শুক্রবার,২০শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং,৫ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১১:৫৭

নারায়ণগঞ্জে জাহাজ কারখানায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: দগ্ধ ৪ শ্রমিকলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আ.ফ.ম রুহুল হক এমপি বেতনে বিশ্বের চতুর্থ হাথুরুসিংহে মিয়ানমারে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ: নিহত ৫ শতাধিক হলে ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ চট্টগ্রামে বাস-কভার্ড ভ্যান সংঘর্ষে নিহত ২ বড়াইগ্রাম ট্রাজেডির আজ তৃতীয় বর্ষপূর্তি হতাহতের পরিবারে আহাজারি থামেনি

মহাসড়কজুড়ে খানা-খন্দ, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা

faridpur-road-pic-2
ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ঈদ কি পুজার ছুটিতে, এমন কি প্রতিদিনই ঢাকা থেকে ফরিদপুর হয়ে খুলনা অঞ্চলে যেতে পরিবহন এবং যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে বিপদের মধ্যে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর অংশের ৪০ কিলোমিটার সড়ক এখন খানা-খন্দে সয়লাব। দিনের পর দিন এ অবস্থা থাকলেও দেখার যেন কেউ নেই। ঝুঁকি নিয়েই গুরুত্বপূর্ন এ মহাসড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। মহাসড়টির বেহাল দশায় চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। এ মহাসড়কদিয়ে যাতায়াতকারী ও স্থানীয়রা চরম বিরক্ত। কবে এ সড়কটি ভালো হবে তা কেউই বলতে পারছেনা। ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ফরিদপুর কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, ১৯৮৮ সালে মহাসড়কটি প্রশস্ত করা হয়। ৮৯ সালের পর থেকে দীর্ঘ এ সড়কটির তেমন সংস্কার হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর অংশের ৪৯ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা শোচনীয়। ফরিদপুরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় থেকে কামারখালী ব্রীজ পর্যন্ত সড়কটির বেশীর ভাগই রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে তৈরী হয়েছে বড় বড় গর্তে । প্রতি নিয়ত শত শত যানবাহন চলাচলের কারনে রাস্তাটির ইট খোয়া উঠে গিয়ে গর্তে পরিমান দিনে দিনে বাড়ছে। তাছাড়া ইতি মধ্যে রাস্তাটির বেশ কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যান বাহনের চলাচল করতে হচ্ছে খুবই সতর্কতার সাথে। প্রতিদিন এ মহাসড়ক দিয়ে ১০ হাজারের বেশী ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। এ মহাসড়কটির বেহালদশার কারনে চরম ক্ষুব্দ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী লাখো মানুষ। সম্প্রতি, কয়েকটি স্থানে মেরামতের জন্য সড়কের পিচ খুড়ে মেরামত না করায় মারাত্বক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। বিশেষ করে ছোট যানবাহন গুলো মাঝে মধ্যেই নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সড়কের পাশ্ববর্তী খাদে পড়ে যাচ্ছে। তাছাড়া প্রতিদিনই গাড়ীর যন্ত্রপাতি ভেঙ্গে সড়কেই পড়ে থাকছে। সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা জানান, তারা গাড়ী চালাতে গিয়ে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। গাড়ীয় নিয়ন্ত্রন ধরে রাখতে তাদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। অনেক সময় গাড়ী নিয়ন্ত্রন হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। তাছাড়া গাড়ীর যন্ত্রপাতি হরহামেশাই নষ্ট হচ্ছে। গাড়ীতে থাকা যাত্রীরা ঝাঁকুনির কারনে অনেক সময় অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন। মহাসড়কের ফরিদপুর অংশের বেশীর ভাগ জুড়েই খারাপ থাকার কারনে স্থানীয়দের চলাচলেও বেশ সমস্যা হচ্ছে। সড়কটি সংস্কারে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা দাবী করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা।
সড়ক বিভাগের ফরিদপুর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এর সাথে এ ব্যাপারে কথা হলে তিনি জানান, সড়কটির প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা মেরামতের জন্য দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়েছে। ৩৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কাজ কিছুটা শুরু হবার পর বৃষ্টির কারনে কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দ্রুত কাজ শুরু করতে পারলে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।

আপনার মতামত লিখুন

রাজশাহী,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ