মঙ্গলবার,২৫শে জুলাই, ২০১৭ ইং,১০ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১০:৩৮

পার্বতীপুরে সমাপনি অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শেষ হলো জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ লালপুরে গৃহবধুর আত্মহত্যা লালপুরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সৈয়দপুর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অর্ধ দিবস কর্মবিরতি পালন বড়পুকুরিয়ায় ২দিনে সাড়ে ৩ লাখ মেঃ টন কয়লা কেনার জন্য ৪০০ আবেদন ! কয়লা বিক্রি সাময়িক স্থগিত বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০ সহকারী পরিচালক নেবে ৩২৮ ‘কর্মকর্তা’ নিয়োগ দেবে রূপালী ব্যাংক

২০১৮ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ

pic-20_33586মুক্তিনিউজ24.কম ডেস্ক: একসময় শহরে সন্ধ্যা নামলেই ঝিঁঝি পোকার ডাক শোনা যেত। শহর থেকে সেই ডাক হারিয়ে গেছে অনেক আগেই। আর এখন সেই ঝিঁঝি পোকার ডাক শুনতে হলে সীমান্তের কাছাকাছি কোনো গ্রাম বা পাহাড়ে যেতে হয়। কারণ এখন দেশের অধিকাংশ গ্রামে রাত হলেই বৈদ্যুতিক আলো জ্বলে।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্যমাত্রা আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি গ্রামকে বৈদ্যুতিক আলোতে উজ্জ্বল করা। অর্থাৎ, আগামী দুই বছরের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। যদিও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য হচ্ছে, ‘এখনই আমাদের চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের অভাব নেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুতের ডিস্ট্রিবিউশনে। দেশের সব জায়গায় এখনো ট্রান্সমিশন হয়নি। প্রয়োজনীয় ট্রান্সমিশন করা গেলে, আগামী দুই বছরের আগেই ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানো শতভাগ সম্ভব।’এমনকি এর একটি সুন্দর সমাধানের কথাও বলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, এখন থেকে নতুন যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে, সেগুলো দুই ধরনের জ্বালানির মাধ্যমে চলবে। ভবিষ্যতে দেশে যে গ্যাস উৎপাদন হবে, তা থেকে আর বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে না। এর পরিবর্তে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ব্যবহার করা হবে। আর সুষ্ঠু ট্রান্সমিশনের লক্ষ্যে মেগা কাজ চলছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মপরিকল্পনা : ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানো ছাড়াও সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ আরো কিছু কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এসব কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার এবং ২০৩০ সালে ৪০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা, ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন এবং ১ লাখ কিলোমিটার বিতরণ লাইন ও প্রয়োজনীয় উপকেন্দ্র নির্মাণ বা ক্ষমতা বর্ধন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা।

এ ছাড়া সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংস্থান, ২০২১ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন, আঞ্চলিক গ্রিডের মাধ্যমে ৬ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি নিশ্চিত, ২০২১ সালের মধ্যে ৬ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং ২০২২ সালের মধ্যে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা।

তা ছাড়া সিস্টেম লস সিঙ্গেল ডিজিটে হ্রাস, ২০১৭ সালের মধ্যে দেশব্যাপী প্রি-পেইড মিটার স্থাপন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ জ্বালানি অপচয় হ্রাস, গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধিতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল পদ্ধতির প্রবর্তন এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের দক্ষ জনবল সৃষ্টি করা।

বিদ্যুতের বিদ্যমান অবস্থা : বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি মিলে শতাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থাপিত ক্ষমতা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড হচ্ছে ৮ হাজার ৭৭৬ মেগাওয়াট। গত ১৫ জুন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন এই রেকর্ড হয়।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সূত্র বলেছে, উৎপাদিত বিদ্যুতের অন্তত ৫ শতাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেই ব্যবহৃত হয়, যাকে বলা হয় ‘অক্সিলিয়ারি’। উৎপাদন ৮ হাজার মেগাওয়াট হলে ‘অক্সিলিয়ারি’ হিসেবে ব্যবহৃত হয় অন্তত ৪০০ মেগাওয়াট। বাকি ৭ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট থেকে সঞ্চালন লস (লোকসান) হয় অন্তত ৩ শতাংশ, অর্থাৎ ২২৮ মেগাওয়াট। সে হিসাবে বিতরণ লাইনে ঢোকে ৭ হাজার ৩৭২ মেগাওয়াট। এখান থেকে বিতরণ লোকসান হয় অন্তত ১০ শতাংশ, অর্থাৎ ৭৩৭ মেগাওয়াট। সবশেষে গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছায় ৬ হাজার ৬৩৫ মেগাওয়াট।

বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের দেড় কোটিরও বেশি গ্রাহকের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট। ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রতিষ্ঠান ডিপিডিসি ও ডেসকোর মোট চাহিদা প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট। পিডিবি এবং পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির মোট চাহিদা প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট।

এই হিসাবে গ্রাহক পর্যায়ের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। এই ঘাটতি পূরণের মতো উৎপাদনক্ষমতা আছে। কিন্তু জ্বালানিস্বল্পতা, বিশেষ করে গ্যাসের অভাবে সেই ক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। যদিও সরকার এখন কয়লাভিত্তিক জ্বালানির দিকে এগোচ্ছে। জ্বালানি নিশ্চিত করা গেলে গ্রাহক পর্যায়ে ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিতরণে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না সরকারকে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। সে হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বিদ্যুৎ খাতে জোর দেয় সরকার। পরিকল্পনামাফিক হাতে নেওয়া হয় বেশ কিছু পদক্ষেপ। যার ফল এরই মধ্যে সরকার পেয়েছে।

এর আগে বিএনপি সরকারের আমলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। সেখান থেকে গত সাত বছরে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ হাজার মেগাওয়াটে। এ ছাড়া বাস্তবায়নাধীন রয়েছে আরো কিছু পরিকল্পনা।

ভবিষ্যৎ কর্মসূচি : বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাবে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত সাত বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। চলছে আরো কিছু কাজ, প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বেশ কিছু পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত।

গত ২ জুন বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, গত মে মাস পর্যন্ত দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা উন্নীত হয়েছে ১৪ হাজার ৫৩৯ মেগাওয়াটে। ভিশন ২০২১ অর্জনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে আরো ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।

এ লক্ষ্যে ২৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন, ২০টির দরপত্র প্রক্রিয়াধীন এবং আটটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। এ ছাড়া উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা কার্যক্রমের আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো হতে সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রকল্প : দেশের তিনটি বিদ্যুৎ উৎপাদন অঞ্চল (হাব) থেকে আরো সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রকল্প গ্রহণ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ১০ বছর মেয়াদি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) অধীনে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, তিনটি বিদ্যুৎ উৎপাদন অঞ্চলে তিন হাজার একর জমি রয়েছে। এসব অঞ্চলে যে পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আছে, সেগুলো সংস্কার করা হবে। এসব অঞ্চলে আরো বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সব মিলিয়ে এসব অঞ্চল থেকে আরো সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ অঞ্চল তিনটি হলোÍনরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের বিদ্যুৎ উৎপাদন অঞ্চল, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ীর বিদ্যুৎ উৎপাদন অঞ্চল  ও খুলনা জেলার গোয়ালপাড়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন অঞ্চল। এ তিনটি অঞ্চলে বর্তমানে দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ