বৃহস্পতিবার,২২শে জুন, ২০১৭ ইং,৮ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৮:২২

এবারে 2017-2018 অর্থ বছরের বাজেটে বরাদ্দ নেই বেসরকারী স্কুল কলেজ মাদরাসা এমপিও ভুক্ত বন্ধ অবসর নিলেন লুক রঞ্চি মূত্র থেকে বিদ্যুৎ, চার্জ দেয়া যাবে স্মার্ট ফোন! ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সাজিয়ে রাখার জন্য তৈরি হয়নি’ ৪০ বছর পুরনো কমপিউটারের দাম তিন কোটি! ৯৫৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চাল সিন্ডিকেট ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা কমিটির বেঠক ২৫ জুন

সদরপুরে বজ্রপাতে নিহত এক পরিবারের করুন কাহিনী

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: ফরিদপুরের সদরপুরে এক কৃষক পরিবারের বাবা মা বোন ও সীমান্তবর্তী চরভদ্রাসন উপজেলার আরেক পরিবারের ১জনসহ একইস্থানে নিহত হয়েছন চার জন। নিহতরা পরিবারের সদস্য হলেন, স্বামী শেখ আরজান(৪৫),স্ত্রী আনোয়ারা বেগম(৩৫) ও তাদের মেয়ে বীথি আক্তার(১৪)।  নিহতদের বাড়ি সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের কোকারাম সরকার কান্দি গ্রামে। প্রতিবেশী আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি সীমান্তবর্তী চরভদ্রাসন উপজেলার মাথা ভাঙ্গা গ্রামে। তিনি ওই প্রতিবেশী গ্রামের জমির মোল্যার পুত্র বিল্লাল মোল্যা(২৫)।

গত রোববার বিকেলে বাড়ির পাশের ফসলী মাঠে এক পরিবারের ৩জন ও প্রতিবেশী গ্রামের কৃষক বিল্লাল বাদাম তুলছিল। বিকেলের দিকে বৃষ্টি শুরু হলে চারজনের উপর প্রচন্ড বজ্রপাত আঘাত হানে। এতে একই পরিবারের ৩জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। অপর একজন কে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হাসান মৃত বলে জানান।
ওই বজ্রপাতের পর বাদাম ক্ষেতে থাকা অন্য কৃষকরা নিহতদের উদ্ধার করে। পারিবারিক ও এলাকা সুত্রে জানাযায়, শেখ আরজান একজন হতদরিদ্র দিন মজুর। অন্যের জমি বন্দোবস্ত নিয়ে চাষাবাদ করে ৫ সদস্যর পরিবার নিয়ে চলতো তাদের খেটে খাওয়া পরিবার। বড় মেয়ে বিথি আক্তার সংসারের অভাব অনটন দেখা দেওয়ায় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করার পর বাবা মা’র সাথে কৃষি কাজ করতো। মেজ মেয়ে রিনা আক্তার বাবার সাথে কৃষি কাজ করে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাশ করে। উচ্চ শিক্ষার আশায় পারিবারিক ভাবে অসচ্ছল থাকা সত্বেও প্রত্যান্ত দুর্ঘম অঞ্চল থেকে নব উদ্যমে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা লাভের আশায় সম্প্রতি এইচএসসিতে ভর্তি হতে সে চরভদ্রাসন সরকারি কলেজে আবেদন করেছে। ৫সদস্যর পরিবারে ছোট শিশু বাদে ৪জনই কাজ করে পারিবারিক স্বচ্ছলতার আশা করছিল এবছর ক্ষেতের ফসল তুলে বিক্রি করার পর। নতুন ফসল বিক্রি করে বড় মেয়ে বিথি আক্তারের বিয়ে দেওয়ার কথাও চলছিল বাবা মায়ের। সবই ম্লান হলো এক বজ্রপাতে কৃষক পরিবারের। পরিবারের মেজ মেয়ে রিনা আক্তারের হাতে তার  ৩বছরের ছোট ভাই শেখ আব্দুল কে রেখে পূথিবী ছেড়ে বিদায় নেয় বাবা মা ও বড় বোন। নিয়তির নির্মম পরিহাসে একদিকে নিজের ভবির্ষৎত অন্যদিকে ছোট ভাই আব্দুল কে নিয়ে শুরু হচ্ছে আগামী দিনের জীবন সংসার।
বাবা মা বোন কে হারিয়ে বাকশূন্য হয়ে অঝোর ধারায় অন্য আত্বীয় স্বজনের বুকে মাথা রেখে আহাজারি করছে রিনা। তার আহাজারিতে পুরো এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। ঘটনার পর থেকেই মর্মহত পরিবারের নিহতদের দেখতে প্রতিনিয়ত ভীড় করছে এলাকাবাসী। পরিবারের শোকের সাথে তারাও শোকাহত হয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় নিহত পরিবারের বাড়িতে যান সদরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা রহমান। পরিবারের মেজ মেয়ে রিনা ও ছোট ভাই আব্দুল কে সমবেদনা জানিয়ে তাদের পরিবারকে নগদ ১০হাজার টাকা প্রদান করেন। সরকারি ভাবে আরও প্রয়োজনীয় সাহায্যের আশ্বাস ও দেন মমতাময়ী ইউএনও। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদ সদস্য গোলাম রব্বানী (পান্নু কাজী), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু এহসান মিয়া।
খবর পেয়ে সদরপুর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক মো. বাকির ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেন।
অপরদিকে রিনার এইচএসসিতে ভর্তি ও লেখা পড়ার জন্যে চরভদ্রাসন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ শিলা রানী মন্ডল এর নিকট সাহায্য সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হলে তিনি জানান, আমি আমার সাধ্যমত ওকে সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করবো।
আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ