বৃহস্পতিবার,২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং,৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১০:৫১
হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩ ২০১৯ সালের মধ্যে ১শ’ কারিগরি স্কুল-কলেজ হচ্ছে পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া পাথর খনির ২৫ শ্রমিক পুরস্কৃত আক্রোশের বলি কোমলমতি পরীার্থীরা হবিগঞ্জে মাইক্রোবাস মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষে ৪ জন আহত তুচ্ছ ঘটনায় দিনাজপুরে ২টি বাসে আগুন ॥ সমঝোতা বৈঠক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ ॥ অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট ॥ চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ ফুলবাড়ীতে আন্ত : সম্পর্ক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত

৭ দিনের রিমান্ডে অভিযুক্ত সাইফুল এখনো মুখ খোলেনি

saifulআতাউর রহমান:
পার্বতীপুরে বহুল আলোচিত ৫ বছরের শিশু ধষর্ণের অভিযোগে গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম (৩৮), ধর্ষণের আগে নিখোজ হওয়া ওই শিশুকে উদ্ধারে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। এ উদ্দেশ্যে ধর্ষিতার বাবাকে জোরাজুরি করে কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়ায় তার প্রতি পুলিশ ও ধর্ষিতার স্বজনদের সন্দেহ ঘনীভূত হয়। এরই সুত্র ধরে ঘটনার তিন পর গত অক্টোবর মঙ্গলবার রাত ১১টায় ধর্ষিতার বাবা সুবল চন্দ্র দাস বাদী হয়ে পার্বতীপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগি আফজাল হোসেন কবিরাজকে আসামী করা হয়।

আজ শনিবার ২৯ অক্টোবর সকালে পুলিশ ও নির্যাতিতার স্বজনদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ১৮ অক্টোবর মঙ্গলবার পার্বতীপুর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের জমিরহাট তকেয়াপাড়া গ্রামের মৎস্যজীবি সুবল চন্দ্র দাসের ৫ বছর বয়সী শিশু ওই দিন বেলা ১১-১২ টার দিকে নিখোজ হয়। বিকেল পর্যন্ত তার কোন খোজ না মেলায় গ্রামের মসজিদ থেকে ও আশপাশের গ্রামে মাইকিং করা হয়।

নিখোজ শিশুর দাদা অনিল চন্দ্র দাস জানান, মাইকিং চলাকালে প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম মাইকিং না করে তাদেরকে আফজাল হোসেন কবিরাজের কাছে যাওয়ার জন্য শিশুর বাবা ও অন্যদেরকে জোরাজুরি করে। সাইফুল তাদেরকে জানায় কবিরাজ মেয়েকে উদ্ধার করে দিতে পারবে। আপনারা মাইকিং ও খোজাখুজি না করে অপেক্ষা করেন। তাকে হয়তো জিনে ধরেছে। নিশ্চয়ই কালকের মধ্যে তাকে খুজে পাওয়া যাবে। ওই দিন সন্ধ্যায় সাইফুল ইসলাম শিশুর বাবাকে তকেয়াপাড়ার (বাদিয়াপাড়া) আফজাল হোসেন কবিরাজের বাড়ীতে নিয়ে যায় ও রাত ১০ টার দিকে বাড়ীতে ফিরে আসে।

পরদিন ১৯ অক্টোবর বুধবার ভোর ৫টায় তকেয়াপাড়ার ইসাহাক আলীর বাড়ীর পাশের হলুদ ক্ষেত (লক্ষনপুর গৌড়পাড়ার শুকরু মুন্সীর জমি) থেকে ক্ষতবিক্ষত ও অজ্ঞান অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। সকাল ৯টার দিকে তাকে স্থানীয় ল্যাম্ব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে ৩দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২২ অক্টোবর শনিবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে, গত ২৪ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দিনাজপুর শহরের মুন্সীর হোটেলের সামনে থেকে মোবাইল ফোন ‘ট্র্যাকিং’য়ের মাধ্যমে মুল অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৫ অক্টোবর মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাকে দিনাজপুর জেল হাজতে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক স্বপন কুমার রায় বলেন, গত ২৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সাইফুলের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে দিনাজপুর আমলী আদালত-৫ এর বিচারক কমল কৃষ্ণ রায় তা মঞ্জুর করেন।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, সাইফুল ইসলামের ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হলেও জনরোষ ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে তাকে পার্বতীপুরে না এনে দিনাজপুর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জবানবন্দি ও রিমান্ডের দু’দিন জিজ্ঞাসাবাদের পরও সে ধর্ষণ ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি এখন পর্যন্ত স্বীকার করেনি।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ