আজ শনিবার,১০ই ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং,২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৮:৫৯
সৈয়দপুরে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সম্মেলন অনুষ্ঠিত পাঁচবিবিতে আন্তর্জাতিক দূর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত লালপুরে জয়িতা সম্মাননা পেলেন ৫ নারী ঝিনাইগাতীতে আন্তর্জাতিক দূর্নীতি প্রতিরোধ দিবস উদ্যাপিত মানিকগঞ্জে বাসচাপায় অজ্ঞাত ব্যক্তি নিহত ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩ টুর্নামেন্ট সেরার দৌড়ে মাহমুদুল্লাহ-তামিম

‘মাকে আব্বা বলেও ডাকতো রাসেল’

‘মাকে আব্বা বলেও ডাকতো রাসেল’

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: ‘জন্মের পর থেকে রাসেল বড় হয়েছে পিতা-মাতা, ভাই সবার স্নেহ নিয়ে। কিন্তু কতটুকু পেয়েছে পিতৃস্নেহ? তাকে বড় হতে হয়েছে পিতৃস্নেহ বঞ্চিত হয়ে।’

১৫ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে নির্মম ভাবে নিহত হওয়া বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেলের ৫৩তম জন্ম দিনে আবেগ আপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধুর বড় মেয়ে।

ছোট রাসেলের কথা স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছোট্ট রাসেলকে পিতার স্নেহ বঞ্চিত হয়ে বড় হতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যখনই আমরা কারাগারে যেতাম বাবাকে দেখতে, রাসেলকে নিয়ে আসা কঠিন ছিলো। অনেক কষ্ট করে তাকে নিয়ে আসতে হতো।’

‘যখন কথা বলতে শুরু করলো সে বাবাকে খুঁজে বেড়াতো। তখন মা তাকে বলতো আমিই তো তোমার বাবা। মাকে সে আব্বা বলেও ডাকতো, মা বলেও ডাকতো।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আবার আমরা যখন কারাগারে দেখতে যেতাম তখন অবুঝ হৃদয় বাবাকে আব্বা বলে ডাকতো আবার মাকে আব্বা বলে ডাকতো। এভাবেই ছোট রাসেল বেড়ে ‍উঠেছে। আমরা সবাই পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত।’

রাসেলের বড় বোন শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছোট্ট রাসেলের কথা সব সময় মনে হয়, সে আমার চেয়ে অনেক ছোট। ৬৪ সালে রাসেলের যখন জন্ম হয় আব্বা তখন ভীষণ ব্যস্ত। পাকিস্তানে তখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।’

৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বজন হারানোর বেদনা কত নির্মম।’

‘রাসেল তো আমার কোলে পিঠে বড় হয়েছে। তার সাথে কত খেলা করেছি। কত ছবি তুলেছি।’

কথাগুলো বলার সময় প্রধানমন্ত্রী বার বার আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ছিলেন। কাঁদো কাঁদো গলায় কথা বলছিলেন।

রাসেলের নির্মম ভাবে নিহত হওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ঘাতকের দল রাসেলকেও ছাড়েনি। তাকেও সবার শেষে নির্মম ভাবে হত্যা করে।’

‘একটা উদ্দেশ্য ছিলো বঙ্গবন্ধুর রক্তের একটুকু চিহ্নও যেন না থাকে। তাছাড়া বাচ্চাটাকে সবার শেষে কষ্ট দিয়ে…। কতো ছোট একটা জীবন রাসেলের। রাসেলের কি অপরাধ ছিলো?’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটুক আমরা চাই না।’

‘কিন্তু ১৫ আগস্ট যে ঘটনা ঘটেছে তা এক মাত্র কারবালার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করা যায়। কারবালাতেও বোধ হয় শিশুদের হত্যা করা হয়নি।’, যোগ করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু তার পরিবারের হত্যাকারীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আইন করে তাদের বিচারের হাত থেকে রেহাই দেয়া হয়েছিলো। বিভিন্ন দেশে চাকরি দিয়ে তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছিলো।’

সব শিশু-কিশোরদের মন দিয়ে পড়াশোনার করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে, মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। পিতা-মাতা, অভিভাবক, শিক্ষকদের কথা শুনবে, মন দিয়ে পড়াশোনা করবে।’

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের অর্জিত সম্মান ধরে রাখতে হবে।অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা শুরু হয়েছে। এ যাত্রায় তোমাদের হাল ধরতে হবে।’

দেশ ও জাতির কল্যাণে যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

সবাইকে সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদের পথ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চাই না এ দেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ থাকুক।’

দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যাওয়ার বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার বড় মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্বজন হারানোর নির্মম বেদনা নিয়ে দেশে ফিরে এসেছি ক্ষুধা-দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণ করতে, দুঃখী মানুষের মুখে হাঁসি ফোটাতে।

শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, আয়োজক সংগঠনের মহাসচিব মাহমুদ উস সামাদ, উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ।

শিশু কিশোরদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, নাফিস বিন নাদিম। তারা সব শিশু কিশোদের পক্ষ থেকে রাসেলের হত্যাকারীদের প্রতি ঘৃণা ও রাসেলের প্রতি ভালোবাসায় জানায়।

সূত্র: বাংলানিউজ

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয় বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


%d bloggers like this: