শুক্রবার,২৪শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং,১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৪:১৪
হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩ ২০১৯ সালের মধ্যে ১শ’ কারিগরি স্কুল-কলেজ হচ্ছে পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া পাথর খনির ২৫ শ্রমিক পুরস্কৃত আক্রোশের বলি কোমলমতি পরীার্থীরা হবিগঞ্জে মাইক্রোবাস মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষে ৪ জন আহত তুচ্ছ ঘটনায় দিনাজপুরে ২টি বাসে আগুন ॥ সমঝোতা বৈঠক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ ॥ অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট ॥ চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ ফুলবাড়ীতে আন্ত : সম্পর্ক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত

সাগরকন্যা ইনানীতে হারিয়ে যাচ্ছে লাল কাঁকড়া

file (2)মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেক্স: এখন বিলুপ্ত প্রায় লাল কাঁকড়া। পর্যটন স্পট সাগর কন্যা ইনানী সৈকতে সৌন্দর্য্যরে অন্যতম আধার লাল কাঁকড়া। একসময় মনে হতো তাদের সৈকত রাজ্যে বেড়াতে আসা অতিথিদের যেন লাল গালিচায় সংবর্ধনায়, সম্মান ও আনন্দ দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে সৌন্দর্য্যরে প্রতীক লাল কাঁকড়ার দল। এক যুগ আগেও দেশ-বিদেশ থেকে বেড়াতে আসা পর্যটকরা সমুদ্র সৈকতে নেমেই দেখতে পেতো হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার ঝাঁক। এখন যা আর দেখা যায় না। তাই বেড়াতে আসা পর্যটকদের মাঝে দেখা দেয় লাল কাঁকড়া না দেখার হতাশা।
কিছু অর্থলোভী ব্যবসায়ীরা অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সৈকতকে বাণিজ্যিকী করণের মাধ্যমে বিচ বাইকের বেপরোয়া গতিতে চলাচলের পাশাপাশি শব্দ দূষণ ও পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ডে হারিয়ে যাচ্ছে পরম বন্ধু লাল কাঁকড়া। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে বিভিন্ন প্রজাতির কাছিম। এতে সৈকতের সৌন্দর্য্যরে পাশাপাশি ক্ষতি হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশের। সৈকত তীরের সৌন্দর্য রক্ষার্থে থাকা এসব জীব বৈচিত্র বিলুপ্ত হওয়ায় ইনানী সৈকত বিমুখ হয়ে যাচ্ছে দেশ-বিদেশের অনেক পর্যটক। আর এ ব্যাপারে পরিবেশ সংগঠনসহ সরকারের যেন কোনো মাথা ব্যথাই নেই বলে সচেতন মহল ও বেড়াতে আসা পর্যটকদের অভিযোগ।সাগরকন্যা ইনানীতে হারিয়ে যাচ্ছে লাল কাঁকড়া
সিলেট থেকে বেড়াতে আসা জোবাইরুল ইসলাম নামের এক পর্যটক জানান, তিনি খুব হতাশা নিয়ে ফিরছেন ইনানী থেকে। কারণ তিনি লাল কাঁকড়া দেখার আশা নিয়ে ইনানী সৈকত পর্যন্ত গিয়েছেন। কিন্তু কোথাও তেমন একটা লাল কাঁকড়ার দেখা মেলেনি। তার মতে, হিমছড়ির সামনে সমুদ্রে তীরে কিছু লাল কাঁকড়ার দেখা মিললেও তা সামান্য। এতে যেমন হতাশ হলেন জোবাইরুল, তেমনি একইভাবে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেক দেশি-বিদেশি পর্যটকও।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ১২২ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি,সেনাবাহিনী ক্যাম্প,ইনানী পয়েন্ট,মোঃ শফিরবিল,মাদারবনিয়া,মনখালী,শাপলাপুর,জাহাজপুরাসহ বেশ কিছু এলাকায় এখনও পর্যন্ত কিছু লাল কাঁকড়ার বিচরণ রয়েছে। তবে তা সংখ্যায় অতি নগণ্য।
স্থানীয়রা জানান, সমুদ্র সৈকতে লাল কাঁকড়া রক্ষা করতে বিচ বাইক ও ঘোড়াসহ সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল বন্ধে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি এসব প্রাণী যেমন লাল কাঁকড়া, কাছিমদের বিচরণের জন্য চারণভূমি চিহ্নিত করে তাদেরকে চলাচলের সুযোগ দিতে হবে। যেখানে তারা নির্বিঘেœ ঘোরাফেরার পাশাপাশি বংশবৃদ্ধি করার সুযোগ পাবে। এ ব্যাপারে দ্রুত সরকার ও পরিবেশবাদীদের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী জানান তারা। তা না হলে অব্যবস্থাপনার কারণে খুব শীঘ্রই হারিয়ে যাবে সমুদ্র সৈকতের এক সময়ের নজরকাড়া লাল কাঁকড়া ও অন্যান্য সৌন্দর্য্যবর্ধক পরিবেশের উপকারী প্রাণীসমূহ। তাদের রক্ষা ও অতীতের ন্যায় সর্বত্র বিচরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ পরিবেশ প্রেমীদের পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে জনসাধারণ ও যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল বন্ধ ও প্রাণীদের চারণভূমি সংরক্ষণের নিমিত্তে সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালুর দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাহলেই হয়তো বা রক্ষা পেতে পারে লাল কাঁকড়াসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রজাতির প্রাণী।

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ