বুধবার,১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং,৫ই পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১০:৫৯
পাকিস্তানের চেয়ে এখন সব কিছুতেই এগিয়ে বাংলাদেশ নিয়োগ দেবে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে জাপান জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ফোরাম নিয়োগ দেবে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কঠোর নিন্দা উত্তর কোরিয়ার আইপিএল-এ দল পেলেন না মুশফিক

সরকারি কেনাকাটায় নজরদারি বাড়াতে নতুন ‘কর্তৃপক্ষ’ হচ্ছে

2 months ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের কেনাকাটায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন একটি কর্তৃপক্ষ করতে যাচ্ছে সরকার। এর নাম দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষ (বিপিপিএ)। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অধীন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) নাম বদলে নতুন করে ‘বাংলাদেশ সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষ (বিপিপিএ)’ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান থাকবেন একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান। যিনি হবেন অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার। একই সঙ্গে ক্রয়সম্পর্কিত অভিজ্ঞ। সিপিটিইউকে বিপিপিএ রূপ দিতে একটি আইনের খসড়া তৈরি করে সেটির ওপর বিভিন্ন অংশীজনের মতামত চাওয়া হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে সবার মতামত নিয়ে খসড়া আইনটি পাঠানো হবে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পাওয়ার পর আইনটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওঠানো হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান সরকার প্রথম মেয়াদে ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ছিল মাত্র ২৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ বছর সেটি বেড়ে উন্নীত হয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকায়। ২০০৯ সালে এডিপিতে প্রকল্পের সংখ্যা ছিল ৭০০ এর ঘরে। সেটি বেড়ে এখন দিগুণ হয়েছে। এতে করে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সরকারি কেনাকাটাও বেড়েছে। এডিপিতে প্রকল্পের সংখ্যা ও টাকার অঙ্ক বাড়লেও সে অনুযায়ী বাড়েনি নজরদারি। সরকারি কেনাকাটাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও বিস্তর।

জানতে চাইলে সিপিটিইউয়ের পরিচালক (বিধি ও নীতি) জেশান ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের এডিপির আকার ও প্রকল্পসংখ্যা বাড়লেও কেনাকাটায় নজরদারি বাড়াতে সে অনুযায়ী জনবল বাড়েনি। সিপিটিইউ কর্তৃপক্ষ হয়ে গেলে সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সারা দেশে নজরদারিও বাড়বে।’

আইএমইডির তথ্য বলছে, সিপিটিইউ এখন আইএমইডির একটি শাখা হিসেবে কাজ করছে। সিপিটিইউর জনবলও অনেক কম। কর্তৃপক্ষ হয়ে গেলে এটি বিআরটিএ, বিআইডাব্লিউটিএ, বেজার মতো স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে পারবে। একই সঙ্গে বাড়তি জনবলও নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকবেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, বিপিপিএ বাংলাদেশে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করবে। ২০০৬ সালের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনের ৬৭ প্রয়োগ এবং বিধিমালাতে দেওয়া সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে। বিপিপিএ চাইলে সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে পারবে। একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর মূল্যহার প্রস্তুত ও জারি করতে পারবে।

খসড়া আইনে আরো বলা হয়েছে, বিপিপিএর নিজস্ব একটি তহবিল থাকবে। সরকারের অনুদান, বিদেশি সংস্থা ও দেশ, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা থেকে পাওয়া অনুদান, সার্ভিস চার্জসহ বিভিন্ন ফি থেকে পাওয়া টাকা এই তহবিলে যোগ হবে। এই তহবিল থেকে বিপিপিএর জনবলের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে। বিপিপিএ কার্যকর হওয়ার পর থেকে সিপিটিইউ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এবং সিপিটিইউতে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী বিপিপিএ কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে কেউ যদি বিপিপিএতে চাকরি করতে অনিচ্ছুক হন, তাহলে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাহী চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়ে তিনি অবহিত করতে পারবেন।

সিপিটিইউর একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, সিপিটিইউতে এখন একটি রিভিউ প্যানেল আছে। যাদের দায়িত্ব ঠিকাদারদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ নিষ্পত্তি করা। কিন্তু রিভিউ প্যানেলের সিদ্ধান্ত অনেক সময় কার্যকর কিংবা বাস্তবায়ন হয় না। কর্তৃপক্ষ হয়ে গেলে রিভিউ প্যানেলের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য থাকবে যে কেউ।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর এডিপির আওতায় ৬০০ কোটি ডলারের কেনাকাটা হয়। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু নানা ত্রুটির কারণে এই কেনাকাটায় টাকার অপচয় হয়। কর্তৃপক্ষ হলে এসব অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ