বৃহস্পতিবার,২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং,৯ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৩:১৮
বৌ সাজানো প্রতিযোগিতা শুরু করলেন কেকা ফেরদৌসী ১৮ নম্বরে শাকিব কলকাতার সেরাদের তালিকায় পলাশবাড়ী স্বেচ্ছায় রক্তদান সংগঠনের প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত শৈলকুপায় খাবার হোটেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা হাতীবান্ধায় স্টুডেন্ট কাউন্সিল অনুষ্ঠিত ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচন হবে : ইসি সচিব ডোমার ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা।

“শিক্ষায় পাল্টে যাওয়া গ্রাম খেচাউপাড়া ও শিক্ষার বাতিঘর সেকান্দার সিকদার”

মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)থেকে।।
অশিক্ষা, ধমীয় গোঁড়ামী, কুশিক্ষা, ফকিরের কুফরিতে বিশ্বাস করে হাজারো মানুষ তখন ছিলো অশিক্ষার অন্ধকারে নিমজ্জিত। অভার ও স্কুল না থাকায় অভিভাবকরাই যখন কর্মের দিকে ঠেলে দিতো শিশু-কিশোরদের। যে গ্রামে ভোর হলে স্কুল ব্যাগ নিয়ে ছুটতে দেখা যেতো না কোন শিশুকে। এ চিত্র ১৯৯৩ সালের পূর্ববর্তী। আজ থেকে ২৫ বছর আগের। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার খেচাউপাড়া গ্রামের।
২০১৮ সালে এই খেচাউপাড়া গ্রামে এখন প্রায় শতভাগ শিশু স্কুলে যায়। অশিক্ষার অন্ধকার দূর হওয়ায় কেটে গেছে সকল গোঁড়ামী। ২৫ বছরে এই অশিক্ষায় অন্ধকারাচ্ছন্ন গ্রামকে শিক্ষায় আলোয় অলোকিত করে প্রতিটি ঘর অলোকিত করেছেন একজন শিক্ষানুরাগী। নাম সেকান্দার সিকদার (৮৬)। সবার প্রিয় সেকান্দার চাচা।
১৯৯০ সালে মাত্র ৫০ শতক জমির মালিক ছিলেন এই সেকান্দার সিকদার। পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়ের সংসারে অভাব তখনও তাঁর নিত্যসঙ্গী। খেচাউপাড়া গ্রামে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারেণ নি কোন সন্তানকেই। অশিক্ষায় অন্ধকারাচ্ছন্ন এই গ্রামকে ঝড় জলোচ্ছাস থেকে মানুষকে রক্ষার জণ্য এনজিও কারিতাস একটি আশ্রয় কেন্দ্র করার উদ্যেগ নেয়। কিন্তু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কেউ জায়গা দিতে চায়নি গোঁড়ামীর কারণে। এগিয়ে আসে সেকান্দার সিকদার। এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে ১৯৯১ সালে দান করেণ ৪০ শতক জমি। সেই জমিতে সাইকোন সেল্টার নির্মান হওয়ার পর ১৯৯৩ প্রতিষ্ঠিত হয় খেচাউপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৯৫ সালে রেজিষ্ট্রেশন পাওয়ার ১৮ বছর পর ২০১৩ বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ১৩৭ জন। পাঁচজন শিক্ষকের পদ থাকলেও বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষক আছে তিনজন।
শিক্ষানুরাগী সেকান্দার সিকদার নিজে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হলেও গত ২৫ বছরে তাঁর দান করা জমিতে প্রতিষ্ঠিত খেচাউপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তিন সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী শিক্ষার সুযোগ পেয়ে আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত।
বয়স ৮৬ হলেও এখনও খালে মাছ শিকার, রাস্তার মাটি কাটা কিংবা শ্রম বিক্রি করে চলতে হচ্ছে সেকান্দার সিকদারকে। কিন্তু এতে তাঁর কোন আক্ষেপ নেই। বরং ভোর হলেই এখনও সে স্কুল মাঠে গিয়ে খোঁজ নেন দরিদ্র শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষকদের। দারিদ্রতার কষাঘাতে পিষ্ট হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করলেও শিক্ষা পাগল এই মানুষটি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়ান। তাদের সহায়তার চেষ্টা করেণ।
খেচাউপাড়া গ্রামের বেড়িবাঁধের পাশে একটি ছোট্র ঘরে বাস করেণ এই অলোকিত মানুষ সেকান্দার সিকদার। তিঁনি জানালেন, স্কুলের জণ্য জায়গা দিয়ে যখন চরম দারিদ্রতার মধ্যে ছিলেন তখন, কলাগাছ সেদ্ধ করে খেয়েছেন। লোনা পানির কারণে এক কানি (আট বিঘা) জমিতে দুই মণ ধানও পাওয়া যায়নি। এক পট চালের সঙ্গে ১০ পট কলাই ডাল মেশানো ভাত খেতেন। চার বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে সেই যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন সেই জীবনযুদ্ধ এখনও চলছে তার।
সেকান্দার সিকদার নিজে ও ছেলে-মেয়েদেরকে লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। কিন্তু নাতি-নাতনিদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। কেউ মাধ্যমিকে, কেউ আবার প্রাইমারিতে পড়ছে। সংসারে দু’মুঠো ভাতের জণ্য এখনও রাতভর মাছ ধরেন। কখনও কখনও রাস্তার মাটি কাটেন। দৈনিক শ্রম বিক্রি করেণ।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ