রবিবার-২১শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং-৮ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১০:১৮
ফেরদৌসের সমালোচনায় যা বললেন মোদি তিন দিনের সরকারি সফরে ব্রুনেইয়ের পথে প্রধানমন্ত্রী প্যারোলের বিষয়ে নমনীয় খালেদা! তিন দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ব্রুনাই যাচ্ছেন আজ আজ পবিত্র শবেবরাত নারায়ণগঞ্জে বাহারি রঙের ঘুড়ি উৎসব পার্বতীপুর মধ্যপাড়া খনিতে ১৬ দিন ধরে পাথর উত্তোলন বন্ধ

মানবমনে মাতা-পিতা হওয়ার সহজাত সুপ্ত বাসনা

3 months ago , বিভাগ : ধর্ম,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: ৫. আমি আশঙ্কা করি, আমার পর আমার স্বগোত্রীয়দের সম্পর্কে; আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। সুতরাং তুমি তোমার পক্ষ থেকে আমাকে উত্তরাধিকারী দান করো। [সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৫ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : জাকারিয়া (আ.) বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন। তাঁর দোয়ায় তিনি নবুয়তের রেখে যাওয়া আমানত বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ তাঁর পরে মানুষ ঈমান ও আমল সম্পর্কে উদাসীন হয়ে সমাজকে ধ্বংস করে দিতে পারে।

জাকারিয়া (আ.)-এর সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা কী—এ বিষয়ে আলোচ্য আয়াতে তিনি বলেছেন, আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। তিনি সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম নন। তবে সন্তান না হওয়াকে শুধু নারীর অক্ষমতা হিসেবে প্রকাশ করার যে প্রবণতা সমাজে বিদ্যমান, জাকারিয়া (আ.) তথা আসমানি জ্ঞান লাভকারী কেউ এমন মনোভাব পোষণ করতে পারেন না। এ ব্যাপারে জাকারিয়া (আ.)ও সচেতন ছিলেন। তাই তিনি তাঁর স্ত্রীর বন্ধ্যাত্বের কথা উল্লেখ করার আগেই আগের আয়াতে বলেছেন, ‘হে আমার রব! আমার অস্থি দুর্বল হয়ে গেছে, বার্ধক্যে আমার মস্তক শুভ্রোজ্জ্বল হয়ে গেছে…।’

আলোচ্য আয়াতের পুরো বক্তব্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই একটিমাত্র আয়াতে সন্তানের জন্য নিঃসন্তান দম্পতির হাহাকার তুলে ধরা হয়েছে। কোনো নারী ও পুরুষ যখন মাতা-পিতা হন, তখন তিনি শুধুই একটি সন্তান পৃথিবীকে দান করেন না, বরং তাঁর নিজের জিন, রক্ত, সম্পদ, আদর্শ, অভিজ্ঞতালব্ধ ও আহরিত জ্ঞান পৃথিবীর জন্য রেখে যান। এই সন্তান থেকেও নতুন প্রজন্ম জন্ম নেয়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর মানববংশের বিস্তার ঘটে। এভাবে বংশপরম্পরায় মাতা-পিতা ‘বেঁচে থাকেন’। ইদানীং একটি শব্দের ব্যবহার বাড়ছে, সেটি হলো ‘মৃত্যুহীন প্রাণ’। মনীষী, জ্ঞানী-গুণী ও পণ্ডিত মানুষের মৃত্যুতে এই শব্দ ব্যবহার করা হয়। এর ব্যবহার নিয়ে স্নায়ু বিতর্ক করা যায়। কিন্তু এক অর্থে এ কথা যথার্থ যে মানুষের শারীরিক মৃত্যু অনিবার্য হলেও তাঁর রক্ত, তাঁর জিনগত বিশেষত্ব, তাঁর আদর্শ ও তাঁর অভিজ্ঞতা পৃথিবীতে থেকে যায়। বরং এই ধারা অব্যাহত ও অনিবার্য। আর বৈবাহিক জীবন, নারী-পুরুষের সহজাত আকর্ষণ ও সন্তান লাভের জন্য মানবমনের সুপ্ত বাসনার মূলেও রয়েছে এই পরম্পরার বিস্তার। যদি মানববংশ বিস্তার রোধ করা হয়, যদি মানুষের এই মা হওয়া এবং বাবা হওয়ার প্রবণতাকে অবমূল্যায়ন করা হয়, তাহলে শুধু সভ্যতার বিকাশই থমকে দাঁড়াবে না, পৃথিবীর টিকে থাকাই অর্থহীন হয়ে পড়বে।

কোনো নারী যদি প্রজ্ঞা-পাণ্ডিত্যে প্রাগ্রসর না-ও হতে পারেন, মানবতার কল্যাণে কোনো কাজ না-ও করতে পারেন, তবু নারী ‘মা’ হওয়ার কারণে সর্বোচ্চ সম্মানের পাত্র। মহাকবি ইকবালের ভাষায় : ‘পৃথিবী রঙিন নারীর অস্তিত্বে/জীবন উদ্দীপ্ত নারীর বীণাতে/সপ্তর্ষি তারার চেয়েও মর্যাদাবান/মর্যাদা তাঁর সিন্দুকের গুপ্তধন।/লেখেনি নারী প্লেটোর দর্শন/হাজারো প্লেটো দিয়েছে জনম।’

তাই মায়েরা হলেন পৃথিবীর ভিত্তিস্বরূপ। তাঁদের ‘মা’ হওয়ার এই সহজাত প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করলে মানববংশের বিস্তার ঘটবে না। সমাজের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে। পৃথিবী থমকে যাবে। সভ্যতার বিকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

ধর্ম বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ