বৃহস্পতিবার,২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং,৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১০:৫৬
হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩ ২০১৯ সালের মধ্যে ১শ’ কারিগরি স্কুল-কলেজ হচ্ছে পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া পাথর খনির ২৫ শ্রমিক পুরস্কৃত আক্রোশের বলি কোমলমতি পরীার্থীরা হবিগঞ্জে মাইক্রোবাস মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষে ৪ জন আহত তুচ্ছ ঘটনায় দিনাজপুরে ২টি বাসে আগুন ॥ সমঝোতা বৈঠক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ ॥ অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট ॥ চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ ফুলবাড়ীতে আন্ত : সম্পর্ক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত

হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে শিশু পূজা ৬ দিনেও ধরা পড়েনি আসামী

saiful-copyপার্বতীপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধি
হতদরিদ্র ঘরের একমাত্র সন্তান পূজা রানী (৫)। খেলা ধুলা আর হৈহুল্লুড়ে বাড়ীকে মাতিয়ে রাখতো সারা বাড়ী। ওই ছোট্ট শিশুটির ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে প্রতিবেশি লম্পট সাইফুল ইসলামের। শিশুটিকে সে অপহরন করে ১৮ ঘন্টা আটকে রেখে চালায় পাশবিক নির্যাতন। সিগারেটের ছ্যাকা দেওয়া হয় শিশুটির শরীরে। শারীরিক নির্যাতন করা হয় মুখ মন্ডলসহ সারা শরীরে। মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ফেলে রাখা হয় বাড়ী সংলগ্ন হলুদ ক্ষেতে। গত বুধবার শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে ল্যাম্ব মিশনারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানন্তর করা হয়। এ ঘটনার নায়ক পার্বতীপুর থানায় জমিরহাট তকেয়া পড়া গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম (৪২) ও সিংগীমার বাদীয়া পাড়ার আফজাল কবিরাজ। তাদের বিরুদ্ধে পার্বতীপুর থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনার ৬দিন পার হলেও মূল আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি থানা পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে সাইফুলকে গ্রেফতারে যথাসাধ্য চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে পার্বতীপুর উপজেলার সাধারন মানুষের মধ্যে।
শনিবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের ৯ নং ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে অবুঝ শিশুটি। স্যালাইন চলছে তার শরীরে। মুখ মন্ডলে রয়েছে জখমের দাগ। শরীরের স্পর্শকাতর স্থান গুলোতে দেওয়া হয়েছে সিগারেটের ছ্যাকা। গোপনাঙ্গের ক্ষত সারাতে চলছে চিকিৎসা। সন্তানের পাশে বসে মা রূপালী রানী শুধুই কাঁদছে।
শিশুর পিতা জমির হাট তকেয়া পাড়া গ্রামের সুবাস চন্দ্র দাস ওরফে নিপাশু জানান, গত মঙ্গলবা বেলা ১১টার দিকে বাড়ীর পাশের দোকানে আঁচার কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয় তার মেয়ে পুজা (৫)। শিশুটির সন্ধানে এলাকায় মাইকিং ছাড়াও থানায় সাধারন ডায়েরী করা হয়। পর দিন বুধবার ভোর রাতে বাড়ী সংলগ্ন একটি হলুদ ক্ষেত হতে অচেতন অবস্থায় পূজাকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে পূজার জ্ঞান ফিরলে তার কথা মত এলাকার মৃত জহির উদ্দীনের পুত্র কাঠ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে সনাক্ত করা হয়। তিনি থানায় মামলা করেছেন। কিন্তু দারিদ্রতার কারনে চিকিৎসা চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে তার। ঘটনার ৬ দিনেও আসামীকে গ্রেফতার করতে না পারায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক গোলাম আজম বলেন, শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালনো হয়েছে। তার গোননাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। এ ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের দাগ রয়েছে। তার গোপনাঙ্গে ম্যাগোট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন তার ড্রেসিং করতে হচ্ছে। মাঝে মধ্যে চোখ খুলে তাকাচ্ছে শিশুটি। ঠিকমত কথাও বলছেনা। তার মধ্যে এখনও আতংঙ্ক কাজ করছে। শিশুটি সুস্থ হতে সময় লাগবে।
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি মাহমুদুল আলম বলেন, বর্বর এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। থানার সমস্ত পুলিশ অফিসারকে আসামীর অবস্থান সনাক্তে কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়াও অসুস্থ শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে সহযোগীতা করা হচ্ছে। পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, শিশুটির চিকিৎসার ব্যপারে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ