বৃহস্পতিবার,২২শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং,৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ২:৩১
বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে আসতে অনেকেই আগ্রহী লালমনিরহাটে ইসলামী আন্দোলনে ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ লালমনিরহাটে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলে র‌্যালী ও দোয়া মাহফিল ১০ বছরের পরিবর্তন অব্যাহত রাখাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য শিখা অনির্বাণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা পার্বতীপুরে ছাত্রলীগের কর্মসূচি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

ভিএআরের ভেলকি

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  ক্রিকেটের মতো ফুটবল মাঠেও ঢুকে পড়েছে থার্ড আম্পায়ার প্রযুক্তি। এবারের বিশ্বকাপে ব্যবহার হচ্ছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি তথা ভিএআর। ফিফার ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন নাঈম সিনহা

যেভাবে কাজ করে ভিএআর
ফুটবলের মাঠে ভুল সিদ্ধান্ত কমিয়ে আনতে নতুন যুক্ত হয়েছেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি। এটি মূলত তিন সদস্যের একটি দল, যাঁরা ভিডিও রিপ্লে দেখে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত সংশোধন করে দেন। তিন সদস্যের এই দলে থাকেন একজন প্রধান ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট (যাঁকে বর্তমান কিংবা সাবেক রেফারি হতে হবে), একজন সহকারী ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং একজন রিপ্লে অপারেটর। ভিডিও অপারেশন রুম থেকে মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে বসানো ক্যামেরায় তাঁরা পুরো খেলা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

মূলত চার ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য ভিএআরের সহায়তা নিতে পারবেন মূল রেফারি—গোল কিংবা গোলের বিল্ডআপে কোনো ধরনের অবৈধ ফাউল, পেনাল্টির সিদ্ধান্ত, লাল কার্ড এবং মিসটেকেন আইডেন্টিটি বা ভুল করে নির্দোষ খেলোয়াড়কে কার্ড দেখিয়ে দেওয়া।

রেফারির কোনো সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার বিষয়টি দুই ধাপে সম্পন্ন হয়। নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দেহ থাকলে রেফারি নিজেই ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির দ্বারস্থ হতে পারেন। আবার মাঠের রেফারির কোনো ঘটনা মূল রেফারির চোখ এড়িয়ে গেলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সে ব্যাপারে মাঠের রেফারির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

ধরা যাক, ডি-বক্সের ভেতর ডিফেন্ডারের হাতে বল লেগেছে কি না সে ব্যাপারে মূল রেফারি নিশ্চিত নন। সে ক্ষেত্রে তিনি ভিএআরের সাহায্য চাইতে পারেন। আবার এমন একটি ফাউল হলো, যা রেফারির চোখ এড়িয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। অথচ সেটি শাস্তিযোগ্য ফাউল। সে ক্ষেত্রে ভিএআর মাঠের রেফারিকে জানাতে পারবেন। কোনো গোলের আগে গুরুতর ফাউল রেফারির চোখ এড়িয়ে গেলেও ভিএআরের পরামর্শে গোল বাতিল করতে পারবেন রেফারি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাটা মাঠের রেফারির হাতেই থাকছে। তার হাতে তিনটি অপশন—ভিএআরের কথা শুনে সিদ্ধান্ত বদলাবেন, মাঠের পাশে রাখা মনিটরে রিপ্লে দেখবেন কিংবা ভিএআরের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন।

ফুটবলে ভিএআর ব্যবহারের প্রথম নজির ২০১৬ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের ম্যাচে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রথম ব্যবহার হয় ২০১৭ সালের নভেম্বরে ইংল্যান্ড-জার্মানির প্রীতি ম্যাচে। ফিফা আয়োজিত গত বছরের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ও কনফেডারেশন্স কাপে ব্যবহার করা হয় এই প্রযুক্তি। ২০১৭-১৮ মৌসুমে জার্মানি, ইতালি ও পর্তুগিজ লিগেও চালু হয়েছে ভিএআর। এবারের বিশ্বকাপেও একটি ভিএআর টিম ৬৪টি ম্যাচের দায়িত্বে আছে। গ্রুপ পর্বে গত ১৬ জুন ফ্রান্স-অস্ট্রেলিয়ার খেলায় প্রথম ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়। ফ্রান্স সেখানে পেনাল্টি পায়।

গ্রুপ পর্বের খেলায় ৩৩৫টি ঘটনা ভিএআরের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে।

ভিএআরে বিপত্তি
ভিএআর নিয়ে বড় আপত্তি হলো, ফুটবলের যে স্বাভাবিক ছন্দ, সেটি ব্যহত হয় এতে। গোল হওয়ার পরও ভিএআরের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আরেক সমস্যা হলো, এতে দর্শকরা অন্ধকারে থাকেন। রেফারির সঙ্গে ভিএআরের কী কথাবার্তা হচ্ছে, সেটি তাত্ক্ষণিকভাবে জানতে পারেন না কেউ। এর একটি দুর্বলতা হলো, গোললাইন টেকনোলজির মতো এটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর নয়। বেশির ভাগ সিদ্ধান্ত মানুষের চোখের ওপরই নির্ভর করে। পেনাল্টি কিংবা অফসাইডের মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর ক্ষেত্রে তাই ভুলের আশঙ্কা থেকেই যায়।

সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ