সোমবার,১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং,২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৫:০৮
রংপুর বিভাগের শেষ্ঠ এ এস আই সন্মাননা পেলেন গোবিন্দগঞ্জ থানার এ,এস আই শওকত গাইবান্ধার ৩ টি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেনি মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টি ৩ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে রংপুর চিনিকলের আখ মাড়াই কার্যক্রম গোবিন্দগঞ্জে উম্মুক্ত মহাজোটে উদ্বেগ দুই দলে গোবিন্দগঞ্জে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার লালমনিরহাটে ১৬ সংসদ প্রার্থী এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন পিরোজপুরে গলায় ফাঁস দেয়া অনার্স পড়ুয়া ছাত্রের রহশ্যজনক মৃত্যু : লাশ উদ্ধার

সরকারের আচরণ দেখেই নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত

6 months ago , বিভাগ : রাজনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি নয় বরং সরকার ও জনগণের আচরণ দেখে দলের আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন লন্ডন সফররত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় বিবিসি বাংলায় প্রচারিত সাক্ষাৎকারে তিনি আরো দাবি করেন, বিএনপির ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রচারণা সম্পূর্ণ অমূলক। ভারতের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ বিএনপি করেছে বলে তাঁর জানা নেই। বিবিসি বলেছে, বিএনপি তাদের সম্পর্কে ভারতের নেতিবাচক ধারণা দূর করার চেষ্টা করছে। ভারতের প্রভাবশালী কিছু নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার সময় বিএনপি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে। সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।

বিবিসি বাংলা : নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ঠিক কী ধরনের সহযোগিতা ভারতের কাছে প্রত্যাশা করছে?

মির্জা ফখরুল : আমরা যা চাই ভারতের কাছে তা হলো বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। ২০১৪ সালে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। এ দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার আমরা চাচ্ছি, তারা যেন ভোট দিতে পারে। সে জন্য প্রভাবশালী দেশ যারা আছে, বিশেষ করে ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ। তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধে তারা আমাদের সহযোগিতা করেছে এবং তাদের যথেষ্ট যোগাযোগ আছে বাংলাদেশের সঙ্গে, মানুষের সঙ্গে। সেখানে অবশ্যই ভারত একটি ভূমিকা রাখতে পারে।

বিবিসি : কিভাবে ভারত সাহায্য করতে পারে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে?

ফখরুল : কোনো দেশ যখন বড় হয়, যখন তাদের ইনফ্লুয়েন্স (প্রভাব) থাকে একটি দেশের প্রতি, বিভিন্ন ট্রেড (বাণিজ্য), রিজিওনাল (আঞ্চলিক) ব্যাপারগুলোতে, রাজনীতির ব্যাপারে, সে ক্ষেত্রে ডেফিনিটলি (অবশ্যই) তারা বলতে পারে গভর্নমেন্টকে (সরকারকে) যে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ব্যবস্থা করো।

বিবিসি : ভারত কেন তা করবে? কারণ আপনি জানেন যে ৯ বছর ধরে এই সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খুবই ভালো। বিশেষ করে, নিরাপত্তা ইস্যুতে তাদের যেসব উদ্বেগ ছিল আওয়ামী লীগ সেগুলো দূর করেছে। ভারতের বড় অংশের ভেতর একটি উদ্বেগও আছে যে বিএনপি গতবার যখন ক্ষমতায় ছিল তারা ভারতের স্বার্থবিরোধী অনেক কাজ করেছে।

ফখরুল : এই সন্দেহটি সম্পূর্ণ অমূলক। কারণ বাংলাদেশে বিএনপি সরকার কখনো ভারতের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করেছে বলে আমার জানা নেই। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে তাদের একটি গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, এমন একটি সরকার তাদের জন্যই খুব প্রয়োজন।

বিবিসি : শুধু প্রচার নয়, বিভিন্ন সময়ে যেসব বৈঠক হয় দুই দেশের মধ্যে সেখানে তারা পুরোপুরি কতগুলো বিষয় বলার চেষ্টা করে যে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন ভারতের উত্তর-পূর্বের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এখানে আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়েছে। আপনারা জানেন, দশ ট্রাক অস্ত্র ইস্যু একটি সেনসেটিভ (স্পর্শকাতর) ইস্যু ভারতের কাছে। সেসব বিষয় হয়েছে তখন।

ফখরুল : এ বিষয়গুলো, যেসব ঘটনা উঠে এসেছে সেগুলোর কতটুকু সত্যি, কতটুকু সত্যি নয় এবং কতগুলো তৈরি করা—এটি কিন্তু এখনো পরিপূর্ণভাবে আমরা জানি না।

বিবিসি : কিন্তু যে সন্দেহ-উদ্বেগ তাদের ভেতরে আছে সেটা কতটুকু পারসেপশন কতটুকু ফ্যাক্ট, সেটি বাদ দিয়েই যদি আমরা বলি, সেটি দূর করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো স্ট্র্যাটেজি বা কৌশল কি আপনাদের আছে?

ফখরুল : অবশ্যই আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছি যে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক হবে, যে পররাষ্ট্রনীতি হবে সে সম্পর্কে আমরা এটি পেপারও দিয়ে দিয়েছি। সেখানে আমরা খুব স্পষ্ট করে বলেছি, ‘উই উইল হ্যাভ জিরো টলারেন্স অ্যাবাউট অ্যানি ইনসারজেন্সি ইনসাইড বাংলাদেশ’। তাদের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আমরা স্পষ্ট বলেছি, তাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। স্পেস থাকবে না। এটি আমরা যদি সরকারে যাই, আমরা সবাইকে নিশ্চিত করব।

বিবিসি : আপনাদের নেত্রী খালেদা জিয়া অসুস্থ, কারাগারে এবং অসুস্থতার কথা আপনারা ক্রমাগত বলছেন। সরকার সে কথা খুব গা করছে, আমাদের মনে হচ্ছে না সেটা। তিনি যে ছাড়া পাবেন আমরা অন্তত সে ইঙ্গিত পাচ্ছি না। আপনারাও হয়তো পাচ্ছেন না। এখন তাঁকে ছাড়া নির্বাচনের পরিস্থিতি যদি তৈরি হয় সেখানে আপনাদের অবস্থান কী?

ফখরুল : বেগম জিয়াকে সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ মনে করে বর্তমান সরকার এবং প্রতিপক্ষ মনে করে বলেই তাঁকে নির্বাচন থেকে, রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার বড় প্রচেষ্টা সব সময় আছে। ওয়ান-ইলেভেনেও একই ঘটনা ঘটেছিল। তাঁকে একটি মিথ্যা মামলায়, তৈরি করা সাজানো মামলায় যেভাবে সাজা দেওয়া হয়েছে। এই সাজাটাও যদি ধরে নেওয়া যায় তাহলে পাঁচ বছরের যেকোনো সাজা আপিল করার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর জামিন হয়ে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা এখানে হয়নি। আজকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রাইসিসটা ওই জায়গায়। এই সরকার সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফেলছে; এমনকি জুডিশিয়ারিতেও তারা হাত দিচ্ছে। এ কথাই আমি বলতে চাই আপনার উত্তরে। তাঁকে বের হতে না দিলে আরো সমস্যা তৈরি হবে।

বিবিসি : কিন্তু মানুষের মনে এটিই প্রশ্ন—তিনি যদি বের না হতে পারেন এবং তিনি যদি নির্বাচন করতে না পারেন, তাঁর নেতৃত্বে যদি নির্বাচন করতে না পারে বিএনপি, বিএনপি কি নির্বাচনে যাবে?

ফখরুল : বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেত্রী, অবিসংবাদিত নেত্রী। তিনি জেলেই থাকুন আর বাইরেই থাকুন, তিনিই নেত্রী। তিনি বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রের, গণতন্ত্রকামী মানুষের নেত্রী এবং তিনি যেখানেই থাকুন না কেন এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন। নির্বাচনে যাব কি যাব না সেটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে সরকারের আচরণের ওপর। নির্ভর করবে দেশের মানুষের আচরণের ওপর। তাই এখনই, এই মুহূর্তে বলা যাবে না।

সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ