বুধবার-২৪শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং-১১ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ২:২২
চন্দনারানীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পূঁজা উৎযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ চন্দ্র সাহা গাইবান্ধায় মন্দির ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ গাইবান্ধায় অটোবাইকের ধাক্কায় আহত যুবকের মৃত্যু কামারপাড়া ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ঘেঁষে তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন গ্রামীণ জনপদে সুইমিং পুল, রিসোর্ট- বাঘ, হরিন, হাতি, পাখির স্ট্যাচুসহ বিভিন্ন রাইড ও খেলনা বিনোদন প্রেমীদের জন্য ফারিহা গার্ডেন মনির হোসেন.বরিশাল ॥ দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক পথে প্রথম সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন চার মুক্তিযোদ্ধা বরিশালে বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের

ভারতের ভোট নিয়ে এক ডজন প্রশ্ন

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: পুলওয়ামায় পাকিস্তানের হামলার পর ভারতীয় বিমানবাহিনীর বালাকোট আক্রমণে গোটা ভারতে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে তার প্রভাব কি এবারের লোকসভা নির্বাচনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় বিজেপি ধরে রাখতে পারবে? বালাকোট আক্রমণ হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। ভোট পর্ব শুরু হচ্ছে এপ্রিলের ১১ তারিখ থেকে। পাকিস্তানের পর পাল্টা হামলায় ভারতজুড়ে জাতীয়তাবাদের সাংঘাতিক প্রচার শুরু হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন, ওই ঘটনা ধারায় ভোটারদের অ্যাড্রিনালিন হরমোনের নিঃসরণ কি এত দিন ধরে হবে? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এখনো পাকিস্তানবিরোধী প্রচার চালাচ্ছেন। বিজেপি সূত্র বলছে, যেকোনো কারণেই হোক পাকিস্তান বিরোধিতা ভারতের ভোটে সব সময়ই খুব জনপ্রিয় হয়ে যায়।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ডিফেন্স অ্যাফেয়ার্স ভারতীয় মিগের পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি নস্যাৎ করে দেয়। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো এ দাবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে খণ্ডন করেনি। বিজেপি নেতারা অবশ্য বলছেন—এসব কূটকচালের কোনো নেতিবাচক প্রভাব ভারতের আমজনতার ওপর নেই। হতে পারে, শহুরে অভিজাত মহলের একাংশের মধ্যে এ ধরনের সংবাদে সংশয় বাড়বে, কিন্তু তাদের সংখ্যা খুবই সামান্য। এই বিশাল গণতন্ত্রের দেশে মূল বিষয় হলো দেশাত্মবোধ। যারা ভারতীয় সেনার সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে তাদের পাকিস্তানের চর বলে মনে করতে পারে আমজনতা।

ভারতের এবারের নির্বাচন নিয়ে ভোটার ও বিশ্লেষকদের মনে জাগা ১৩টি প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

দ্বিতীয় প্রশ্ন

কংগ্রেসের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার বিজেপি ইশতেহার প্রকাশ করবে। বিজেপি অপেক্ষা করছিল কংগ্রেসের ইশতেহারে কী বলা হয় তার জন্য। রাহুল গান্ধীর ঘোষণার জবাব দিতে চায় দলটি। এবারের ভোটে প্রশ্ন হলো, জাতীয়তাবাদী ঝড়ের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ইশতেহারের দারিদ্র্য মোচন, কৃষক দরদ এবং সমাজের নিম্নবর্গের উন্নয়নের আলেখ্য কি সাধারণ ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে? একদিকে রাষ্ট্রবাদ আর অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক অবক্ষয়। সফল হবে কোন প্রচার?

তৃতীয় প্রশ্ন

প্রচার কৌশলে নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপিকে টেক্কা দিতে কি সক্ষম হবে রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস? ২০১৪ সালে ভোট প্রচারের সময় রাহুলের সম্যক ধারণা হয়েছিল তিনি মোদি নামক এক জ্যামিতিক পরাবাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করছেন। এখন ২০১৯ সালে এসে রাহুল আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন মোদি বিরোধী প্রচারেও কংগ্রেস কিন্তু অনেক সক্রিয়। হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ব্লগ ও ডিজিটালের নানা মাধ্যমে রাহুল গান্ধীর প্রচার বেশ ঝড় তুলছে। কিন্তু এবার ভোটের আগে ভারতে এসেছে বেশ কিছু নতুন চ্যানেল। এর মধ্যে একটির নাম ন্যামো। এই সরকারি চ্যানেলে মোদির অতীতের সব সভা ও নানা বক্তব্য দেখানো হয়। বিরোধীরা বিশেষ করে কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে ভোটের আগে এ ধরনের সরকারি চ্যানেল প্রতিষ্ঠার তীব্র বিরোধিতা করেছে। নির্বাচন কমিশন তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে নোটিশ পাঠিয়ে জানতে চেয়েছে, কেন এই চ্যানেল চালু করা হলো? এতে কি কংগ্রেসের পক্ষে হাওয়া উঠবে?

চতুর্থ প্রশ্ন

২০১৪ সালের ভোটে বিজেপি পেয়েছিল ২৮২ আসন। বিজেপি একাই সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল ফলে বাজপেয়ি জমানায় যে এনডিএ সংস্কৃতি ছিল তা গত পাঁচ বছরে দেখা যায়নি। ফলে আকালি দলের (পাঞ্জাব) মতো শরিক দলগুলোর সঙ্গে বিজেপির সম্পর্কের অবনতি হয়। কিন্তু মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড় প্রভৃতি রাজ্যে বিগত বিধানসভা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর বিজেপিরও মনে হয়েছে শরিকদের সঙ্গে সংঘাত মিটিয়ে নিতে হবে। এ কারণে এবারের ভোটপর্বের আগে বিজেপি শিবসেনার সঙ্গে সংঘাত মিটিয়ে নিয়েছে। উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্যে বিজেপি গতবার যা আসন পেয়েছিল তা ‘ম্যাক্সিমাম’। মানে কার্যত প্রায় সব আসন বিজেপি করায়ত্ত করে। তাহলে এখন প্রশ্ন এবার আসন বাড়বে কোথা থেকে। তার মধ্যে মায়াবতী এবং সমাজবাদী পার্টির আঁতাত হওয়ায় তো বিজেপির আসনসংখ্যা কমবে বই বাড়বে কী করে?

পঞ্চম প্রশ্ন

‘মহাগঠবন্ধন’ শব্দটি এবারের লোকসভা ভোটে খুবই জনপ্রিয়। শব্দটির মানে মহাজোট। এবার ভোটের আগে মোদিবিরোধী সব রাজনৈতিক দল একত্র হয়ে মহাজোট করার চেষ্টা হয়। ভারতের ইতিহাসে অতীতে ১৯৭৭ সালে, ১৯৮৯ সালে কংগ্রেসবিরোধী মহাজোট যে হয়নি তা নয়। বরং এ দেশে কখনো কংগ্রেস বিরোধিতার ঝড় দেখা গেছে আবার বিজেপি বিরোধিতার ঝড়ও তৈরি হয়। কিন্তু এবার ভোটে না আঞ্চলিক দলগুলো সর্বস্তরে একত্র হতে পারল, না কংগ্রেস-সিপিএম অথবা তৃণমূল কংগ্রেসের মতো দলের সঙ্গে জোট করল বা করতে পারল। উল্টো আমেথি কেন্দ্রে রাহুলের বিরুদ্ধে মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে কেরালায় রাহুলের বিরুদ্ধে আছেন কমিউনিস্ট সিপিআই প্রার্থী। তাহলে মোদি বিরোধিতার তীব্রতা কোথায়?

ষষ্ঠ প্রশ্ন

লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলিমনোহর যোশী এমনকি সুমিত্রা মহজনের মতো লোকসভার সাবেক স্পিকারকে প্রার্থী না করার ফল কী হবে? কী প্রতিক্রিয়া হবে ভোটারদের ওপর? মনে হতে পারে যে মোদি-অমিত শাহ গুরুত্ব দিচ্ছেন না প্রবীণ নেতাদের? রাহুল তো টুইট করে বলেছেন যে মোদি-অমিত শাহ আদভানিকে জুতো মেরে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু রাহুলের এই মন্তব্যকেও বিজেপি কর্মীরা ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। সুষমা স্বরাজ বলেছেন, আদভানির নামে খারাপ ভাষা প্রয়োগ করা অনুচিত। রাহুল চাইছেন পরিস্থিতির ফায়দা গ্রহণের। কিন্তু বিজেপি জবাবে বলছে, আদভানির বয়স এখন ৯২। এ বয়সে তিনি নিজেই ভোট লড়তে চাননি। কিন্তু কংগ্রেসের সমালোচনা থেমে নেই। ফ্লিমস্টার শত্রুঘ্ন সিনহা বিজেপি থেকে কংগ্রেসে যোগ দিয়েই শনিবার বলেছেন, বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে বলতে হচ্ছে বিজেপি প্রবীণদের মর্যাদা দিচ্ছে না। বিজেপি জবাবে বলছে, ৭৫ বছর বয়স হয়ে গেলে তাঁকে আর আমরা প্রার্থী করতে চাই না। নবীন প্রজন্ম আসবে কী করে যদি প্রবীণরা অবসর না নেন? এই তর্কবিতর্কের প্রভাব কি ভোটে পড়বে?

সপ্তম প্রশ্ন

মোদির জীবন নিয়ে হঠাৎ এক চলচ্চিত্র বানানো হয়েছে। এই ফিল্ম নিয়ে এখন অনেক বিতর্ক। মোদির চরিত্রে ছবিতে অভিনয় করেছেন বিবেক ওবেরয়। কিন্তু তিনি গুজরাটে বিজেপির তারকা প্রচারক। প্রশ্ন উঠেছে বিবেক ওবেরয় কি অভিনেতা নাকি মোদির বংশবদ। বিবেক  ওবেরয়কে প্রশ্ন করা হয় আপনি কি রাহুল গান্ধীর চরিত্রে অভিনয় করবেন? জবাবে বিবেক বলেছেন, রাহুল কী এমন কাজ করেছেন যার জন্য তাঁর জীবন নিয়ে ছবি হবে? কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছে—এই ফিল্ম নির্বাচন বিধি ভঙ্গ করছে। ছবিটিতে মোদিকে মহান চরিত্রের মানুষ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রশ্ন এই ছবির নির্মাণ ভোট প্রচারে সরকারের পক্ষে যাবে না বিপক্ষে?

অষ্টম প্রশ্ন

যদি উত্তর প্রদেশ তথা অন্য হিন্দি বলয়ের রাজ্য এবার জাতপাতের সমীকরণে বিজেপির সমস্যা হয় তবে শুধু পাকিস্তান বিরোধিতা, শক্তিশালী রাষ্ট্র ও হিন্দুত্বের নামে কি ভোট বৈতরণী পার হতে পারবেন মোদি। দলিত নিম্নবর্ণ ও নানা পশ্চাৎ বর্গের (ওবিসি) মানুষ কি বিজেপির ভোট ব্যাংক? অখিলেশ যাদব ভোট এবং মায়াবতীর (ওবিসি ভোট) মিলনে বিজেপির ওই ভোটব্যাংকে ধাক্কা লাগতেই পারে। এবার ভোটে ধর্মকে যতই বিজেপি মূলধন করুক, উত্তর প্রদেশে অখিলেশ-মায়াবতী জোট গঠন করায় বিজেপি সেই ভোটব্যাংক জয় করতে সমস্যায় পড়বে কি না সেটা বড় প্রশ্ন।

নবম প্রশ্ন

মোদি শাসনকে কেন্দ্রীভূত করেছেন। রাজ্য স্তরে স্বাতন্ত্র্য খর্ব হয়েছে। তবে কী আঞ্চলিক দলগুলো নানা রাজ্যে কেন্দ্রবিরোধী প্রচার করে না? করছে। চন্দ্রবাবু নাইডু অথবা মমতাদের এই যুক্তি কি সাফল্য পাবে?

দশম প্রশ্ন

মোদি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বলেছিলেন, না ‘খায়ুঙ্গা না খানে দুঙ্গা’। মানে দুর্নীতি হতে দেব না। কিন্তু রাহুল রাফাল ও অন্যান্য দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার। কিন্তু মোদি নিজে চুরি করেছেন এমন কোনো প্রমাণ নেই। বরং বিজেপি প্রচার করছে যে মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দিল্লি মসনদের দুর্নীতি সর্বস্তরে বন্ধ করে দিয়েছেন। কাজেই এবার দুর্নীতিবিরোধী প্রচারে কাজ হবে কিনা সে প্রশ্ন থাকছে।

একাদশ প্রশ্ন

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবার ভোটের প্রচারণায় অবতীর্ণ হয়েছেন দাদাকে সাহায্য করতে। প্রিয়াঙ্কার আবির্ভাব মোদিকে বিপদে ফেলতে পারে?

দ্বাদশ প্রশ্ন

বিজেপি কি এবারও অনুপ্রবেশ কিংবা রামমন্দির নির্মাণ নিয়ে গর্জন করবে ইশতেহারে?  সেটা হলে সেই প্রচার কি অতিরিক্ত সাহায্য করবে বিজেপিকে?

সর্বশেষ প্রশ্ন

উত্তর প্রদেশ তথা হিন্দি বলয়ের পর এবার পশ্চিমবঙ্গ ওড়িশা বা উত্তর পূর্বাঞ্চল থেকেও বাড়তি আসন কি পাবে বিজেপি। এসব এলাকায় বিজেপি বাড়ছে। ভোটের শতকরা হার ভাঙতে পারে, কিন্তু আসনও কি পাবে ক্ষমতাসীন দলটি?সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ