সোমবার,১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং,৬ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৮:৩১
নাটোরে অস্ত্রসহ দুই যুবক আটক উৎসবমূখর পরিবেশে শৈলকুপা প্রেসকাবের নির্বাচন সম্পন্ন লিটন সভাপতি ও শিহাব সম্পাদক নির্বাচিত সহযোগিতা করলে সীমান্তে মাদক চোরাচালান, নারী-শিশুপাচার ও সীমান্ত হত্যাবন্ধ হবে॥ -লে: কর্ণেল এসএম রেজাউর রহমান(পিএসসি) জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় ‘সদিচ্ছা’ প্রদর্শনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হিলিতে সাংবাদিকদের সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুনের মতবিনিময় অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা যশোরে

১৪ দল হলো আমার আসল জোট

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘১৪ দল হলো আমার আসল জোট। এটা আমাদের আদর্শিক রাজনৈতিক জোট। এ জোট আছে, থাকবে।’ তিনি গতকাল শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এক চা-চক্রে অংশগ্রহণকালে এসব কথা বলেন। ১৪ দলের শরিক একাধিক দলের নেতারা কালের কণ্ঠকে এমনটা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৪ দলে ভাঙনের যে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের পর এর অবসান হবে।

সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। তিনি জোটের শরিকদের যার যার মতো নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন ফ্রি (উন্মুক্ত) থাকবে। আপনারা অংশ নেন, কোনো অসুবিধা হবে না।’ আলাপকালে শেখ হাসিনা ১৪ দলের নেতাদের কুশলাদি জিজ্ঞেস করেন।

চা-চক্র উপলক্ষে গণভবনের মূল ভবনের দক্ষিণ দিকের লনটি বেশ কয়েকটি টেবিল ও চেয়ার দিয়ে সাজানো হয়। অতিথিদের ফুচকা, চটপটি, নানা ধরনের পিঠা, নানরুটি, কাবাব দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী লনে আসেন। তিনি আগত অতিথিদের টেবিলগুলো ঘুরে কথা বলেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও ১৪ দলের শরিক দলগুলো, জাতীয় পার্টি,

বিকল্পধারা, ইসলামী ঐক্যজোট নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা প্রথমে জাতীয় পার্টির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর অন্য টেবিল ঘুরে ১৪ দলের শরিকদের টেবিলের কাছে হাজির হন। এ সময় জোটটির শরিক তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী হাসতে হাসতে বলেন, ‘নেত্রী কি শুধু জাতীয় পার্টির টেবিলেই বসবেন!’ উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘না, না। ১৪ দল হলো আমার আসল জোট। এটা আমাদের আদর্শিক রাজনৈতিক জোট।’ এরপর ওই টেবিলের পাশের চেয়ারে বসে পড়েন শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি দীর্ঘদিনের জোট শরিকদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। তিনি কয়েক মিনিট নানা বিষয়ে আলাপ করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, শিরীন আখতার, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মইন উদ্দিন খান বাদল, নাজমুল হক প্রধান, দিলীপ বড়ুয়া, ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।

১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলাপ শেষে সেখানেই দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু চা-চক্রই করিনি, এখানে আমরা রাজনৈতিক ও বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ও করেছি। আমাদের আতিথেয়তার ঘাটতি থাকলে সেটা আমরা হৃদয়ের উষ্ণতা দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করেছি।’

সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনারা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এসেছেন, খোলামেলা আলোচনা করেছেন—এর জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ আপনাদের ভালো লেগেছে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ফারুক খান, আব্দুল মতিন খসরু, আব্দুর রাজ্জাক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দীপু মনি, শ ম রেজাউল করিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, হাছান মাহমুদ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এনামুল হক শামীম, ইকবালুর রহিম, দেলোয়ার হোসেন, আবদুস সোবহান গোলাপ, বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, দলটির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদার ও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, আবু হোসেন বাবলা প্রমুখ। বিকল্পধারা বাংলাদেশের এ কিউ এম কদরুদ্দোজা চৌধুরী, এম এ মান্নান, মাহি বি চৌধুরী, সমশের মবিন চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের সভাপতি মিজবাহুর রহমান চৌধুরী, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা প্রমুখ।

গণভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য বা এ ধরনের কিছুই হয়নি। শুধু চা-চক্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সবার সঙ্গে কথা বলেছেন।’ তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বসেছিলেন, নির্বাচনের পর আবার বসলেন। চা খাওয়া ও কুশল বিনিময় মূল বিষয় ছিল।

শেখ হাসিনাকে জাতীয় পার্টির দাওয়াত : এদিকে চা-চক্র শেষে গণভবন থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘যাদের সঙ্গে পরিচয় ছিল, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালাই করে নেওয়া এবং যাদের সঙ্গে কম পরিচয় ছিল, তাদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া আজকের চা-চক্রের মূল বিষয় ছিল। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলাই চা-চক্রের উদ্দেশ্য ছিল।’

জি এম কাদের বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতারা খোলামেলা মনে আলোচনা করেছেন। আমি মনে করি, এটা ভবিষ্যতে রাজনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভালো। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি, যেখানে তাঁর নিরাপত্তার কোনো সমস্যা হবে না, এ রকম কোনো একটি জায়গায়। ওই দিনের দাওয়াতে আজকে যাঁরা ছিলেন সবাই থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী দাওয়াত কবুল করেছেন।’সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয়,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ