সোমবার,২৫শে জুন, ২০১৮ ইং,১১ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১১:০৯
নতুন দুই ছবিতে শাকিব খান ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রী নিহত জলঢাকায় ১৫০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ল্যাপটপ বিতরণ টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬ গাইবান্ধায় অলৌকিক ঘটনা আমের গায়ে মানুষের ছবি দেখতে উৎসুক জনতার ভীড় কৃষি শুমারির তথ্য সংগ্রহ আগামী বছরের এপ্রিলে শুরু ফুলবাড়ীতে বিট পুলিশিং এর শুভ উদ্ভোধন ॥

মেয়েদের হাত ধরেই শিরোপা

2 weeks ago , বিভাগ : খেলাধুলা,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: কেউ ফিরেও তাকাত না। অভিভাবক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছে তাঁরা পরিবারের মেজো সন্তান, মাছের মুড়ো কিংবা লেজ—কোনোটাই জোটে না। এঁদের ফলোয়ার বাদ দিন, ফ্যানপেজ আছে কি না সন্দেহ। আর মিডিয়ায় জায়গা মেলে ফাঁকফোকরে। এত দিনের অনাগ্রহ আর অবহেলার জবাবই যেন এশিয়া কাপ ট্রফি জিতে দিলেন সালমা খাতুনরা। গতকাল কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে টানা ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল। তাদের তো বটেই, বিদেশ থেকে জিতে আনা ক্রিকেটের প্রথম ট্রফিও এটা বাংলাদেশের। চারদিকে তাই আজ মেয়েদের জয়ধ্বনি!

জয়ের জন্য ১১৩ রান খুব বেশি নয়। কিন্তু স্নায়ুক্ষয়ী চাপ তো আর স্কোরবোর্ডে লেখা থাকে না। শেষ ওভারে ৯ রান দরকার। সেটাও একটা ফাইনালে, যে মঞ্চে একেবারেই নবাগত বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টটাকে নিজেদের করে ফেলা ভারত। পারবেন তো শেষ স্বীকৃত ব্যাটিং জুটি রুমানা আহমেদ আর সানজিদা ইসলাম? হারমানপ্রীত কাউরের প্রথম বলে একটা সিঙ্গেল নিয়ে শ্রেয়তর ব্যাটার রুমানাকে স্ট্রাইক দেন সানজিদা। তামিম ইকবালের উপহার দেওয়া ব্যাটে পরের বলে সুইপ রুমানার। তাঁর ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে অসম্ভব মূল্যবান বাউন্ডারি। সবাই তো আর এমনি এমনি বলে না যে ক্রিকেটে ভাগ্যও লাগে! ২ বলে ৫ রান করে ফেলায় অনেকটাই সহজ অঙ্ক রুমানাদের সামনে, শেষ ৪ বলে সমান রান। সে মতে আবার প্রান্ত বদল করেন রুমানা-সানজিদা। কাউরের ঝুলিয়ে দেওয়া পরের বলেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতেই হয়তো চেয়েছিলেন সানজিদা। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাঁর যে লং অন সীমানার গজখানেক আগে সেটি তালুবন্দি হয় ভারতীয় এক ফিল্ডারের। তবু আশা যে প্রান্তবদলে স্ট্রাইকিং এন্ডে উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়া রুমানা, যিনি পঞ্চম বলে প্রায় অসম্ভব দ্বিতীয় রানের চেষ্টা করতে গিয়ে হন রান আউট। তবে কি আবার ক্রিকেট মাঠে হৃদয় ভাঙতে চলেছে বাংলাদেশের? শেষ বলে যে ২ রান দরকার এবং সে কাজটি করতে হবে সদ্যই ক্রিজে আসা ব্যাটসম্যানকে! কিন্তু ক্রিকেটে তো আর নতুন নন জাহানারা আলম। কাউরের শেষ বলটা ‘কাউ কর্নারে’ খেলে ২ রান, শেষটায় সাবেক অধিনায়কের ঝাঁপ দেওয়ার অন্যতম একটা কারণ সম্ভবত উল্লাস! জাহানারাকে অবশ্য নিজের চেষ্টায় পায়ের ওপরে দাঁড়াতে হয়নি। ততক্ষণে যে ডাগ আউট খালি করে মাঠের বাইশ গজে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে পুরো বাংলাদেশ দল!

সে আনন্দে যোগ দিয়েছেন গ্যালারিতে ভিড় করা প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। চকিতে ১৯৯৭ সালের এপ্রিল ফিরে আসাও এই ফ্রেমে, আইসিসি ট্রফির ফাইনালে হাসিবুল হোসেন শান্তর প্যাডে লেগে জয় নিশ্চিত হওয়া বাই রানে। সেবারের প্রতিপক্ষ ছিল কেনিয়া। আর গতকাল সালমাদের প্রতিপক্ষ এশিয়ার অপ্রতিদ্বন্দ্বী হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন ভারত। তাও একবার নয়, এবারের আসরে বাংলাদেশ ২, ভারত ০; অবিশ্বাস্য স্কোরলাইন! তাই এ জয় কোনো দৈবদুর্বিপাক নয়। এশিয়ার নতুন সেরার মুকুটে তাই সামর্থ্যের ‘কোহিনুর’ও কল্পনায় বসিয়ে দেওয়া যায়।

অথচ বড় কোনো আশার আলো জ্বালিয়ে এশিয়া কাপে যায়নি বাংলাদেশ। বরং দক্ষিণ আফ্রিকায় টানা হারের ছবিগুলো ভয়ই দেখাচ্ছিল। কিন্তু দেরাদুনে আফগানিস্তান সিরিজ আর ফুটবল বিশ্বকাপের ডামাডোলে প্রায় চাপা পড়ে যাওয়া মেয়েদের এশিয়া কাপে পর পর ‘বড় শিকার’ করে গেছেন সালমারা। প্রথমে পাকিস্তান, এরপর ভারতের বিপক্ষে জয়ে ফাইনালের পথ প্রশস্ত হয়ে যায়। তবু মনে আশঙ্কা প্রথম ফাইনালের স্নায়ুচাপ আর শক্তিধর প্রতিপক্ষকে। তবে টস জেতার পর থেকে যা যা হয়েছে, তার সিংহভাগই গেছে বাংলাদেশের পক্ষে। দলীয় ১২ রানে ভারত এক ওপেনারকে হারিয়েছে রান আউটের ঘটনায়। সেই থেকে নিয়মিত বিরতিতে ভারতের উইকেট তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। ম্যাচের শেষ রানটির মতো উইকেটও জাহানারার, ওয়ানডাউনার স্মৃতি মাদানাকে বোল্ড করেন তিনি। পরের ওভারে ভারতের মহিলা ক্রিকেটের সুপারস্টার মিতালী রাজকে ফিরিয়ে দেন খাদিজাতুল কুবরা আর ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ করে দীপ্তি আনুজা পাতিল ফিরতেই ৩২ রানে ৪ উইকেট নেই ভারতের। সম্ভাবনার সলতে জ্বলার শুরু সম্ভবত তখনই।

কিন্তু একাই বাধার প্রাচীর তুলে আছেন যে ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কাউর? একে একে উইকেট পড়েছে ভারতের, শিকারির তালিকায় নাম লিখিয়েছেন নাহিদা আক্তার, সালমা, রুমানাও; কিন্তু তিনি অনায়াসে করে ফেলেছেন ফিফটি। কাউরের ৭ বাউন্ডারিতে ৪২ বলে করা ৫৬-তেই ৯ উইকেটে ১১২ রান করে ভারত।

টি-টোয়েন্টির এ বাজারে একটু দেখেশুনে খেললেই হয়। তবে মেয়েদের সার্কিটে ব্যাপারটা তা নয়। আর শক্তিধর প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের জন্য তো আরো বেশি নার্ভের পরীক্ষা। স্নায়ুক্ষয় কমাতেই হয়তো ব্যাটিং পাওয়ার প্লে’র ফায়দা নিতে চেয়েছে বাংলাদেশ। ওপেনার আয়েশা রহমান শুকতারা প্রায় প্রতিটি বলেই চালিয়েছেন, পুনম যাদবের প্রথম শিকার হওয়ার আগে করেছেন ১৭ রান। ভারতের এ লেগ স্পিনার পরের বলেই ফিরিয়ে দেন আরেক ওপেনার শারমিন সুলতানাকে (১৬)। নিজের দ্বিতীয় স্পেলে আবারও শিকারি পুনম, এবার বিদায় ফারজানা হক। এই লেগি আক্রমণ থেকে সরতেই কিছুটা স্থিতি আসে বাংলাদেশের ইনিংসে। কিন্তু তিনি আবার আক্রমণে ফিরতেই লোপ্পা বলে আউট নিগার সুলতানা, ভারতের ঝুলন গোস্বামীর এক ওভারে তিন বাউন্ডারিতে যিনি নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছিলেন বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে। তবে সে আলো তো আর নেভেনি। বরং আলোকবর্তিকা হয়ে যুগ যুগ ধরে এগিয়ে যাওয়ার পথ বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের।

‘আমরাও পারি’—বিশ্বাসটা নিয়েই যে আজ দেশে ফিরছেন সালমা খাতুনরা।

আপনার মতামত লিখুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ