বুধবার,২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং,৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৩:১৭
বাংলাদেশ তিন বছরের জন্য ওপিসিডাব্লিউ’র সদস্য নির্বাচিত মির্জাপুরে ভ্রামমাণ আদালতের অভিযানে ৫ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস ও ২ জনের সাজা পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) কাল শহীদ জিয়া জনসংখ্যাকে মানব সম্পদে পরিনত করেছিলেন একারণেই আমি বিএনপি’র রাজনীতি করি- সৈয়দপুর পৌর মেয়র হাতীবান্ধায় জলপাইয়ের বিচি গলায় আটকে শিশুর মৃত্যু “জলঢাকায় প্রত্যন্ত এলাকায় প্রাইমারী ও ইবতেদায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র ভাবনচুর এমটিএস উচ্চ বিদ্যালয়” ইসি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট চারজনের শাস্তি দাবি বিএনপির

মুক্তিযোদ্ধারা দুই দেশের সম্পর্কের পবিত্র বন্ধন : ভারতীয় হাইকমিশনার

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পবিত্র বন্ধন রচনা করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। আজ বৃহস্পতিবার সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধা বৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাংগঠণিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দীন সিরাজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, মুক্তিযোদ্ধা ও সিলেট বিভাগীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সিলেট হযরত শাহজালালের পবিত্র ভূমি। এই সুন্দর সিলেট অঞ্চলে আমি অনেকবার ভ্রমণ করেছি। সিলেটের চা বাগান আমার নিজ শহর দার্জিলিংয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দুই দেশের এক পবিত্র বন্ধন। এই মহান জাতির পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় চরম কষ্ট সহ্য করেছেন। বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্ম তাঁদের অবদানের জন্য চিরঋণী।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারত সরকার এই ভূমির বীর ‘পুত্র-কন্যাদের’ আত্নত্যাগকে স্বীকৃতি  দেয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা স্মরণে এবং দেশের একটি উন্নত ভবিষ্যতের লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের অমূল্য অবদানকে সম্মান জানাতে কয়েকটি কল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে সব মুক্তিযোদ্ধার জন্য পাঁচ বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা, অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতে সশস্ত্র বাহিনী হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে চিকিৎসা, নতুন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান বৃত্তি প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড আয়োজিত বিজয় দিবস উদযাপনে অংশ নিতে প্রত্যেক বছর মুক্তিযোদ্ধাদের একটি প্রতিনিধিদলকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানানো হয়।

শ্রিংলা বলেন, ভারত সরকার ২০০৬ সালে প্রথম মুক্তিযোদ্ধা বৃত্তি প্রকল্প চালু করেছিল। গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা দেন। এই প্রকল্পে ভারত মোট ৫৬ কোটি টাকা ব্যয় করবে। ভারত সরকার স্নাতক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে অধ্যয়নরত মুক্তিযোদ্ধা উত্তরাধিকারীদের শিক্ষা সহায়তা হিসেবে বৃত্তি প্রদান করে। ওই প্রকল্প থেকে ২১ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী সরাসরি উপকৃত হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আপনাদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যত্ নির্মাণের লক্ষ্যে আপনাদের পিতা এবং দাদা মুক্তিযুদ্ধে আত্নত্যাগ করেছিলেন। তাঁরা তাঁদের প্রচেষ্টায় সফল হয়েছেন। এখন তাঁদের ‘সোনার বাংলা’ নির্মাণের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আপনাদের।

তিনি বলেন, ভারত সরকারের ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ এবং ‘প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা’ ও ‘ডিজিটাল ভারত’-এর মত কিছু ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প অনুযায়ী এই বৃত্তি প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। ভারত সরকারের এই প্রকল্পগুলোর মতো পরের বছর হতে বৃত্তির পরিমান শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি হস্তান্তর করা হবে। এই প্রকল্পগুলোর লক্ষ্য সুবিধাভোগীদের শ্রম লাঘব ও এ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

অসামান্য অগ্রগতি : ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। গত কয়েক বছরে আমাদের দুই মহান দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।’

তিনি ২০১৫ সালে মোদির বাংলাদেশ সফরের পর থেকে বেশ কয়েকটি অগ্রগতির উদাহরণ দেন। এগুলোর মধ্যে ছিটমহল সমস্যাসহ দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত স্থল ও সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি, মহাকাশ, তথ্য প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স, সাইবার নিরাপত্তা এবং বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির মত উচ্চতর প্রাযুক্তিক  ক্ষেত্রসহ ৯০টিরও বেশি চুক্তি সম্পাদন, ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার থেকে সাড়ে ২৮ শতাংশ বেড়ে ৯০০ কোটি ডলারে উন্নীত, ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, গত বছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে তৈরি পোশাক রফতানির পরিমাণ ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১১৫% বেড়ে ২৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত, ভারতীয় বিনিয়োগ তিন বিলিময়ন থেকে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি (আসন্ন বিনিয়োগসহ), আট বিলিময়ন মার্কিন ডলার ঋণচুক্তি বাস্তবায়ন, ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের দ্বারা ভৈরব ও তিতাস সেতু, অতিরিক্ত ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহ, আখাউড়া-আগরতলা রেললাইনসহ ১৬টি উন্নয়ন সহযোগিতা প্রকল্প উদ্বোধন, নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুত্ প্রকল্প, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় চার হাজার বাংলাদেশি কর্মকর্তার ভারতে প্রশিক্ষণ, দেড় হাজার বাংলাদেশি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ, বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদান তিনগুণ বৃদ্ধি (২০১৫ সালে ৫ লাখ  থেকে ২০১৭ সালে ১৪ লাখে উন্নীত), মুক্তিযোদ্ধা, জ্যেষ্ঠ নাগরিক ও মহিলা আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা, ২০১৭ সালে ঢাকা-খুলনা-কলকাতা বাস সার্ভিস ও খুলনা-কলকাতা বন্ধন এক্সপ্রেস চালু, ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেসের প্রান্তিক কাস্টমস এবং ইমিগ্রেশন সেবা উল্লেখযোগ্য।

সোনালী অধ্যায় : শ্রিংলা বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি দু’দেশের সম্পর্কের বর্তমান সময়কে ‘সোনালী অধ্যায়’ বলে অভিহিত করেছেন। ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে অনেক অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছে। এর আগে গত সোমবার ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীরা যৌথভাবে কুলাউড়া-শাহবাজপুর বিভাগের রেলপথের পুনর্বাসন কাজ উদ্বোধন করেন। এই রেলপথের পুনঃস্থাপন আসামের করিমগঞ্জ জেলার সঙ্গে এবং ভারতের অন্যান্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে সরাসরি সংযুক্ত করবে।

সিলেটে দ্রুত ভারতীয় ভিসা : শ্রিংলা বলেন, ‘আমি খুব খুশি যে, এ বছর আমরা সিলেটে আমাদের নতুন সহকারী হাই কমিশন অফিস চালু করেছি। আমাদের নতুন সহকারী হাই কমিশনার আগামী তিন/চার দিনের মধ্যে দায়িত্ব নেবেন। আমাদের নতুন অফিস সিলেটের জনগণের জন্য দ্রুত ভিসা প্রদানে সহায়তা করবে।’

তিনি বলেন, ‘এটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও সিলেটের মধ্যে পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবে। সিলেট বিভাগ ভারতের আসাম, মেঘালয় এবং অন্যান্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর প্রবেশপথ। বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর উন্নয়নে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী একে অপরের পরিপূরক হতে পারে।’

আপনার মতামত লিখুন

মুক্তিযুদ্ধ,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ