সোমবার,১১ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং,২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৯:২৬
পার্বতীপুরের ৭ বছরের অপহৃত শিশু কুড়িগ্রামে উদ্ধার দুবাই পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মুক্তিপনের দাবীতে পার্বতীপুরে স্কুল ছাত্রী অপহরণ ৪দিন পর উদ্ধার, একজন গ্রেপ্তার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপ সাংবাদিকদের সঙ্গে বিমাতা স্বরূপ আচরণ করছে ॥ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অনিয়ম,দূর্নীতি ও স্বেচ্চাচারীতার রাহুগ্রাসে জিম্মিঃ চলছে রামরাজত্ব ফুলবাড়ীতে শিক্ষার্থীদের বইপড়া প্রতিযোগিতার বই বিতরণ জলঢাকায় র‌্যালী ও পথসভা

৪৮ ঘন্টার মধ্যে ক্ষতিপুরনের ব্যবস্থা না হলে খনির কার্যক্রম অচল করার ঘোষনা

দিনাজপুর ও পার্বতীপুর প্রতিনিধি
আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ক্ষতিপুরনের ব্যবস্থা করা না হলে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ঘেরাও করে খনির কার্যক্রম অচল করে দেয়ার ঘোষনা দিয়েছেন কয়লা খনি সংলগ্ন ১৩টি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সামনে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচীতে এ ঘোষনা দেন তারা। ক্ষতিগ্রস্থ ১৩টি গ্রামের সমন্বয় কমিটির ব্যানারে বড়পুকুরিয়া-ফুলবাড়ী মহাসড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার ব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচীতে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ অংশগ্রহন করে।
মানববন্ধন থেকে ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। দাবির মধ্যে রয়েছে ১৩টি গ্রামের পুর্বের কয়লা উত্তোলনের ক্ষতিগ্রস্থদের বকেয়া টাকা পরিশোধ, যথাসময়ে বাড়িঘরের ফাটলের ক্ষতিপুরন প্রদান, ক্ষতিগ্রস্থ প্রত্যেক পরিবার থেকে চাকুরী প্রদান, কয়লা উত্তোলনের ফলে দেবে যাওয়া রাস্তাঘাট সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা, পূর্বের ৬২৭ একর অধিগ্রহনকৃত সকল জমির বকেয়া পরিশোধ এবং পেট্রোবাংলা, খনি কর্তৃপক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসীর মধ্যে স্বাক্ষরিত ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ১৩টি গ্রামের সমন্বয় কমিটির আহবায়ক মশিউর রহমান বুলবুল, খনি এলাকার বৈগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, চৌহাটি গ্রামের মিজানুর রহমান, বৈগ্রামের মোস্তফা, মোবারকপুরের হাসান, রসুলপুরের রতন, পাতরাপাড়ার মামুন, সাইদুর রহমান, কাজিপাড়ার লিয়াকত আলী ও বৈগ্রামের পান্না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খনির ভূগর্ভস্থ থেকে কয়লা উত্তোলনের ফলে খনি সংলগ্ন পার্বতীপুর উপজেলার ১৩টি গ্রামের বিভিন্ন ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। একইসাথে ভূমি দেবে গিয়ে জলাশয়ের সৃষ্টি হওয়ায় অনাবাদি হয়ে পড়ছে অধিকাংশ জমি। এলাকার লোকজন জানায়, ফুলবাড়ী থেকে খয়েরপুকুর হাট ও চৌহাটি থেকে ধুলাউদাল পর্যন্ত জনগনের চলাচলের জন্য রাস্তাটি দেবে গেছে। বর্ষাকালে রাস্তাটি পানির নিচে ডুবে যায়। এতে এলাকার মানুষ, স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রী এবং অসুস্থ রোগী নিয়ে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইতিপূর্বে খনি কতৃপক্ষ এলাকার মানুষকে আশার আলো দেখিয়ে মসজিদ, কবরস্থান, ঈদগাহ মাঠ, ফসলের জমি, বাসা বাড়ি, পুকুর সবকিছু ধ্বংস করে দিয়ে ৬শত ২৭ একর জমি অধিগ্রহন করেছে। কিন্তু এখনও অনেকেই তাদের ক্ষতিগ্রস্থ জমির ক্ষতিপুরন পায়নি। বরং বর্তমানে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপুরন প্রদান কিংবা জমি অধিগ্রহণ না করেই খনি এলাকার উত্তর-দক্ষিন দিকে সমিক্ষার কাজ করছে এবং নতুন নতুন এলাকায় বোমা বিস্ফোরন করছে। যাতে করে ঘরবাড়িতে ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে। খনি কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীর দাবির বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে এলাকার লোজনকে ভয়ভীতি, মামলা-মোকদ্দমা করে আন্দোলনকে বন্ধ করতে চায়।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ১৩টি গ্রামের সমন্বয় কমিটির আহবায়ক মশিউর রহমান বুলবুল মানববন্ধনে বক্তব্যে বলেন, আমাদের ৬ দফা দাবী খনি কতৃপক্ষকে মেনে নিতে হবে। ৬ দফা দাবী সমুহ আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মধ্যে কয়লা খনিতে ক্ষতিগ্রস্থ ১৩টি গ্রামের মধ্যে মোবারকপুর, বইগ্রাম, কাশিয়াডাঙ্গা, রসুলপুর, কালুপাড়া, মহেশপুর, পাতরাপাড়া, বাশঁপুকুর, বৌধনাথপুর, কাজিপাড়া, হামিদপুর, চৌহাটি, যবরপাড়া এলাকায় ভু-গর্ভ থেকে কয়লা উত্তলনের ফলে ঘরবাড়িতে নতুন করে ফাটলের ক্ষতিপুরন দেয়া হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্থ ঐ সব বাসা বাড়ির উপযুক্ত ক্ষতি পুরন দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবার থেকে চাকরী ব্যবস্থা করতে হবে ও কোটা রাখতে হবে। অনতিবিলম্বে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ৬ দফা দাবির ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূূচী ঘোষণা করে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ঘেরাও করে খনির উৎপাদনসহ সকল কার্যক্রম অচল করে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এলাকাবাসীর দাবির বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যাবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহম্মেদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ