শনিবার,১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং,১লা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৯:৩২
নেতা নয়, সেবক হতে চাই: শেখ তন্ময় ভোটকক্ষে সাংবাদিকরা যা করতে পারবেন, যা পারবেন না ফখর উদ্দিন মোহাম্মদ স্বপনের শেরে-বাংলা পদক লাভ ঈশ্বরদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরের মৃত্যু মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কলমাকান্দা ইউএনও’র অনন্য নজির জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রস্তুত, থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় ক্রিকেটে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখার আশাবাদ প্রধানমন্ত্রীর

মূল প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলে দুশ্চিন্তা বিএনপিতে

2 weeks ago , বিভাগ : রাজনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ প্রায় অর্ধশত সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও হেভিওয়েট নেতার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর তাদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বিএনপি। কয়েকটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী একেবারেই নেই।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আদালত থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত, ঋণখেলাপি, মামলা সংক্রান্ত সার্টিফাইড কপি না থাকা, মহাসচিবের স্বাক্ষরে গরমিল, আয়কর সনদ না থাকা, বকেয়া বিদ্যুত্ বিল, ভোটারের স্বাক্ষর ঠিকঠাক না থাকা, অসম্পূর্ণ হলফনামা, হলফনামায় স্বাক্ষর না দেয়াসহ বিবিধ ত্রুটির কারণে বিএনপির মোট ১৪১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়া হয়েছে।গতকাল পর্যন্ত সারাদেশে বিএনপির বৈধ প্রার্থী রয়েছে ৫৫৫ জন। দলের সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও হেভিওয়েটদের বেশিরভাগ মুলত: দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া, ঋণখেলাপি, মামলা সংক্রান্ত সার্টিফাইড কপি না থাকার কারণে বৈধতা পাননি। তবে নিয়মানুযায়ী এসব প্রার্থী তিন দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে আপিল করতে পারবেন। ইসিতে গতকাল থেকে আপিল করা শুরু করেছেন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা। ৬ ডিসেম্বর থেকে তিন দিন শুনানি চলবে। এরপরও মনোনয়ন টেকাতে না পারলে আদালতে আপিল করতে পারবেন সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা। গতকাল কক্সবাজারে চারজন এবং আদালত থেকে একজন তাদের প্রার্থিতা ফেরত পেয়েছেন।

দলের নেতারা বলছেন, আপিল ও আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মূল প্রার্থীদের বৈধ করার চেষ্টা করা হবে। সেটা ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় সারির যেসব নেতাদেরকে বিকল্প প্রার্থী করা হয়েছিল তাদেরকে দলের প্রার্থী করা হবে। আর যদি কোন আসনে শেষ পর্যন্ত একেবারেই প্রার্থী শূন্য হয়ে পড়ে, সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলে তাকে দলে ভিড়িয়ে সমর্থন দেয়া হবে।

মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রধান প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন:মোর্শেদ খান, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, মীর নাসির, আবদুল কাদের সিদ্দিকী, গিয়াস কাদের চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমান, আসলাম চৌধুরী, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, এবাদুর রহমান চৌধুরী, মেজর অব. আক্তারুজ্জামান, মশিউর রহমান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আফরোজা আব্বাস, ড.রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী বলেন, টার্গেট করে ৫০ জনের মতো দলের হেভিওয়েট জনপ্রিয় নেতা ও সাবেক এমপি’দের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিনা অজুহাতেই বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। আমরা শেষপর্যন্ত লড়ে যাবো।

২৭ বছর পর ভোটে নেই জিয়া পরিবার

গত ২৭ বছরের মধ্যে (২০১৪ ছাড়া) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবারই প্রথম বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের পরিবার থেকে কোনো প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিন আসনে মনোনয়পত্র দাখিল করলেও আদালতে সাজা পাওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে। ১৯৯১ সাল থেকে অংশগ্রহণমূলক প্রতিটি নির্বাচনে জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়া একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ ছাড়া ফেনী-১ আসন থেকে খালেদা জিয়ার ভাই মরহুম সাঈদ ইস্কান্দার নির্বাচন করেন একাধিকবার। ২৭ বছর পর জিয়া পরিবারের কোনো সদস্য সংসদ নির্বাচনের লড়াই থাকলো না।

এরশাদ দেশে সামরিক শাসন জারির করার পর এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে তত্কালীন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোট এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ৮ দলীয় জোট। সাতদলীয় জোটের নেতৃত্বে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের সময় পরপর দুটি নির্বাচন হলেও বিএনপি তাতে অংশ নেয়নি। ১৯৯০ সালে ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো বগুড়া-৭ ও দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও চারটি আসন থেকে নির্বাচন করেন। সব কটিতেই বিজয়ী হন তিনি। ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপারসন ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসন থেকে নির্বাচন করে প্রতিটিতে বিজয়ী হন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে তত্ত্ববাবধায়ক সরকারের দাবিতে। ফেনী-১ আসনে ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচন করে খালেদা জিয়া জয়ী হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এই আসন থেকে জয়ী হন। ওই বছরের ১২ জুনের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনেও জয়ী হন। সবশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে এক লাখের বেশি ভোটে পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে এই আসন থেকে খালেদা জিয়ার ভাই সাঈদ ইস্কান্দার উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হয়েছিলেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর থেকে কারাগারে আছেন বেগম খালেদা জিয়া। এর মধ্যে চ্যারিটাবল ট্রাস্ট মামলাতেও সাজা হয়েছে তার। বিএনপি শুরু থেকে দাবি করে আসছে, এই দুই মামলার কোনো ভিত্তি নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাকে মামলায় জড়িয়ে সাজা দেয়া হয়েছে। বগুড়া-৬ আসনে এবার বেগম খালেদা জিয়ার পাশাপাশি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করায় এই আসনে লড়বেন তিনি।

বেগম জিয়ার মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ করেন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ