বৃহস্পতিবার,২২শে জুন, ২০১৭ ইং,৮ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৮:১৮

এবারে 2017-2018 অর্থ বছরের বাজেটে বরাদ্দ নেই বেসরকারী স্কুল কলেজ মাদরাসা এমপিও ভুক্ত বন্ধ অবসর নিলেন লুক রঞ্চি মূত্র থেকে বিদ্যুৎ, চার্জ দেয়া যাবে স্মার্ট ফোন! ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সাজিয়ে রাখার জন্য তৈরি হয়নি’ ৪০ বছর পুরনো কমপিউটারের দাম তিন কোটি! ৯৫৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চাল সিন্ডিকেট ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা কমিটির বেঠক ২৫ জুন

সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে এক বেলা

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: বছর দুয়েক হলো রাজধানীর কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ারে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক চালু হয়েছে। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এতে তাদের কাজের জায়গা বরাদ্দ পেয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত কাজ শুরু করেনি।
গতকাল ১৮ জুন এই সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ঘুরে দেখা যায়, এতে সুবিধা যেমন রয়েছে, তেমনি অসুবিধাও রয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় গিয়ে দেখা গেল সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের সামনে বেশ কিছু ট্রাক থেকে সবজি নামানোর কাজ চলছে। রয়েছে রিকশা, ভ্যানগাড়ির জটলা। দুর্গন্ধও রয়েছে। সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এসবের মধ্য দিয়েই অফিসে প্রবেশ করছেন।
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এমন জায়গা রয়েছেজনতা টাওয়ারে প্রবেশের পর কথা হয় ইজ টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমানের সঙ্গে। ভবনটির সাত তলায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের অফিস। এতে কাজ করছেন ৩৮ জন কর্মী। প্রতিষ্ঠানটি ই-কমার্স, অ্যাপ ও ওয়েবসাইট বানায়। প্রতি বর্গফুটের জন্য তাঁদের ভাড়া দিতে হয় ৩৫ টাকা করে। তিনি জানালেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান বেশ ভালোই চলছে। তবে সমস্যার সম্মুখীনও হচ্ছে। বলছিলেন, ‘অফিসে প্রবেশ করতে এবং বের হতে বেশ সমস্যা হয়। অফিসের পাশে বাজার হওয়ায় নিয়মিত পণ্য পরিবহনকারী গাড়ির ভিড় লেগেই থাকে।’ তবে ভিন্ন একটি সমস্যার কথা জানালেন একই তলায় অবস্থিত স্কয়ার ইনফরমেটিকসের কর্মী ইশতিয়াক হোসেন। তিনি বলছিলেন, ‘মাঝেমধ্যে বিদ্যুতের সমস্যা হয়, এতে আমাদের কাজের সমস্যা হয়। প্রতিষ্ঠানটি ক্লাউড ডাটা সেন্টারের কাজ করছে।’
রাইট ব্রেন সলিউশন এবং লেইজার লাইন লজিসটিক কনসার—এই দুই প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ হয়েছে অষ্টম তলা। কিন্তু অষ্টম তলায় গেলে দেখা যায় প্রতিষ্ঠান দুটি এখনো কোনো ধরনের কাজই শুরু করেনি। জায়গাটি ফাঁকা পড়ে আছে। নয়তলায় অবস্থিত ফিফো টেক কল বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) ব্যবসা করে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘কল সেন্টার চালাতে গেলে ভালো গতির ইন্টারনেট দরকার, কিন্তু যা পাই তা পর্যাপ্ত না। একটু বৃষ্টি হলেই অফিসের সামনের রাস্তায় হাঁটুপানি হয়ে যায়। আমরা অনেকবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি।’
মেডিসিস বাংলাদেশের কর্মী তামান্না জামান বলেন, ‘লিফটের সমস্যা রয়েছে। সব সময় চালু থাকে না। আমাদের জায়গা বুঝিয়ে দিলেও অনেক কাজ এখনো কর্তৃপক্ষ করে দেয়নি। টয়লেট ঠিক করে দিচ্ছে না। এ ছাড়া সমস্যাগুলো কোথায় জানাব তার জন্যও নির্দিষ্ট বিভাগ কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে পাই না। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের একজন আছেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে কাউকে পাওয়া যায় না। নিরাপত্তাও তেমন নেই।’ অন্যদিকে কম্পিউটার সোর্স ইনফোটেকের এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক হিসেবে এই ভবনটি এখনো পুরোপুরিভাবে তৈরি হয়নি। এখানে নেই কোনো ক্যানটিনও।’
বৃষ্টি হলেই পার্কিং লটে এমন পানি জমে থাকে১০ তলায় ভারগো কনট্রাক্ট সেন্টারের নামে বরাদ্দ থাকলেও এটা ফাঁকা পড়ে আছে। আর ১১ তলায় কাজ করছে রিভ সিস্টেম। ছয়তলায় রয়েছে মিলেনিয়াম ইনফরমেশন সলিউশনের অফিস। প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এখানে কোনো ধরনের সমস্যা হয় কি না? জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে সমস্যার শেষ নেই। আমাদের অনেক বিদেশি গ্রাহক পার্শ্ববর্তী বাজারের পরিবেশ দেখে ফিরে গেছে। নিরাপত্তা নেই, রয়েছে পার্কিং সমস্যা।’
চারতলা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বিনা মূল্যে, উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য। সেখানে উচ্চগতির ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা, সম্মেলন কক্ষ ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। বিনিয়োগ সমস্যার সমাধান, মানোন্নয়নসহ নতুন উদ্যোগটি যাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেতে পারে, তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১০টি উদ্যোগকে এই জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাজের জায়গা হিসেবে ছোট ছোট রুম দেওয়া হয়েছে। মোট ৪০ জন কাজ করেন এখানে। উদ্যোগের জন্য জায়গা বরাদ্দ পাওয়া একটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ইন্টারঅ্যাক্টিভ আর্টিফ্যাক্ট। এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, ‘এই জায়গাটা না পেলে হয়তো উদ্যোগটি কখনো সফল হতো না। আমরা এখানে অনেক সুবিধা পাচ্ছি।
জনতা টাওয়ারের পাশেই সবজি নামানো–ওঠানোর কাজ চলে সারাদিনতবে রাতে বাসায় ফেরার জন্য যখন বের হই, তখন সামনের পরিবেশ খুব খারাপ থাকে।’ সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের শাখা অফিস। এতে পাঁচজন কর্মকর্তা কাজ করেন। কিন্তু গতকাল এখানে গিয়ে তেমন কাউকে দেখা যায়নি। পাম্প অপারেটর মো. মনির হোসেন তখন বলেন, ‘আমাকে বলতে পারেন। এখানে িযনি আছেন, তিনি প্রশিক্ষণে গেছেন।’ এরপর ফোনে কথা হয় সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়েত হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যে সমস্যাগুলো রয়েছে, আশা করি সেসব খুব শিগগিরই সমাধান হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য।’ ভবনে সিসি ক্যামেরা এবং নিরাপত্তা কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুরো ভবনে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ শুরু হবে খুব তাড়াতাড়ি। তা ছাড়া পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা আমরা করব।’

যেসব প্রতিষ্ঠান আছে পার্কে—
দ্বিতীয় তলায় রয়েছে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সাব-অফিস। তৃতীয় তলায় ডিজিকন টেকনোলজিস লিমিটেড। চারতলায় রয়েছে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান। ষষ্ঠ তলায় রয়েছে মিলেনিয়াম ইনফরমেশন সলিউশন লিমিটেড। সপ্তম তলায় রয়েছে স্কয়ার ইনফরমেটিকস ও ইজ টেকনোলজিস লিমিটেড। অষ্টম তলায় রাইট ব্রেন সলিউশন লিমিটেড ও লেইজার লাইন লজিসটিক কনসার্ন লিমিটেড। নবম তলায় ন্যানো টেক সলিউশন। দশম তলায় মেডিসিস বাংলাদেশ ও ভারগো কন্ট্রাক্ট সেন্টার সার্ভিসেস লিমিটেড। ১১ তলায় রিভ সিস্টেমস লিমিটেড ও ই-সফট অ্যারিনা এবং ১২ তলায় রয়েছে কম্পিউটার সোর্স ইনফোটেক লিমেটেড।

সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের সমস্যাগুলো
* সাকালে অফিসে ঢোকার সময় এবং রাতে বের হওয়ার সময় এই ভবনটির সামনে ট্রাক এবং ভ্যানে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা যায় না।
* প্রচুর পরিমাণ দুর্গন্ধ আশপাশ দিয়ে। বিদেশ থেকে কোনো অতিথি এলে তাঁদের কাছে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়।
* ভবনটিতে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। নিরাপত্তাও কম। গাড়ি পার্কিংয়ে সমস্যা।
* লিফট এবং পানি সমস্যা করে।
* বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। চলাফেরার খুব সমস্যা হয়।
* ভবনটির সিঁড়ি এবং আশপাশ দিয়ে ময়লা আবর্জনায় ভরে আছে।
* কোনো ক্যানটিন ও নামাজের স্থান নেই।

জনতা টাওয়ারের শুরুর কথা
২০১০ সালের ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের প্রথম সভায় জনতা টাওয়ারকে দেশের প্রথম সফটওয়্যার পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১২ তলা জনতা টাওয়ারের প্রতিটি তলায় ৬ হাজার বর্গফুট জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যবহারযোগ্য হিসেবে বরাদ্দের জন্য জায়গা রয়েছে প্রায় ৬ হাজার বর্গফুট। ১৮ অক্টোবর ২০১৫ এই পার্কের উদ্বোধন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ