বুধবার,২২শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং,৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১১:১৫
‘দুধের মতো’ সাদা কুমির, রহস্য কী? লেবাননে ফিরেছেন পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হারিরি সুন্দরবনে ‘বন্দুকযুদ্ধে দস্যু গামা’ নিহত আমেরিকান দূতাবাস বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকবে ফুড পান্ডায় ব্র্যান্ড প্রোমোটোর ও এরিয়া ম্যানেজার প্রয়োজন বাগেরাহাটে ১হাজার পিচ ইয়াবা সহ আটক-২ সখিপুরে রহিম বকস ইন্টান্যাশনালে অগ্নিকান্ডে দোকান ভষ্মিভূত

সিদ্ধিরগঞ্জে সড়কের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদের পরপরই ফের দখল

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে  সড়ক- মহাসড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদের  এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবারও দখল করেছে অবৈধ দোকানীরা। ঈদকে সামনে রেখে পথচারী ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের মধ্যেই চলাফেরা করতে হচ্ছে। যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।পাশাপাশি ভোগান্তিসহ মলম পার্টি ও ছিতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ার আশংকা করছে পথচারী ও যাত্রীরা। গত ৭ জুন  নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের উদ্যোগে শিমরাইল মোড়ের দক্ষিন পাশের কয়েকশত অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয় মোটা অংকের টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে পরদিনই পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পথচারী ও যাত্রীরা। জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় একটি ব্যস্ততম বাসস্ট্যান্ড। এ মহাসড়ক দিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় ১৮ জেলার হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করায় দিন-রাত হাজার হাজার যাত্রী এ বাসস্ট্যান্ড দিয়ে যাতায়াত করছে। এর ফলে শিমরাইল মোড়ে মহা-সড়কের উভয় পাশে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় ফুটপাত দখল করে এবং মহাসড়কের দক্ষিন পাশে মার্কেটের সামনে সওজের জমিতে সহ¯্রাধিক অবৈধ দোকান পাট গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে হাজী আহসান উল্লাহ সুপার মার্কেট, বাদশা মিয়া মার্কেট, বদরউদ্দিন সুপার মার্কেট, চান সুপার মার্কেটের সামনে, সার্ভিস রোডে, ও মহাসড়ক ঁেষে এবং পথচারীদের চলাচলের ফুটপাত দখল করে দোকান উঠানোর কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপকভাবে। মার্কেট মালিকরা সওজের জায়গা অবৈধ দখল করে আন্ডারগ্রাউন্ডে স্থায়ী ইমারত করে প্রতিটি দোকান ৩০-৪০ লাখ টাকা করে পজিশন বিক্রি করেছে। গত তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে সেনাবাহিনী ওই স্থায়ী ইমারত গুলো বুল ডোজার দিয়ে গুঁিড়য়ে দিয়েছিল। পরবর্তীতে মার্কেট মালিকরা সওজের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে আবারও সেই স্থায়ী ইমারত গুলো নির্মাণ করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।  আলোচিত ৭ খুনের ঘটনার পর শিমরাইল মোড় হকার মুক্ত থাকলেও ২  পরই আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এদিকে সওজ কর্তৃপক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ে শিমরাইল মোড়ে একটি সার্ভিস লেন নির্মাণ করে। বর্তমানে ওই সার্ভিস লেনটিও (সড়ক) দখলে নিয়ে কয়েক’শ দোকান বসায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। দিন দিন এসব এলাকায় দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে পূর্বের তুলনায় দোকানপাট বেড়ে যাওয়ায় পথচারীদের ভোগান্তি বেড়েছে।গতকাল  রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত ছাতা বসিয়ে ফুটপাত ও সার্ভিস রোডটি দখল করে নিয়েছে দোকানীরা। দুর থেকে দেখলে মনে হবে এটা কোন সী-বিচ কিংবা সমুদ্রের পার। এখানে শুধু ছাতা নয়, ছোট ছোট টং, ভেনগাড়ী ও পলিথিনে মোড়ানো ঘরে পসরা সাজিয়ে দখলে নিয়েছে দোকানীরা। এতে বাধ্য হয়েই যান চলাচলের রাস্তা দিয়ে হাটতে হচ্ছে পথচারী ও যাত্রীদের।যার কারণে ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা।একটি সুত্র জানায়, শিমরাইল মোড়ের ফুটপাতের প্রতিটি দোকান বসানো বাবদ ১ থেকে ৩ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। এ ছাড়া দৈনিক ভিত্তিতে প্রতিটি দোকান থেকে ২শ থেকে ৩শ টাকা করে  চাঁদা আদায় করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। শিমরাইল মোড়ের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রটি এসব দোকান-পাট নিয়ন্ত্রণ করছে। মার্কেটের মালিক,  স্থানীয় কাউন্সিলর ,হকার্সলীগের কতিপয় নেতার সমন্বয়ে গঠিত এ সিন্ডিকেট চক্রটিই প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে শিমরাইল মোড়ের এসব দোকান থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এসব নিয়ে মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হলেই কর্তৃপক্ষ দায়সারা ভাবে উচ্ছেদ করে। আর উচ্ছেদের পরপরই পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তবে উচ্ছেদ হলে হকারদের কপাল পুড়লেও ভাগ্য খুলে যায় সিন্ডিকেট চক্রের। পুনরায় দোকান বসানোর নামে অগ্রিম ও দৈনিক ভিত্তিতে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে হকারদের বসার ব্যবস্থা করে দেয় সিন্ডিকেট চক্রটি। এতে হকাররা যতবার ক্ষতিগ্রস্থ হয় ততবারই লাভবান হচ্ছে সিন্ডিকেট চক্রটি।  গত এক বছরে শিমরাইল মোড়ের অবৈধ স্থাপনা কমপক্ষে ৬-৭ বার উচ্ছেদ  করা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উচ্ছেদের পরপরই আবারও আগের অবস্থায় ফিরে আসে। আর এসবের সুবিধা নিচ্ছে সিন্ডিকেট চক্রটি। নারায়ণগঞ্জ সওজের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে এসব করছে সিন্ডিকেট চক্র। এদিকে মহাসড়কের উত্তর পাশের ৫ শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও বাস কাউন্টার থেকে সওজের অসাধু কর্মকর্তারা মোটা অংকের টাকা পাওয়ার কারণে ওই সব স্থাপনা উচ্ছেদ না করে বহাল রেখে সমালোচিত হয়েছেন ওই কর্মকর্তা।নারায়ণগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহা. আলীউল হোসেন বলেন, সড়ক ও ফুটপাত দখলদারদের বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আবারও উচ্ছেদ করা হবে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সাত্তার বলেন, শিমরাইল মোড়ের অবৈধ দোকানপাট ও হকার মুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

চট্রগ্রাম,ঢাকা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ