মঙ্গলবার,২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং,৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৯:২৬
বাংলাদেশ তিন বছরের জন্য ওপিসিডাব্লিউ’র সদস্য নির্বাচিত মির্জাপুরে ভ্রামমাণ আদালতের অভিযানে ৫ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস ও ২ জনের সাজা পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) কাল শহীদ জিয়া জনসংখ্যাকে মানব সম্পদে পরিনত করেছিলেন একারণেই আমি বিএনপি’র রাজনীতি করি- সৈয়দপুর পৌর মেয়র হাতীবান্ধায় জলপাইয়ের বিচি গলায় আটকে শিশুর মৃত্যু “জলঢাকায় প্রত্যন্ত এলাকায় প্রাইমারী ও ইবতেদায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র ভাবনচুর এমটিএস উচ্চ বিদ্যালয়” ইসি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট চারজনের শাস্তি দাবি বিএনপির

‘রোহিঙ্গা’ বলে মিয়ানমারে তোপের মুখে পোপ

মূক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  বাংলাদেশ সফরে এসে রাখাইনে নিপীড়নের শিকার সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় ‘রোহিঙ্গা’দের নাম উচ্চারণ করায় মিয়ানমারের নাগরিকদের তোপের মুখে পড়েছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস।
তিন দিনের মিয়ানমার সফরে গিয়ে দেশটিতে রোহিঙ্গা শব্দটি মুখে না আনলেও বাংলাদেশে এসে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের এ ধর্মগুরু ঢাকায় বলেন, আজ ঈশ্বরের উপস্থিতি বিরাজ করছে রোহিঙ্গাদের মধ্যে।
রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করায় মিয়ানমারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ‘রোহিঙ্গা’ বলে মিয়ানমারে তোপের মুখে পোপ
এ রোহিঙ্গা শব্দটি মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা রোহিঙ্গাদেরকে কোন জাতিগোষ্ঠী হিসেবেও স্বীকার করে না। তাদের কাছে তারা অবৈধ বাঙালি।
মিয়ানমারে গিয়ে তিনি যখন রোহিঙ্গা শব্দটি বলেননি তখন মিয়ানমারের ক্ষুদ্র ক্যাথলিক গোষ্ঠী তার এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছিল। প্রশংসা করেছিলেন কট্টরপন্থি বৌদ্ধরাও।
শুক্রবার ঢাকায় মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের একটি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় তিনি তাদের ‘রোহিঙ্গা’ বলে উল্লেখ করেন; মিয়ানমারের অনেকেই রাখাইনের এ সংখ্যালঘু মুসলিমদের রোহিঙ্গা বলে ডাকেন না। জাতিগত সংখ্যালঘু হিসেবে তাদের স্বীকৃতি দেয়ার পরিবর্তে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে পাড়ি জমানো অবৈধ বাঙালি অভিবাসী বলে দাবি করে দেশটির অধিকাংশ মানুষ। ‘রোহিঙ্গা’ বলে মিয়ানমারে তোপের মুখে পোপ
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার সফরে দেশটির ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের এক উন্মুক্ত সমাবেশে রোহিঙ্গা শব্দটি এমনকি রাখাইন সংকটের ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি। গত আগস্টের পর রাখাইন থেকে প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে।
আগস্টের শেষের দিকে রাখাইনের নিরাপত্তা চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর দেশটির সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযান শুরু হয়। রোহিঙ্গাবিরোধী এ অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ জাতিগত নিধন অভিযান হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
রবিবার ভ্যাটিকানে পৌঁছানোর পর পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কেঁদেছিলেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ‘রোহিঙ্গা’ বলে মিয়ানমারে তোপের মুখে পোপ
‘আমি কেঁদেছি; এমনভাবে কেঁদেছি যাতে এটি দেখা না যায়। তারাও কেঁদেছে।’
৫ দশকের বেশি সময় ধরে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা মিয়ানমারে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বেশ সক্রিয়। এতে অনেকেই পোপের রোহিঙ্গা শব্দ মুখে আনার ব্যাপারে তোপ ঝেড়েছেন। এ সংকটে পোপ দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েছেন উল্লেখ করে অং সো লিন সামের একজন লিখেছেন, ‘তিনি টিকটিকির মতো; আবহাওয়ার কারণে যার রং পরিবর্তন হয়।’
সোয়ে সোয়ে নামের একজন লিখেছেন, ‘ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করায় ধর্মীয় নেতা হওয়ার চেয়ে তার বিক্রয়কর্মী অথবা দালাল হওয়া উচিত ছিল।’ ‘রোহিঙ্গা’ বলে মিয়ানমারে তোপের মুখে পোপ
ইয়ে লিন মং নামের অপর একজন লিখেছেন, পোপ হচ্ছেন পবিত্র ব্যক্তি…কিন্তু তিনি এখানে (মিয়ানমারে এক ধরনের কথা বলেছেন এবং অন্য দেশে গিয়ে ভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি যদি সত্যকে ভালোবাসেন তাহলে একই ধরনের কথা বলা উচিত ছিল তার।
সূএ: এবিনিউজ
আপনার মতামত লিখুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ