রবিবার,২১শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং,৬ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৩:১০
আমরা আধুনিক প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করছি : প্রধানমন্ত্রী ক্যাম্পাসের প্রিয়মুখ প্রত্যয়ী মাঈশা সকালে মধু খেলে ওজন কমে! মৌসুমী ঝড়ের কবলে ইয়েমেন : নিহত ১১, নিখোঁজ ২৫ শচিনকে বন্ধু লারার চমক আজ রাষ্ট্রপতি জেনেভা যাচ্ছেন রাইড শেয়ারিংয়ে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ‘সহজের’

রায়ে সন্তুষ্ট নয় কোনো পক্ষ

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট নয় কোনো পক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষ আংশিক সন্তুষ্ট হলেও আসামিপক্ষ এ রায়কে রাজনৈতিক প্রভাবিত বলে অভিহিত করেছে।

গতকাল বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকে উদ্ভূত হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের দুটি মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘এ রায় জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছে। হাওয়া ভবনে বসে শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন চারদলীয় জোট সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও তারেক রহমান। ওই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে হরকাতুল জিহাদ নামের জঙ্গি সংগঠন ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে হামলা করে, এটা প্রমাণিত হয়েছে। আমরা রায়ে খুশি। তবে মূল পরিকল্পনাকারী তারেক রহমানের সাজা মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ায় আপিল করা হবে কি না, পূর্ণাঙ্গ রায় পড়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এ মামলার বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে চারদলীয় জোট সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। তারেক রহমানের শাস্তি বাড়াতে আপিল করা হবে কি না সে বিষয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে এ রায়ে তারেক রহমানকে ফাঁসির দণ্ড না দেওয়ায় ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। প্রমাণিতও হয়েছে তা। কাজেই তাঁকে কেন মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হলো। আমরা এর প্রতিবাদ করছি।’ এ সমাবেশে রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। তারেক রহমানকে মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই দেওয়ার রায় আমরা মানি না।’

আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও রায়ের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখান। রায়ের পর নাজিমুদ্দীন রোডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। তিনি বলেন, ‘২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় তারেক রহমানের যাবজ্জীবন

ও অন্যদের ফাঁসির যে রায় দেওয়া হয়েছে, তা অন্যায় ও বেআইনি। হাওয়া ভবন, আব্দুস সালাম পিন্টুর বাসা থেকে কোনো সাক্ষী এসে এ মামলায় সাক্ষ্য দেয়নি। তারা এখানে বসে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করেছে—এটা কোনো সাক্ষী বলেননি।’ তিনি আরো বলেন, ‘গ্রেনেড হামলার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের জড়িত করে দেওয়া বক্তব্য মুফতি হান্নান পরে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। মুফতি হান্নানকে ৪১০ দিন রিমান্ডে রেখে যে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, সেই জবানবন্দি প্রত্যাহার করে তিনি বলেছেন, তারেক রহমানের সঙ্গে, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তাঁর কোনো দিন দেখাই হয়নি। এ রায় উচ্চ আদালতে টিকবে না।’ এটা ফরমায়েশি রায়।

কাশ্মীরভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের নেতা মাজেদ ভাটের আইনজীবী আবদুর রশিদ মোল্লা বলেন, এ রায় রাজনৈতিক প্রভাবিত রায়। কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ার পরও অনেককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে হাইকোর্টে দুপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। সেখানে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও এর আগে মুফতি হান্নান ও তারেক রহমানের নাম প্রাথমিকভাবে (সাক্ষ্যে) বলেননি। ৪১০ দিন তাঁকে (মুফতি হান্নান) রিমান্ডে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করে তারেক রহমানের নাম বলানো হয়েছে। মুফতি হান্নানের ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে বিএনপির অনেককে সাজা দেওয়া হয়েছে। লুত্ফুজ্জামান বাবর, পিন্টুকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এ সাজা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। তিনি বলেন, এ মামলায় সাক্ষী ছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা)। তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) তারেক রহমানের নাম বলেননি (সাক্ষ্যে)। অন্যদিকে তিনি সাক্ষ্য দিতেও আদালতে যাননি।

অ্যাটর্নি জেনারেল : অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচারের ইতিহাসে আজকে একটি মাইলফলক সূচিত হলো। যে মামলাটিকে নষ্ট করে দেওয়ার জন্য নানা রকম ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, জজ মিয়া নামক এক নিরপরাধ লোককে সাজানো হয়েছিল আসামি, পরে মামলাটি আলোর মুখ দেখেছে এবং অপরাধীরা সাজা পেয়েছে। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে, বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি বড় সার্থকতা।’ তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমি স্বস্তি অনুভব করছি। তবে যদি রায়ে উল্লেখ থাকে যে তারেক রহমান মাস্টারমাইন্ড, তাহলে অবশ্যই তাকে ফাঁসি দেওয়া উচিত ছিল।’সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয়,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ