মঙ্গলবার,২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং,১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১০:৩৩
পাঁচ দিনের সফরে সিঙ্গাপুর গেলেন এরশাদ গোল বলের কোনো বিশ্বাস নাই: মোস্তাফিজ মায়ের কোলে চড়ে ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় পাশ পাস কোর্স থাকবে না ঢাবির ৭ কলেজে ৩৩ মডেল মাদরাসা সরকারিকরণ দাবি পোশাক শিল্পের মাধ্যমে লাখো শ্রমিক দারিদ্র্য মুক্ত’ শিক্ষা খাতে আরো বেশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করতে হবে

শিল্প বিকাশে বাজেটে সুবিধা অপর্যাপ্ত

4 months ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  শিল্প সম্প্রসারণে উপযোগী নীতি সহায়তার অভাব রয়েছে। এতে পর্যাপ্ত মূলধন থাকার পরও উৎপাদনে আসতে পারছে অনেক উদ্যোক্তা। অন্যদিকে কারখানা নির্মাণে সুবিধা মতো জমির সংকট এবং অনুন্নত অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেও শিল্প গড়ে উঠছে না। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিল্পের সীমিত খাতে নীতি সহায়তা দেওয়া হলেও ভার চাপানো হয়েছে অনেক খাতে। অন্যদিকে শিল্প খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, বাজেটে দেওয়া সুবিধা বাস্তবায়ন হলেও শিল্পের অনেক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন থেকে শিল্প খাতে বিরাজমান সমস্যার সমাধানে সুপারিশ জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাণিজ্য এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এসব সুপারিশের অধিকাংশই অন্তর্ভুক্তি করা হয়নি। বিশেষভাবে করপোরেট কর কমাতে এফবিসিসিআইর সুপারিশ আমলে আনা হয়নি।

প্রস্তাবিত বাজেট প্রস্তাবে শিল্প খাতে গতিশীলতা আনতে কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত এবং ব্যবসায়ীদের দাবি কতটা মেনে নেওয়া হয়েছে তা জানতে চাওয়া হলে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জমির সংকট দূর করতে অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ এবং অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বেশ কয়েক বছর আগে গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিকূলতায় এসব বাস্তবায়নে ধীরগতি রয়েছে। তাই কবে নাগাদ শেষ হবে তা বলা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে শিল্প বিকাশে সহায়ক নীতি সহায়তা একান্ত প্রয়োজন। অথচ আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে শিল্প সহায়ক নীতি সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে কিছু ক্ষেত্রে ভার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে করপোরেট কর এবং গ্রিন ট্যাক্স বাড়ানো হলো, যা এ শিল্প বিকাশে বাধা সৃষ্টি করবে।’

বাজেট প্রস্তাবে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ও রপ্তানিতে নিয়োজিত করদাতাদের করহার ১২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ এবং পাবলিক লিমিটেড কম্পানির ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ থেকে ১২.৫ শতাংশ করা হয়েছে। গ্রিন সনদ আছে এমন কম্পানিকেও প্রস্তাবিত বাজেট নেওয়া পদক্ষেপ অনুসারে ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ শতাংশ হারে কর পরিশোধ করতে হবে।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিল্প খাতে নেওয়া পদক্ষেপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, টেক্সটাইল খাতে কাঁচামাল ফ্ল্যাক্স ফাইভার ও ফ্ল্যাক্স টো ওয়াস্ট আমদানিপর্যায়ে শুল্ক ও (মূল্য সংযোজন কর) মূসক হার মওকুফ করা হয়েছে। রেফ্রিজারেটর ও কম্প্রেসর শিল্পকে প্রতিরক্ষণে সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যবহৃত উপকরণ রেফ্রিজারেন্ট, প্রিন্টেড স্টিল শিট, (০.৩এমএম পুরুত্ব) কপার টিউব, ক্যাপাসিটর, কানেক্টর, টার্মিনাল ও ইলেকট্রিক এপারেটাসে আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশে এবং ওয়েল্ডিং ওয়্যার, স্প্রিং ও গ্যাসকেটে আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। মোটরসাইকেল উৎপাদন খাতে আগের বছরের ঘোষিত প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হয়েছে। টায়ার টিউব উৎপাদন শিল্পে কাঁচামাল প্যারাফিন ওয়াক্স এবং ফেনোলিক রেজিন আমদানিতে যথাক্রমে ১০ এবং ৫ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। রডের উৎপাদন ব্যয় কমাতে কাঁচামাল ফেরো অ্যালয়ের রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্পঞ্জ আয়রন আমদানিতে স্পেসিফিক কাস্টমস ডিউটি প্রতি টনে ১০০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা কমানার প্রস্তাব আছে।

ট্রান্সন বাংলাদেশ লিমিটেডের (আইটেল) সিইও রেজওয়ানুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, নিজস্ব কারখানায় সব ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি করে সম্পূর্ণ মোবাইল বানালে দেশি শিল্প হিসেবে রাজস্ব ছাড় দেওয়া হবে। পৃথিবীর অনেক দামি দামি প্রতিষ্ঠানেরও এ সক্ষমতা নেই। কিছু উৎপাদন করে, কিছু আমদানি করে। প্রস্তাবিত বাজেটে এ সুযোগ রাখা হয়নি।’

এনবিআর সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিল্পের সীমিত কিছু খাতে সুবিধা দিতে গিয়ে জনসম্পৃক্ত শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে তা সমগ্র শিল্প খাতের জন্য ভালো হবে না। এ ছাড়া বাজেট প্রস্তাব তৈরির সময় এনবিআরের ভেবে দেখা প্রয়োজন ছিল, যাদের জন্য রাজস্ব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তারা এ সুবিধা নিতে পারবে কি না। ভারসাম্য রক্ষা করে সুবিধা দেওয়া না হলে সমগ্র শিল্প খাতের আশানুরুপ বিকাশ হয় না। পণ্য মূল্য বাড়ে, যা জনভোগান্তির।’

এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) বলেন, ‘বড় আকারের বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ বেশি। এতে সরকারের ঋণ বাড়বে। ফলে বেসরকারি খাতে অর্থ সংকট দেখা দিতে পারে। শিল্প বিকাশে প্রস্তাবিত বাজেটে নেওয়া পদক্ষেপ পর্যাপ্ত নয়। শিল্পের আরো খাতে নজর দেওয়া প্রয়োজন।’

সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ