সোমবার,২৫শে জুন, ২০১৮ ইং,১১ই আষাঢ়, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১১:০৮
নতুন দুই ছবিতে শাকিব খান ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রী নিহত জলঢাকায় ১৫০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ল্যাপটপ বিতরণ টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬ গাইবান্ধায় অলৌকিক ঘটনা আমের গায়ে মানুষের ছবি দেখতে উৎসুক জনতার ভীড় কৃষি শুমারির তথ্য সংগ্রহ আগামী বছরের এপ্রিলে শুরু ফুলবাড়ীতে বিট পুলিশিং এর শুভ উদ্ভোধন ॥

মূল বেতন সর্বনিম্ন ৮২৫০, সর্বোচ্চ ৭৫০০০ টাকা

2 weeks ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮২৫০ ও সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকা সুপারিশ করে সরকারি চাকুরেদের নতুন বেতন কাঠামোর পর্যালোচনা প্রতিবেদন গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে হস্তান্তর করেছেন মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা। তাতে ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশনের বেশির ভাগ সুপারিশই রাখা হয়েছে। তবে সরকারি চাকুরেদের গ্রেড ১৬টি নয়, এখনকার মতোই ২০টি রাখার পক্ষে মত দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদসচিবের নেতৃত্বে গঠিত সচিব কমিটি।

ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন সর্বনিম্ন ৮২০০ ও সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল গত বছরের ২১ ডিসেম্বর। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে তা পর্যালোচনা করে সচিব কমিটি। তারা সর্বনিম্ন গ্রেডে ৫০ টাকা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ গ্রেডে পাঁচ হাজার কমানোর পক্ষে মত দিয়েছে।

বর্তমানে সর্বনিম্ন গ্রেডে ৪১০০ ও সর্বোচ্চ গ্রেডে ৪০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারিত আছে। অর্থাৎ, গ্রেডওয়ারি কম-বেশি শত ভাগ বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটিও।

প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে কমিশন ২০টি বদলে ১৬টি গ্রেডের প্রস্তাব করেছিল। তবে সচিব কমিটি ২০টি গ্রেড বহাল রাখার পক্ষেই মত দিয়েছে। তবে ফরাসউদ্দিনের প্রস্তাব অনুযায়ী বাদ দেওয়া হয়েছে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড। এর বদলে চাকরিজীবীদের মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে প্রতিবছর চক্রাকারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার সুপারিশ রয়েছে। এর ফলে কোনো সরকারি চাকরিজীবী যোগদানের পর কোনো পদোন্নতি না পেলেও ১৫ বছরে তাঁর বেতন দ্বিগুণ হবে। সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাদ দেওয়ায় একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে যাঁরা নতুন চাকরিতে যোগদান করেছেন, তাঁরা তুলনামূলকভাবে লাভবান হবেন।

গত তিন মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। আগামী অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে গেলে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা দরকার হবে। এ অবস্থায় আগামী ১ জুলাই থেকে আদৌ এটি কার্যকর করা হবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে সংশয় ছিল। এর মধ্যে বাজেটের আগে নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি না হলে তাঁদের সন্দেহের মাত্রা আরো বাড়তে পারে- এমনটা আঁচ করতে পেরেই অর্থমন্ত্রী পরিষ্কার করলেন যে, দুই-এক মাস দেরিতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হবে। তবে এটি কার্যকর করা হবে দুই ধাপে (দুই অর্থবছরে)। অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে চাকরিজীবীরা তাঁদের বিদ্যমান বেতন-ভাতার সঙ্গে নতুন কাঠামোর বর্ধিত মূল বেতন পাবেন। আর ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে বর্ধিত ভাতাদিও দেওয়া হবে। এতে দরকার হবে অতিরিক্ত প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা।

তবে চলতি ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে প্রায় ১২ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর (বিভিন্ন বাহিনীর লোকবল বাদে) বেতন-ভাতা খাতে বাজেট বরাদ্দ রয়েছে ২৩ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেতন খাতে ১১ হাজার ২৮৪ কোটি এবং ভাতাদি খাতে ১২ হাজার ৫৮ কোটি টাকা।

তবে ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামো কার্যকরের সঙ্গে সঙ্গে ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে দেওয়া ২০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা বাতিল হয়ে যাবে। একই সঙ্গে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টও কিছুটা সমন্বয় করা হবে। তাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকৃতপক্ষে বেতন-ভাতা বাড়বে প্রায় ৬০ শতাংশের মতো। অর্থাৎ এখন যিনি বেতন-ভাতা বাবদ ১০০ টাকা পান, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তিনি তখন পাবেন ১৬০ টাকার মতো।

নিয়মানুযায়ী অর্থমন্ত্রী এখন প্রতিবেদনটি নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক করবেন। সেখান থেকে চূড়ান্ত করে তা পাঠানো হবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য। বাজেটের ব্যস্ততার কারণে মন্ত্রিসভায় যেতে প্রায় দুই মাস লেগে যাবে বলে ধারণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

সরকারি চাকরিজীবীদের খুশি করার জন্য নয়, বরং প্রয়োজনের তাগিদেই নতুন বেতন কাঠামো দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগেরবার (২০০৯ সালে) ৬২ শতাংশ বেতন বাড়ানো হয়েছিল। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের বেতন কি বাড়েনি? সময়ের সঙ্গে বেতন বাড়াটা খুব স্বাভাবিক। এ বিষয়ে পে কমিশন শতকরা হিসাবে প্রতিবছর স্বাভাবিক গতিতে বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এটা পর্যালোচনা করে দেখা হবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারি চাকরিজীবী, প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী এবং উন্নয়ন প্রকল্পে থাকা জনবলসহ মোট প্রায় ২১ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী হয়ে থাকে। তাতে প্রায় শতভাগ বেতন-ভাতা বাড়িয়ে নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে গেলে শুধু মূল বেতন বাবদই বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। পাশাপাশি অন্যান্য ভাতা বাবদ দরকার হবে আরো প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। একসঙ্গে এত বেশি অর্থের সংস্থান দুরূহ হবে বিধায় আগামী ১ জুলাই থেকে শুধু বর্তমান বেতন-ভাতার সঙ্গে বর্ধিত মূল বেতন এবং পরের অর্থবছরে বর্ধিত ভাতা দেওয়া হবে।

নতুন কাঠামোতে বেতন যে হারে বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে, তার চেয়েও বেশি হারে বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশন। বিদ্যমান বেতন স্কেলে মূল বেতনের সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে। এবারের প্রস্তাবে তা সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার ভেতরে। তবে সর্বনিম্ন বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণ করে দেওয়ায় তা কোনো কোনো গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এর চেয়েও বেশি হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন। এ ছাড়া শিক্ষা ভাতা প্রতি সন্তানের ক্ষেত্রে (সর্বোচ্চ দুই সন্তান) ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা এবং চিকিৎসা ভাতাও দ্বিগুণ করে ১৫০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ রয়েছে। আর বাড়িয়ে দ্বিগুণের সুপারিশ করা হয়েছে অবসরে যাওয়া চাকরিজীবীদের উৎসব ভাতা।

সাধারণত নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হলে বাজারে অর্থের প্রবাহ বেড়ে যায়। তাতে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। এবারও তেমনটি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদসচিব এ ব্যাখ্যা মানতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এর সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করি।’

এ প্রসঙ্গে সচিব কমিটির প্রধান ও মন্ত্রিপরিষদসচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা বলেন, কমিশন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে প্রায় সাড়ে চার মাস আগে। এত দিনেও বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। তাই এখন এর প্রভাব পড়ারও কোনো কারণ নেই।

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ