বৃহস্পতিবার,২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং,৯ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৩:২৯
বৌ সাজানো প্রতিযোগিতা শুরু করলেন কেকা ফেরদৌসী ১৮ নম্বরে শাকিব কলকাতার সেরাদের তালিকায় পলাশবাড়ী স্বেচ্ছায় রক্তদান সংগঠনের প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত শৈলকুপায় খাবার হোটেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা হাতীবান্ধায় স্টুডেন্ট কাউন্সিল অনুষ্ঠিত ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচন হবে : ইসি সচিব ডোমার ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা।

শ্রীপুরে প্রতিমা তৈরীর কারিগর ননীর গল্প

আলফাজ সরকার আকাশ,শ্রীপুর(গাজীপুর)ঃ
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী পাঠানটেক গ্রামের মৃত কুলক চন্দ্র দাসের ছেলে পঞ্চাশোর্ধ ননী চন্দ্র দাস । দীর্ঘ পয়ত্রিশ বছর ধরে সনাতন ধর্মের লোকদের শারদীয় দূর্গাৎসবের পূজা অর্চনার জন্য প্রতিমা তৈরী করে যাচ্ছেন। দিন রাত বসে দাড়িয়ে চলে তাঁর দু’হাতের নৈপুন্য প্রদর্শনের কাজ।তবে নিজে দারিদ্রতার কাছে হার মানলেও অসহায় লোকদের ধর্মীয় উৎসবে প্রায় প্রতিবারেই বিনামূল্যে প্রতিমা দিয়ে থাকেন। তাঁর কাছে ধর্মীয় কাজ করাটাই নিজের কাছে সান্তনা।
২৯ আগষ্ট বিকেলে বরমী বাজারের সড়কের পাশেই দেখা যায় একটি ঘরে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন প্রতিমা শিল্পি ননী দাস, সাথেই তাকে বিভিন্ন কাজে সহযোগীতা করছিলেন তার স্ত্রী কামনা দাস।
ননী দাসের মতে খুব ছোটকালে যেখানেই যেতেন খেলার ছলে মাটি দিয়ে ছোট ছোট প্রতিমা তৈরী করতেন, নিজের বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার শখের কাজও পরিণত হতে থাকে। একটা সময় এই কাজই হয়ে উঠে বেঁচে থাকার অবলম্বনে। এক ছেলে দু’মেয়ের জনক ননী দাসের বড় ছেলে আগামীতে এইচএসসি পরীক্ষার্থী, মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে সামনের বছর এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ছোট মেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। হতদরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠা ননীদাসের সহায় সম্বল বলতে আছে শুধু বসবাসের ভিটেমাটি। তবে তাঁর সম্বল বলতে এখন শুধু দু’হাতটাই। যার মাধ্যমে নান্দনিক দুর্গার অববয় ফুঁটিয়ে তুলেন সারা বছরের দিনরাত ধরে।
তিনি কারো কাছ থেকে এই কাজের যেমন শিক্ষা নেননি তেমনি আবার পরিবারের কেউ এই কাজে কখনও জড়িত ছিল না, শুধু নিজের শখ ও ধর্মীয় বিশ্বাসে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিমা তৈরী করে যাচ্ছেন। মাটির উপকরণে হাতের নৈপুন্যে প্রতিবারের মত এবারও তৈরী করেছেন ১২টি প্রতিমা। এসব প্রতিমার কোন নির্দ্দিষ্ট দরদাম নেই, বিভিন্ন এলাকার পূজা কমিটি তাঁর কাছ হতে প্রতিমা সংগ্রহ করে খুশি হয়ে যে টাকা পয়সা দেন তাতেই চলে যায় ননী দাসের সংসার।
ননী দাস জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় এ কাজ করে যাচ্ছেন,তাঁর পরিশ্রম লব্ধ গামের ফলে প্রতিমা থেকে যে টাকা পয়সা আসে তাতেই তিনি খুঁশি, তবে তাঁর স্বপ্ন তাঁর সন্তানরা লেখাপড়া করে মনুষ্যত্ব অর্জনের মাধ্যমে তাঁদের সংসারে আলো ফুঁটাবে। এছাড়াও অনেক এলাকার সনাতন ধর্মের দরিদ্র লোকজনের কথা ভেবে প্রতিবারেই তিনি বিনামূল্যে কয়েকটি প্রতিমা পূজা অর্চনার জন্য দিয়ে আসছেন।
আবেগীয় কন্ঠে ননীদাসের স্ত্রী কামনা দাসের জানান,তাঁর স্বামী থাকার ঘরের সাথে লাগুয়া একটি ঘরেই দিনরাত অতিবাহিত করেন, প্রতিমাকেই ঘিরেই ব্যস্ত সময় কাটান তিনি। একাকী নিবিষ্ট কক্ষে সময় কাটানোই তাকে এ ঘরেই খাবার পৌছে দিতে হয়। সংসারের কাজ সামলিয়ে মাঝে মধ্যে তিনি স্বামীকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেন।
এ ব্যাপারে বরমী পূজা উদযাপণ কমিটির সভাপতি শ্রী ফনিভূসন সাহা জানান, অনেক বছর ধরে ননী দাস প্রতিমা তৈরী করছেন,প্রতিমাকে ঘিরেই তার জীবনের সুখ এবং বেঁচে থাকার অবলম্বন। নিজের পরিশ্রমের টাকায় সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষে এগিয়ে যাচ্ছে এ কারিগর, তাকে নিয়ে আমরা গর্ব করে থাকি।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ