বৃহস্পতিবার,৩০শে মার্চ, ২০১৭ ইং,১৬ই চৈত্র, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৮:৩৮
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে নিয়োগ ঝিনাইদহে ভিক্ষুকদের পুর্ণবাসন করার লক্ষ্যে উপকরণ বিতরণ লালপুরে দুদকের দুর্নীতি বিরোধী পোস্টার প্রদর্শনী ঝিনাইগাতীতে মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান ও অষ্টকালীন লীলা কীর্ত্তন অনুষ্ঠিত সন্ত্রাস জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে -প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুরে আমাদের সময়ের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সিংড়া পৌরসভার কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে সমন্বয় সভা

ঝিনাইগাতীতে বন্য হাতি ও সীমান্তবাসীদের জীবণ যুদ্ধে নিহত-৮

download

মুহাম্মদ আবু হেলাল, ঝিনাইগাতী ঃ
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তে প্রশাসনের কার্য্যত কোন উদ্দ্যোগ না থাকায় বন্য হাতি ও সীমান্তবাসীদের টিকে থাকার জীবণ যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলছে। সীমান্তবাসী বলছেন, আমাদের গুলি দেন, আমরা হাতিকে মারব, নইলে আমাদের স্বজনদের ফিরিয়ে দিন। এই দাবীতে ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে সীমান্ত এলাকা। কারণ গত ২২ দিনে ৩জন গৃহবধূ ও ৪জন কৃষক মৃত্যুবরণ করে। এর আগে মারা যান গুরুচরণ দুধনই গ্রামের কৃষক রুস্তম আলী। এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রামগুলোতে ভারত থেকে নেমে আসা বন্য হাতির দলগুলো উপদ্রপ চালাচ্ছে। গত ২৩সেপ্টেম্বর ছোট গজনী এলাকার ললেন সাংমা, ২৬সেপ্টেম্বর বাকাকুড়া এলাকার কিবিরণ বেওয়া হাতির আক্রমনে মারা যায়। বিপরীতে গত ১অক্টোবর রাতে বৈদুতিক ফাঁদে আঁটকা পড়ে একটি পুরুষ হাতি মারা যায়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ১০অক্টোবর বাকাকুড়া এলাকার বাশিরাম চাম্বুগং হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা যান। এসবের পরেও বন্য হাতির অত্যাচার থামছেনা। প্রতি রাতেই সীমান্তে বসবাসরত নিরস্ত্র মানুষের বাড়ী ঘরে ও ফসলের ক্ষেতে হামলা অব্যাহত থাকায় গত ১৩অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গুরুচরণ দুধনই এলাকায় তান্ডব চালিয়ে ঘরের ভিতরে লোকিয়ে থাকা আয়তনন্নেছা ওরফে দেলুমা, কালা জহুরুল ও আব্দুল হাইকে নির্মম ভাবে হত্যা করে। পাশের গ্রামের শোক না কাটতেই ১৪অক্টোবর শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ঘটিকার দিকে বন্য হাতির দল তান্ডব চালিয়ে উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের তাওয়াকুচা টিলাপাড়া গ্রামের ফজল হকের স্ত্রী মমেনা বেগমকে হত্যা করে। এসময়গুলোর মধ্যে আহত হন, নরেন মারাক, হাবিবুল্লাহ, লিয়াকত আলী, ফরেন্দ্র মারাক, আঃ জলিল সহ বেশ কয়েক জন। এতগুলো মানুষ মারা যাওয়ার পরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সঠিক কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দারা আতংকের মাঝে দিনাতিপাত করছে। দিন যেভাবেই কাটুক, রাত নেমে এলে মনে হয় মৃত্যু তাদের ঘরে হানা দিচ্ছে। যে কারনে সীমান্তবাসীরা বন্য হাতির ভয়ে সারা রাত জেগেই পাড় করে। এ ব্যাপারে কাংশা ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সীমান্তে যারা বসবাস করেন, তারা বেশীর ভাগই অতি দরিদ্র, তাদের অন্য কোথাও থাকার জায়গা নেই বলেই এত আতংকের মধ্যেও বসবাস করছে, কাজেই বন্য হাতির এ তান্ডব থেকে সীমান্তবাসীকে নিরাপদে রাখতে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সেলিম রেজার সাথে কথা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, “সীমান্তের প্রতিটি গ্রামের দুর্যোগ কমিটিকে হাতি তাড়াবার জন্য নিয়মিত ভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিজেল তৈল ও ১১০টি এলইডি লাইট প্রদান করা হয়েছে, আগামী ২/১ সপ্তাহের মধ্যে আরোও ১-২শত এলইডি লাইট প্রদান করা হবে। যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের পরিবারকে ১লাখ টাকারস্থলে ২লাখ টাকা করে এবং আহতদের ৫হাজার টাকার স্থলে ১০হাজার টাকা অনুদান প্রদান ও যাদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে/হচ্ছে তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বন্য হাতি তাড়াতে সীমান্তে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ১১কিলোমিটার জায়াগা জুড়ে ইলেকট্রিক সংযোগের মাধ্যমে সুলার ফ্যানসিং ও বায়ূ ফ্যানসিং এর কাজ চলছে। সেই সাথে কাটাযুক্ত বেত ও লেবু গাছ লাগানোর উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১০-১৫দিনের মধ্যে এসব কাজের উদ্বোধন করা হবে। এই সুলার ফ্যানসিং ও বায়ূ ফ্যানসিং এর সুফল পেলে পুরো সীমান্ত এলাকাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে, তখন বন্য হাতির এ তান্ডব আর থাকবেনা”।

আপনার মতামত লিখুন

বরিশাল,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ