শনিবার-২৫শে মে, ২০১৯ ইং-১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৫:৪৫
গাইবান্ধা কারাগারে আসামি নিখোঁজ-উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে কমিটি আন্তনগর ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ ট্রেন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বসুন্ধরায় বাইতুল জান্নাত জামে মসজিদ উদ্বোধন চার সমুদ্রবন্দরে ৩, নদীবন্দরে ২ নম্বর সংকেত শুটিংয়ে আহত জন আব্রাহাম, সম্পূর্ণ বিশ্রামের নির্দেশ টয়ার ঈদ বিশেষ ‘সাইজ ৪২’

অবশেষে মারা গেলেন হরিজন বধু কেয়া বাঁশফোঁড়

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
৬ দিন ধরে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে সোমবার রাতে মারা গেছেন পার্বতীপুরের হরিজন বধু কেয়া রানী বাঁশফোঁড়। স্বামী-শ^াশুড়ীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে আতœহত্যার জন্য গত ৮ মে নিজের গায়ে নিজেই কেরসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ছিল কেয়া রানী। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ সবার সামনে আতœহত্যার পথ বেছে নিলেও কেয়াকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি পরিবারের কেউ।
জানা যায়, ৭ বছর আগে পার্বতীপুর পৌর সভার ইব্রাহীম নগর সুইপার কলোনীর শীতারাম বাশফোঁড়ের ছেলে বৈশাখ বাঁশফোঁড়ের সাথে তার বিয়ে হয় কেয়া রানী বাঁশফোড়ের। কেয়া গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার উত্তরপাড়া গো-হাটি হরিজন পল্লীর রাজু চৌধুরীর মেয়ে। তাদের ঘরে বর্ষা নামে এক ৫বছর বয়সী এক কন্যা সন্তানও রয়েছে।
কেয়া রানীর বাবা রাজু চৌধুরী ও স্বজনদের অভিযোগ, স্বামী ও শ্বাশুড়ি টাকার জন্য সময়ে অসময়ে কেয়াকে মারধর করতো। সংসারের খরচপত্র তো দূরের কথা মা বাবার সাথে মোবাইল ফোনেও কথা বলতে দিতো না পাষন্ড স্বামী বৈশাখ। স্বামীর অত্যাচার আর নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে ৮মে সন্ধা ৭টার দিকে কেয়া রানী তার স্বামীর বাড়িতে শ্বাশুরীসহ সবার সামনে আত্মহত্যার উদ্যেশ্যে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় কেয়াকে উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেনি। কেয়ার চিৎকারে প্রতিবেশিরা অগ্নিদগ্ধ কেয়া রানীকে প্রথমে পার্বতীপুরের ল্যাম্ব হাসপাতালে ভর্তি করে। পর দিন সকালে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১২মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার (১৩মে) রাত সাড়ে ৭টার দিকে মারা যায় কেয়া রানী। এ ঘটনায় শাহাবাগ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে (মামলা নং- ৭৫১, তারিখ ১৩মে/১৯)।
কেয়া রানী মৃত্যুর আগে তার স্বজনদের জানিয়েছে, সবার সামনে সে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিলেও স্বামী- শ্বাশুড়িসহ বাড়ির লোকজন কেউই তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।
পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার ওসি এসএম আরিফুর রহমান বলেন, কেয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি। কেয়া যেহেতু ঢাকায় মারা গেছে তাই শাহবাগ থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ