বুধবার-১৯শে জুন, ২০১৯ ইং-৫ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১২:৪৩
যাত্রাবাড়ীতে ছুরিকাঘাতে স্বর্ণকার নিহত পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত চীনা নাগরিকের মৃত্যু ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে বিদেশি বিনিয়োগে ডুমুরিয়ার এএসআই সাময়িক বরখাস্ত ১৬ ঘণ্টা পর নদীতে ভেসে উঠল নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের লাশ দিনাজপুরে দেশের প্রথম লোহার খনি আবিষ্কার ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের অনলাইন আবেদনের শেষ দিন আজ

অমীমাংসিত ইস্যুর সমাধান শিগগিরই : রাষ্ট্রপতিকে মোদি

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:    বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর শিগগিরই সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ওই আশ্বাস দেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে রাষ্ট্রপতি ঝুলে থাকা তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি দ্রুত সই করা এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অনুরোধ জানান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদ্যাপনে ভারতের অংশীদার হওয়ার আগ্রহ তুলে ধরেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত বুধবার তিন দিনের সফরে নয়াদিল্লি যান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গতকাল তিনি এ অঞ্চলের অন্য নেতাদের সঙ্গে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সফর শেষে গতকালই তিনি ঢাকায় ফিরেছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের ছবি প্রকাশ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিশ কুমার এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন।’

রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মো. জয়নাল আবেদিন বলেছেন, আবারও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় নরেন্দ্র মোদিকে রাষ্ট্রপতি অভিনন্দন জানিয়েছেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা এবং বাংলাদেশ সফরে আসার আমন্ত্রণ জানান।

রাষ্ট্রপতি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেতে পারেননি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণ নরেন্দ্র মোদিকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁকে স্পর্শ করেছে। দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধান দ্রুত হয়ে যাবে এবং সে জন্য দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, তিস্তা নদীকে লাখ লাখ লোকের লাইফ লাইন হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যুর নিষ্পত্তি দেখার জন্য অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছে।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, এর আগে চূড়ান্ত হওয়া চুক্তি সইয়ের মধ্য দিয়ে ভারত এ ব্যাপারে তার অঙ্গীকার পূরণ করবে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য বোঝাই নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্যও নিরাপত্তা হুমকি। ভারতকে বিশ্বস্ত ও নিকটতম বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এই সংকট দ্রুত সমাধানে ভারতের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। রোহিঙ্গারা যাতে স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে আগ্রহী হয়, সে জন্য রাখাইন রাজ্যে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ভারত মিয়ানমারকে চাপ দিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অগ্রগতি তুলে ধরার পাশাপাশি সন্ত্রাসের ব্যাপারে বাংলাদেশের ‘ছাড় না দেওয়ার নীতি’র কথাও উল্লেখ করেন। ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তার ভূখণ্ড কোনো রাষ্ট্র বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো সন্ত্রাসী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে দেবে না। এমনকি আমরা আমাদের ভূখণ্ডে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হতে দেব না।’

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সমাধান ও সম্পর্ক আরো জোরদারে ভারতের মোদি সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী খুব শিগগিরই অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, তিস্তাসহ অভিন্ন নদ-নদীর পানিবণ্টনের বিষয়টি সমাধান হওয়া উচিত বলে ভারত মনে করে। সে জন্য তিনি দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনকে আরো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০০তম জন্মবার্ষিকী যদি যৌথভাবে আয়োজন করা যায়, তবে আন্তর্জাতিকভাবে এর প্রভাব পড়বে। এটি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মোদি বলেন, রোহিঙ্গা শুধু বাংলাদেশেরই সমস্যা নয়, এটি এখন সবারই উদ্বেগের বিষয়। এ সংকট সমাধানে ভারত সব সময়ই বাংলাদেশের পাশে আছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয়,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ