বৃহস্পতিবার,১৬ই আগস্ট, ২০১৮ ইং,১লা ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৪:২৩
নওগাঁয় নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে শোক দিবস পালিত ১ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন প্রচেষ্টা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালনঃ নাটোরে ইয়াবাসহ আটক-৩ জলঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন” নানা আয়োজনে জামালপুরে জাতীয় শোক দিবস পালিত নাটোরের বাউয়েট ক্যাম্পাসে জাতীয় শোক দিবস পালিত

শেকৃবির ১৮ বছরে পদার্পণ

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি ১৮ বছরে পদার্পণ করলেও কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর রয়েছে দীর্ঘ আশি বছরের আবদান। উপমহাদেশের কৃষি শিক্ষার ভিত্তি স্থাপিত হয় এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট (বিএআই) নামে এর যাত্রা শুরু হলেও কালের পরিক্রমায় উপমহাদেশের ভূ-রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে এর নামও তিনবার পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে এটি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) নামে পরিচিত।

অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষিকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে উপমহাদেশের খাদ্য সংকট (দুর্ভিক্ষ) মোকাবেলার লক্ষ্যে ১৯৩৮ সালের ১১ ডিসেম্বর অবিভক্ত বাংলার প্রথম মূখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক বিএআই প্রতিষ্ঠা করেন। সে বছরের বাজেটে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে ৩ শত একর জমিতে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো নির্মাণের জন্য দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর তিন বছর পর ১৯৪১ সালে ইংল্যান্ডের রেডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি পাঠ্যক্রম অনুযায়ী এর একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। কোর্সের নাম দেওয়া হয় ’বিএসসি ইন এজি’।

ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দশ জন মুসলিম ও দশ জন হিন্দু শিক্ষার্থীকে নিয়ে কোর্সটি চালু হয়। চার বছর মেয়াদী কোর্স সম্পন্ন করে এই ২০ জন শিক্ষার্থী উপমহাদেশের প্রথম কৃষিবিদ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৫১ সালে এমজি (মাস্টার্স) কোর্স চালু হয়। এরপর উপমহাদেশ পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত হলে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় পূর্ব পাকিস্থান এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে এর নাম রাখা হয় বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট।

দেশ তথা উপমহাদেশের মানুষকে দুর্ভিক্ষের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে যে প্রতিষ্ঠানটি হাজার হাজার কৃষিবিদ প্রস্তুত করে আধুনিক কৃষিশিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি খাতকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করালো সেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত না করে ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক পক্ষপাতিত্বের কাছে ম্লান হয়ে যায় এই প্রতিষ্ঠান সোনালি ঐতিহ্য ও অবদান।

২০০১ সালে ৬ জানুয়ারি বিএআই এর হীরকজয়ন্তী অনুষ্ঠানে তৎকালীন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জুলাই জাতীয় সংসদে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের মধ্যমে ’শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে আইন পাশ করা হয় এবং সে বছরের ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী এর ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক মো. শাদাত উল্লাহ।

ইতিহাস বলে, শুধু কৃষির উন্নয়নেই নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনেও এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ আবদান রয়েছে। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬ এর ছয় দফা, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণই বলে দেয় যে তাদের অবদান শুধু কৃষিতে সীমাবদ্ধ নেই। অধিকার আদায়েও তারা রাজপথে সক্রিয় থেকেছে। একাত্তর পূর্ব সংকটকালে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল এই প্রতিষ্ঠানের শেরেবাংলা হল।

বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি অনুষদ রয়েছে। কৃষি অনুষদ, অ্যানিমেল সাইন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি অনুষদ, এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদ এই তিনটি পরাতন অনুষদের সাথে গত বছর যুক্ত হয়েছে ফিসারিজ অ্যান্ড একোয়াকালচার অনুষদ। এই ৫টি অনুষদের অধীনে মোট ৩৫টি বিভাগ চালু আছে। স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিইচডি মিলিয়ে দেশি-বিদেশি ৩৫৭০জন শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত আছে। মোট শিক্ষক-শিক্ষিকা ২২৬জন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ৬৪৪ জন। ছাত্রদের জন্য ৩টি ও ছাত্রীদের জন্য রয়েছে ২টি হল। তাছাড়া শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে আবাসিকের ব্যবস্থা। গবেষণার জন্য খামার রয়েছে ৫টি।

কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণে শেকৃবির পদচারণা অত্যন্ত সফল।  কৃষিক্ষেত্রে নানা অবদানের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের কৃষিবিদরা স্বাধীনতা পুরষ্কার, রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার, বিজ্ঞান একাডেমিক স্বর্ণপদক ও শেরেবাংলা পদক লাভ করেছেন। হাজার হাজার দক্ষ কৃষিবিদ তৈরির পাশাপাশি শেকৃবি জাতিকে উপহার দিয়েছে নতুন নতুন উদ্ভাবিত ফসলের জাত। যা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে এগিয়ে নিয়েছে অনেকটা পথ। এই প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত বিআর৩, বিআর৪, বিআর১০,বিআর১১, বিআর১৪, বিআর১৯, বিআর২৩ জাত অবিষ্কার করে যেমন এর গবেষণা খাতকে উন্নত করেছেন তেমনি গবেষণা লব্ধ এসব ধানের জাত বাংলাদেশ সহ ভারত, নেপাল, মায়ানমার, ভিয়েতনাম এবং পশ্চিম আফ্রিকায় ছড়িয়ে দিয়ে সফলতার সাথে সম্প্রসারণ করেছেন।

ধানের পাশাপাশি উদ্ভাবন করেছেন সাউ সরিসা১, সাউ সরিষা২, সাউ সরিশা৩,কয়েক জাতের টমেটো, সাউ টমেটিলো১, সাউ টমাটিলো২, জামারুসান মূলা, সাদা ভুট্টা এবং নন্দিনী ফুল। এই প্রতিষ্ঠানের স্নাতক কাজী বদরুদ্দোজা উদ্ভাবিত ’কাজী পেয়ারা’ সারাদেশে সুখ্যাতি অর্জন করেছে। সম্প্রতি সূর্যের আলোছাড়া সবজি চাষ, কৃত্রিম আলোর মাধ্যমে স্বল্প সময়ে সবজির বীজ উৎপাদন কৌশল আবিষ্কার, ছাদে সামুদ্রিক শৈবাল চাষ কৌশল আবিষ্কার মৌমাছির কৃত্তিম প্রজনন করতে সক্ষম হয়েছে শেকৃবির একদল গবেষক। এ ছাড়াও দেশে প্রথমবারের মতো টার্কি মুরগির কৃত্রিম প্রজনন করে দেশের পোল্ট্রি শিল্প নতুন করে সম্ভাবনা দেখিয়েছেন শেকৃবির এক শিক্ষার্থী। রাজধানী ঢাকার সবুজায়নেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ।

সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

শিক্ষা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ