মঙ্গলবার,২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং,৮ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১:০৯
ইবিতে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের কমিটি ওষুধ না খেয়েও দূর করা যায় ফ্যাটি লিভারের সমস্যা রাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দেয়ায় শিক্ষার্থীর কারাদণ্ড আদা-লেবু-মধুর মিশ্রণ কমাবে স্ট্রেস শ্রীমঙ্গলে জবাই করা মায়া হরিণ জব্দ ‘প্রেমের আগেই রণবীরকে বিয়ে করার ইচ্ছা ছিল’ উদ্বোধন হলো বিশ্বের দীর্ঘতম সেতু

সমুদ্রের তলদেশে ড্রোন সাবমেরিন!

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  নানা রকম প্রতিকূলতার কারণে সমুদ্রের নিচের জগতের নাগাল পাওয়া এখনো সহজ নয়। ইউরোপের বিজ্ঞানীরা এবার এমন সাবমেরিন ড্রোন তৈরি করেছেন, যেগুলো শব্দসংকেতের মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে সংলাপ চালাতে পারে। এসব রোবট নির্দিষ্ট কিছু সেন্সর নিয়ে সমুদ্রের তলদেশ ঘুরে হারিয়ে যাওয়া কোনো বস্তু বা রাসায়নিক পদার্থের লিক শনাক্ত করতে পারে।

রোম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিয়ারা পেট্রিওলি জানান, এই রোবটরা পানির নিচে পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা করতে সক্ষম। একে ‘ইন্টারনেট অব আন্ডারওয়াটার থিংস’ বলা চলে। এ এক অভিনব আইডিয়া, যার আওতায় সেন্সর ও রোবটের মতো বিভিন্ন ডিভাইস তথ্যের আদান-প্রদান করতে পারে। এর ফলে মহাসাগর, হ্রদ ও নদীগুলোর ওপর নজর রাখার নতুন পথ খুলে যাচ্ছে।

পোর্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের রিকার্ডো মার্টিন্স বলেন, রোবটগুলোর সংলাপও অনেকটা মানুষের মতো। পানির নিচে যন্ত্ররা বিশাল পরিসরে ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে। মানুষের কণ্ঠ ছাড়াও কানে শোনা যায় না, স্পেকট্রামের এমন ফ্রিকোয়েন্সিও কাজে লাগায় তারা।

সাবমেরিনগুলো সব তথ্য মাটির ওপর এক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে পাঠায়। তাদের নির্দিষ্ট অবস্থান এবং তাপমাত্রা ও সমুদ্রের পানির রাসায়নিক মিশ্রণের মতো পরিবেশগত তথ্য পর্দায় ফুটে ওঠে।

রোম বিশ্ববিদ্যালয়ের রোব্যার্তো পেত্রোকিয়া বলেন, ‘একই সময়ে একাধিক যান একটি এলাকা চষে বেড়ায় এবং সেন্টার থেকে আমরা সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করি। তাদের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার নির্দেশ দিই। প্রায় সব সময় তাদের ওপর নজর রাখি। পানির নিচে থাকলে এক অ্যাকুস্টিক চ্যানেল, ওপরে এলে রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে আমরা যোগাযোগ রাখি।’

বিশেষ পানিনিরোধক আবরণের কল্যাণে সাবমেরিন সমুদ্রের কয়েক শ মিটার গভীরে নামতে পারে। অভিযান অনুযায়ী, তাদের বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ, রেকর্ড ও প্রেরণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সাবমেরিনের মধ্যে এক সোনার ডিভাইসও আছে, যার শব্দতরঙ্গের সাহায্যে ডুবে যাওয়া বস্তু শনাক্ত করা যায়। পোর্টো শহরের বন্দর এলাকায় হারানো একটি কনটেইনার শনাক্ত করেছে এই ব্যবস্থা।

বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি লিনো আন্টুনেস বলেন, ‘তিন রকমের প্রয়োগের জন্য এমন ডিভাইস উপযুক্ত। প্রথমত নিরাপত্তা, দ্বিতীয়ত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, যা আমাদের জন্য জরুরি এবং তৃতীয়ত বন্দরের জাহাজগুলোর নিরীক্ষণ।’

সমুদ্র থেকে নদী—যেখানেই ডুবুরির জন্য ঝুঁকি ও ব্যয়ের মাত্রা বেশি, সেখানেই এই মিনি সাবমেরিন কাজে লাগানো যেতে পারে। এ ছাড়া পানির নিচে আগ্নেয়গিরি ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান আবিষ্কারের মতো দুরূহ কাজও সম্ভব।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ