথ্যা দাবি করে দুদক পরিচালক এনামুল বাছির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডিআইজি মিজান যে অডিও প্রকাশ করেছেন সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমি চ্যালেঞ্জ করতে পারি, তাঁর সঙ্গে আমার কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন বা এ জাতীয় কোনো ঘটনা ঘটেনি, কথাবার্তাও হয়নি। যেকোনো প্রক্রিয়ায়, যেকোনো ফরেনসিক পরীক্ষাই করা হোক, শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে সেটা আমার কণ্ঠস্বর নয়।’

সম্পদ বিবরণীতে ডিআইজি মিজানের ভাই এবং ভাগ্নের সম্পদের কথা উল্লেখ করা হয়নি জানিয়ে এনামুল বাছির জানান,  ডিআইজি মিজানের বরিশালে আমেনা ভিলা আছে। পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন হাউজিংয়ে ফ্ল্যাট, পুলিশ কনভেনশনে দোকান, জোয়ার সাহারায় প্লটসহ বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে সম্পদ গড়েছেন তিনি। তাঁর ভাগ্নে মাহমুদুল হাসান স্বপন ও ভাই মাহাবুবুর রহমানে নামে করা সম্পদ গোপন করেছেন। আর বেনামি ঠিকানা দিয়ে ১৩ বছরের ভাগ্নে মাহমুদুল হাসান স্বপনের নামে এক কোটি টাকা ইনকামট্যাক্স ফাইল খোলেন মিজান। যে ভাগ্নের বাবা একজন মাদ্রাসার শিক্ষক, যার পক্ষে জীবনে এক কোটি টাকা দূরের কথা, এক লাখ টাকা একত্রে দেখাও সম্ভব নয়। সেই ভাগ্নের নামে কোটি টাকা নগদ দেখিয়েছেন ডিআইজি মিজান। ওই ভাগ্নের নামে কাকরাইলে ৬৬/৩ নম্বরের ঠিকানায় ৬৫ লাখ টাকায় ফ্ল্যাট কিনেছেন মিজান।

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে চার কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে জানিয়ে এনামুল বাছির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনুসন্ধানে চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁর ভাই এবং ভাগ্নের নামে অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধেও আলাদা অনুসন্ধান হচ্ছে, সেখানেও  অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত এক কোটি ৯৭ লাখ টাকা অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা গোপন করা হয়েছে। মামলার খসড়া করেও কমিশনে জমা দিয়েছি, কিন্তু কমিশন এখনো মামলা করেনি। সম্পদ গোপন করার জন্য মামলার পাশাপাশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হবে। পাশাপাশি মানিলন্ডারিংয়ের মামলা হবে।

তাঁর স্ত্রীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া প্রসঙ্গে এনামুল বাছির বলেন, ‘তাঁর স্ত্রীর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করতেই সেখানে গিয়েছিলাম। তাঁর স্ত্রী সম্পদ বিবরণীতে বলেছিলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার মালামাল আছে। সেখানে মালপত্র পরীক্ষা করতে গিয়েছিলাম। অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে সেখানে গিয়ে দেখেছি, সেখানে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার মালামাল হবে না।

এনামুল বাছির আরো বলেন, ‘ডিআইজি মিজান তো চ্যালেঞ্জই করেছেন আমাকে ট্রেপ করার জন্য এসব করেছেন। তাঁর মানে অনুসন্ধান শুরুর আগেই ধরে নিয়েছেন আমি তার কাছ থেকে ঘুষ নেব। এটা অবশ্যই ডিআইজি মিজানের প্রি-প্ল্যান। আর যেহেতু সে বুঝতে পারছে তাঁর এই অপরাধ থেকে সে বাঁচতে পারবে না, তাই হয়তো এটা করেছে।’

এদিকে ঘুষ নিয়ে অডিও রেকর্ডকে দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির মিথ্যা এবং বানোয়াট বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেও অভিযোগকারী ডিআইজি মিজানুর রহমান গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, তাঁর কাছে সব রেকর্ড আছে। কমিশন থেকে তাঁকে ডাকা হলে তিনি সমস্ত প্রমাণ সেখানে উপস্থাপন করবেন। গতকাল দুপুরে  বেইলি রোডের বাসায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ডিআইজি মিজান।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন কমিটি করে অডিওটির সত্যতা যাচাই করুক, সংশ্লিষ্ট কমিশনে পাঠাক। এই ভোকালটা উনার (এনামুল বাছিরের) কি না দেখুক। তাহলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। আর এটা নিজেকে সেভ করার জন্য করেছি। আমার কাছে সব রেকর্ড আছে। আমাকে যখন ডাকবে তখন সব দেখাব।’

সাংবাদিকদের তিনি আরো বলেন, ‘বিভিন্নভাবে আমাকে প্রেশার ক্রিয়েট করে। বারবার দেখা করতে চাই। আমি দেখা করলাম। যখন দেখলাম যে এই লোকটা নিজেই দুর্নীতিবাজ, তখন সেটা তো প্রমাণ করতে হবে। আমি এই বিষয়টাই প্রমাণ করেছি। আমি ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়েছি। আমার স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি, তার সব তথ্য আছে। আমি যথাসময়ে অনুসন্ধান কমিটিকে প্রমাণ দেব।’

বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছে তদন্তে তথ্য-উপাত্ত ফাঁস করাসহ অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে গত সোমবার খন্দকার এনামুল বাসিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুদকের সচিব দিলওয়ার বখতকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মফিজুর রহমান ভূঞা এবং মহাপরিচালক (প্রশাসন) সাঈদ মাহবুব খান।’ ওই কমিটির  তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে কমিশন।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ