শুক্রবার-১৯শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং-৬ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১০:১৪
পঞ্চগড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত বিশ্বকাপে নতুন যে অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামবেন মোস্তাফিজ ফের বিয়ের পিঁড়িতে শ্রাবন্তী ? নুসরাত হত্যায় অর্থ লেনদেন, তদন্তে সিআইডি হাত ও মুখের সাহায্যে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে প্রতিবন্ধী বাবুল ১০ টাকায় টিকিট কেটে চিকিৎসাসেবা নিলেন প্রধানমন্ত্রী ব্রীজটির আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন

ব্রিটেনের ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা

3 months ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে এবার আস্থা ভোটের সামনে দাঁড়িয়ে। ফলে আগামী ২৯ মার্চ চুক্তিসহ নাকি চুক্তি ছাড়া ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগ করবে, এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা প্রভাব ফেলবে দেশটির অর্থনীতিতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো চুক্তি ছাড়া ব্রিটেন ইইউ ত্যাগ করলে বড় অঙ্কের আর্থিক লোকসান গুনতে হবে। এ নিয়ে শঙ্কিত বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরা।

ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি মুডিস এক বিবৃতিতে জানায়, ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে সংসদে ভোটের ফলাফল তা আরো দীর্ঘায়িত করবে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, যদি একটি যথাযথ চুক্তি ছাড়া যুক্তরাজ্য ইইউ ত্যাগ করে তবে ব্রিটিশ অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হবে। এক বিবৃতিতে ব্রিটেনের সোসাইটি অব মোটর ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স জানায়, ‘কোনো চুক্তি ছাড়া আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ীক অংশীদার ইইউ ত্যাগ করলে এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং চাকরিও ঝুঁকিতে পড়বে।

এরই মধ্যে গত নভেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে এসেছে। বাণিজ্য যুদ্ধ ও ব্রেক্সিট ইস্যুতে ম্যানুফ্যাকচারার্স খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যানস স্যাকস এক নোটে জানায়, ‘আমরা আশঙ্কা করছি চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’

এ চুক্তিতে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো—ইইউ ছেড়ে গেলে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের কী হবে? ইইউ দেশগুলোতে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ও কম্পানিগুলো কী ধরনের সুবিধা পাবে। কোনো চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট হওয়ার অর্থ হলো ব্রিটেনকে রাতারাতি বিচ্ছেদের প্রস্তুতির কোনো সময় ছাড়াই সম্পর্ক ছেদ করতে হবে। কোন খাতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে আর তা মোকাবেলায় কী করতে হবে, সেটি বোঝার কোনো সময় পাবে না যুক্তরাজ্য।

ব্যবসা-বাণিজ্যে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। যেমন—ইইউর সদস্য দেশগুলোতে যাঁরা ব্যবসা করছেন তাঁদের জন্য বাড়তি আমদানি-রপ্তানি কর আরোপ হতে পারে। কৃষকদের জন্য কর ৬০ শতাংশ হতে পারে। ব্রিটেন যেসব বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ইইউ দেশগুলোতে নানা সুবিধা পাচ্ছিল, সব সুবিধা হারাবে। ইইউর দেশগুলোর সবার সঙ্গে নানা ইস্যুতে তাকে আবার দেনদরবার করে নতুন চুক্তি করতে হবে। সেগুলো করতে হবে আলাদা আলাদা করে। ব্রেক্সিটের বিপক্ষের অনেকেই মনে করেন, হঠাৎ এভাবে বের হয়ে গেলে ব্রিটেনে বিভিন্ন পণ্যের সংকট দেখা দেবে। পণ্যের দামও বাড়বে, যা কম খরচে ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে আসত।

এর আগে এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, ব্রিটেন যদি নিজেদের অনুকূলে যথাযথ ব্রেক্সিট চুক্তি করতে না পারে তবে ২০১৮ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি কমে হবে প্রায় ১.৫ শতাংশ এবং ২০১৯ সালেও একই থাকবে, যা জার্মনি ও ফ্রান্সের চেয়ে কম হবে। আইএমএফের এমডি ক্রিস্টিন লাগার্দে বলেন, ‘আমি আশাবাদী, খুব বেশি আশা করছি এবং প্রার্থনা করছি যেন ইইউ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। যদি চুক্তি করতে ব্যর্থ হয় তবে অর্থনীতি নিশ্চিতভাবে সংকুচিত হবে।’ লাগার্দে আরো বলেন, ‘আমি বিষয়টি স্পষ্ট করছি। ব্রিটেন এখন যে একক বাজারের সুবিধা উপভোগ করছে, ব্রেক্সিট হয়ে গেলে তা আর পারবে না। সে ক্ষেত্রে অর্থনীতিতে খরচ বেড়ে যাবে। কারণ তখন বাণিজ্য আর সরাসরি থাকবে না। ফলে নতুন সম্পর্কে বাণিজ্যিক বাধা যত থাকবে খরচও তত বাড়বে। রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি, সিএনএন মানি।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ