মঙ্গলবার,২৮শে মার্চ, ২০১৭ ইং,১৪ই চৈত্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, সময়: সন্ধ্যা ৭:৫১
পার্বতীপুরে ৩ দিন ব্যাপী বারুনীর মেলা অনুষ্ঠিত পার্বতীপুরে দিনব্যাপী ডায়াবেটিস ক্যাম্পিং অস্ট্রেলিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ডেবি আঘাত বংশালে ব্যাগ তৈরির কারখানায় অাগুন: দগ্ধ ২ অভিনেতা মিজু আহমেদ আর নেই পার্বতীপুরে মা সমাবেশ ও নবীন বরণ অনুষ্ঠান শেখ হাসিনাকে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর ফোন

সিভিতে ভুলের কোনো ক্ষমা নেই

cvমুক্তিনিউজ24.কম ডেস্ক: চাকরিতে কাউকে নিয়োগ করার আগে নিয়োগদাতারা প্রত্যেকের সিভি ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করেন। তারা সিভি দেখেই প্রাথমিকভাবে বাছাই পর্বটি সেরে ফেলেন।

সুন্দরভাবে গুছিয়ে তৈরি করা একটি জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) যেকোনো চাকরিতে প্রার্থীকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারে। এ কারণে চাকরিপ্রার্থীর ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনও বলা হয় সিভিকে। কিন্তু চাকরির জন্য প্রস্তুত করা বায়ো ডাটা বা সিভিতে যদি আপনি ভুল করেন তাহলে তা আপনার চাকরির সম্ভাবনা নষ্ট করে। জেনে নিন, সিভি তৈরি সময় কোন কোন বিষয়ে সচেতন থাকবেন।

* কখনো অন্যের সিভি কপি করে আপনার সিভি তৈরি করবেন না। এতে এতে ভুলভ্রান্তির সম্ভাবনা থেকে যায়। যেমন বেখেয়ালে অন্যের কোনো তথ্য আপনার সিভিতে থেকে যেতে পারে।

* অপ্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সিভি বেশি পেজের করা হলে, তা বাতিলের অন্যতম কারণ হতে পারে। ফ্রেশার থেকে শুরু করে ৬-৭ বছর যারা চাকরি করছেন, তাদের সিভি হবে ২ পেজ। ৬-১৫ বছর যাদের অভিজ্ঞতা তাদের সিভি হবে তিন পেজ।

* নানা রঙের লেখায় কালারিং সিভি তৈরি করা চরম বোকামি। এ ধরনের সিভি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে ঠিকই, তবে তা বাতিল করার কাজটা সহজ করার জন্য।

* সিভিতে নামের পর বর্তমান ঠিকানা লিখতে হয়। বর্তমান ঠিকানা হচ্ছে আপনি যেখানে রাতে ঘুমান সেই ঠিকানা। এখানে বাবার বাড়ী, স্থায়ী ঠিকানা, শ্বশুর বাড়ীর ঠিকানা দিলে হবে না।

* নিজের ইমেইল অ্যাড্রেসটি মার্জিত কিনা সে ব্যাপারে খেয়াল রাখুন। সিভিতে   love_u@yahoo.com, paglababa@gmail.com – এরকম অদ্ভূত ইমেইল অ্যাড্রেস থাকলে আপনাকে বিবেচনার বাইরে রাখতে পারে।

* স্কাইপি আইডি অবশ্যই সিভিতে দিয়ে রাখুন। কোন রিক্রুইটারের সময় নেই, আপনার সঙ্গে অনলাইনে ইন্টারভিউ অ্যারেঞ্জ করবে। হোয়াটসঅ্যাপ ও ভাইবারও অ্যাকটিভ রাখুন। লিঙ্কডইন রেডি রাখবেন সব সময়। যে কেউ যেন ভিজিট করলেই আপনার সম্পর্কে জেনে যায়।

* স্কুল জীবনে তোলা ছবি দিয়ে চাকরির জন্য আবেদন করা মস্ত বড় ভুল।

* সিভিতে ভুলের কোনো ক্ষমা নেই। ভুল তথ্য ধরা পড়লে যেমন বিপাকে পরতে হতে পারে তেমনি সিভিতে গ্রামার ও বানান ভুল চোখে পড়লেও সিভি বাতিল হতে পারে।

* সিভির ফন্ট, বানান, মার্জিন, স্টাইল সব সময় একই রকম হতে হবে। এক এক জায়গায় এক এক ফন্ট, এক এক স্টাইল হলে বাজে দেখায়।

* সিভির স্টেটমেন্টগুলো SMART না হওয়া চাকরিজীবীদের সিভির খুব মারাত্মক ভুল। SMART দ্বারা বুঝাচ্ছে S= Specific (সুনির্দিষ্ট) M=Measurable(পরিমাপযোগ্য) A=Achievable (সাধনযোগ্য) R= Realistic (বাস্তব) T=Time Bounded (নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে)।

* নিজের ব্যাপারে বাড়িয়ে এমন কিছু লিখা যাবে না যেটা ডিফেন্স দিতে পারবেন না।

* সিভিতে স্ট্রং ওয়ার্ড না থাকা আরেকটি দুর্বল দিক। গুগল করে স্ট্রং ওয়ার্ড বসিয়ে নিন সিভিতে।

* শিকার করা, মাছ ধরা এই ধরনের উদ্ভট শখের কথা সিভিতে থাকা যাবে না যার সঙ্গে কাজের কোনো সম্পর্ক নেই।

* সিভিতে অনেকে চাকরীরত কোম্পানির ইতিহাস লিখে ফেলেন। এর পরিবর্তে কোম্পানির ওয়েবসাইট অ্যাড্রেস দিয়ে দিন।

* ফ্রেশারদের সিভিতে কো-কারিকুলাম অ্যাকটিভিজ থাকতে হবে। এছাড়া ট্রেনিং না থাকাটা সিভির আরেকটি বড় দুর্বলতা। ট্রেনিং করুন। সিভি স্ট্রং হবে। কাজে দিবে।

* নিজের প্রফেশনাল দক্ষতাগুলো ফুটিয়ে তুলতে না পারার কারণেও সিভি রিজেক্ট হয়।

* কোন কোন ক্ষেত্রে আপনি পারদর্শী এবং কোন কোন ক্ষেত্রে কাজ করতে চান উল্লেখ না করাও সিভির বড় ভুল।

* ভুল তারিখ থাকা সিভির আরেকটি ভুল। অনেকে তারিখ লিখতে ভুল করেন। এই ভুল ধরা পড়লে সিভি বাদ হতে পারে।

* হয়তো বিক্রয় কর্মীর পদের জন্যে আবেদন করবেন। কিন্তু সিভির মধ্যে সাপ্লাই চেইন সম্পর্কে এতো কথা লিখা যে, সিভি বাছাইকারী কনফিউজ হয়ে গেল। পরিনামে আপনার সিভিটি তিনি বাদ দিয়ে দিবেন।

* সিভির তথ্যগুলো পর্যায়ক্রমে না সাজালেও বাদ পড়ে যেতে পারে আপনার সিভিটি। ধরুন, আপনি বিবিএ পড়ার সময় ইন্টার্নশিপ করেছেন। তার মানে ইন্টার্নশিপটা বিবিএ পড়ার একটা পার্ট। তাই আগে থাকবে বিবিএ পড়ার তথ্য, এরপর আসবে ইন্টার্নশিপ।

* একটি ছেলের ছবি সিভিতে যুক্ত থাকার পরেও সে যখন আলাদা ভাবে লিখে যে তার সেক্স Male, সেটা খুব অদ্ভুত দেখায়।

* কত টাকা বেতন পান ও কত টাকা বেতন চান উল্লেখ করা সিভির আরেকটি ভুল। আগে হবে যাচাই বাছাই করতে হবে, সবশেষে আসবে মূল্য।

* কেন আমি সেরা? কেন আমাকেই ডাকবেন ইন্টারভিউর জন্যে? এটা যদি সিভিতে ফুটে না ওঠে, আপনি ইন্টাভিউ কল পাবেন না।

* আত্মীয় স্বজন, বেয়াই, কুটুম এদের সিভির রেফারেন্স বানাবেন না। সিভিতে দুইটি রেফারেন্স রাখুন যাদের সঙ্গে পড়াশুনার সময় অথবা কর্মক্ষেত্রে পরিচয় হয়েছে।

* ভাষাগত দক্ষতা অংশে অনেকে টেবিল তৈরি করেন। এটা খুব বাজে লাগে দেখতে। আপনি বাংলা ও কাজ চালিয়ে নেবার মতো ইংরেজি জানেন। এইটুক লিখলেই হবে।

* এমন কোনো কম্পিউটার স্কিল বা সফটওয়্যার স্কিল দিবেন না যা আপনি জানেন না।

* যাকে রেফারেন্স বানাচ্ছেন, তাদের অনুমতি নিন ও তাদের ফোন নম্বর ও মেইল আইডি দিন।

* সবশেষে সাইন দিন যাতে বোঝা যায় সিভিটি আপনার। যেদিন সিভিটি পাঠাচ্ছেন, ওইদিনের ডেট দিন।

* কভার লেটার না দিলে অনেক সময় আপনার সিভি বাদ পড়ে যাবে। অনেক জায়গায় তো কভার লেটার ছাড়া আপনি আবেদনই করতে পারবেন না।

* কেউ জেপিজি ফরম্যাটে সিভি পাঠাবেন না। কারো সময় নেই, একাধিক ইমেজ নামিয়ে জোড়া দিয়ে দিয়ে আপনার সিভি দেখবে। সিভি পিডিএফে পাঠাবেন।

* যে পদের জন্য আবেদন করা হচ্ছে সেটি খামের ওপর বা ইমেইলের সাবজেক্টে না লেখা আরেকটি বড় ভুল। তাড়াহুড়ার কারণে এই ভুলটি হয়।

* সিভি অফসেটে প্রিন্ট করে পাঠানো ভালো। সব জায়গায় কৃপণতা ঠিক না।

* বেশি পুরানো তথ্য সিভিতে রাখবেন না। নতুন নতুন কাজ প্রোফাইলে যুক্ত হলে পূর্বের কাজগুলো সরিয়ে ফেলুন।

* সিভি ও ছবি আলাদা করে পাঠাবেন না। যিনি সিভি যাচাই বাছাই করেন, উনাকে কয়েকশ সিভি যাচাই বাছাই করতে হয়। আপনার সিভির সঙ্গে ছবি জোড়াতালি উনি কোনদিন দিবেন না।

* ওয়ার্ড ফাইল কাউকে দিবেন না। এটা এডিট করা যায়। ইনফো সিকিউরিটির ব্যাপার আছে। যাকে তাকে সিভি দিবেন না।

আপনার মতামত লিখুন

লাইফস্টাইল বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ