শুক্রবার-১৯শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং-৬ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১০:২১
পঞ্চগড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত বিশ্বকাপে নতুন যে অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামবেন মোস্তাফিজ ফের বিয়ের পিঁড়িতে শ্রাবন্তী ? নুসরাত হত্যায় অর্থ লেনদেন, তদন্তে সিআইডি হাত ও মুখের সাহায্যে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে প্রতিবন্ধী বাবুল ১০ টাকায় টিকিট কেটে চিকিৎসাসেবা নিলেন প্রধানমন্ত্রী ব্রীজটির আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন

ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে তোড়জোড়

3 months ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে তোড়জোড় শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীরা যাতে একই ছাদের নিচে সব ধরনের সেবা পায়, তার জন্য এ মাসের মধ্যেই ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) চালু করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিডা) তাগিদ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে এমন নির্দেশনা পাওয়ার পর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সেবাদানকারী বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে টানা বৈঠক করছে বিডার কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি সেবা দেওয়া চালু হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে অথবা আগামী মাসের প্রথম দিকে উদ্যোক্তাদের ২০ ধরনের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিডার কর্মকর্তারা। ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে বাস্তবায়নকারী সংস্থা বিজনেস অটোমেশন কম্পানির কাজেও গতি এসেছে। ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হলে একজন ব্যবসায়ী বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। অফিসের সময়েই আবেদন করতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই। দিনে-রাতে যেকোনো সময় অনলাইনে আবেদন করা যাবে। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ওই উদ্যোক্তার কী কী সেবা দরকার তা চলে যাবে সংশ্লিষ্ট সেবা দানকারী সংস্থায়। নির্দিষ্ট দিনের মধ্যেই সংস্থাকে ওই সেবা দিতে হবে।

বিডার পরিচালক তৌহিদুর রহমান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করছি। তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। আমরা আশা করছি, এ মাসের মধ্যেই ব্যবসায়ীদের একই ছাদের নিচে ২০ ধরনের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। ধীরে ধীরে অন্য সেবাও দেওয়া হবে।’

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে পদে পদে হয়রানির শিকার হয়ে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল একই ছাদের নিচে সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করতে। দুই বছর ধরে বিডার কর্মকর্তারা ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করার উদ্যোগ নিলেও বিভিন্ন সংস্থার অসহযোগিতার কারণে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন বছরের শুরুতে, নতুন সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই ধরনের নির্দেশনার মাধ্যমে কঠোর বার্তা পাঠানো হয়েছে সেবা দানকারী সংস্থাগুলোর কাছে। যত দ্রুত সম্ভব ওএসএস সেবা চালু করতে বিডাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বাস্তবায়ন বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এই মাসের মধ্যেই বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করতে চাই। ৫ জানুয়ারি পাঁচটি সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছি। আশা করছি, ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া দেশে বিনিয়োগ করতে পারবে।’

বিশ্বব্যাংকের সবশেষ ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে দেখা গেছে, ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৭৬তম। এক বছরের ব্যবধানে মাত্র এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে। এমনকি বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে আফগানিস্তান। অথচ বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশকে এক অঙ্কের ঘরে অর্থাৎ ৯৯তম অবস্থানে নিয়ে আসা হবে। দেশের ব্যবসার পরিবেশ এখন যে অবস্থানে আছে এভাবে চলতে থাকলে তাতে আগামী দুই বছরে এক অঙ্কের ঘরে আনা অসম্ভব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। মোটা দাগে ১০টি মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে ব্যবসা সহজীকরণ সূচক তৈরি করে বিশ্বব্যাংক। এগুলো হলো ব্যবসা শুরুর অনুমোদন, ভবন নির্মাণের অনুমতি, বিদ্যুৎ সংযোগ, সম্পত্তি নিবন্ধন, ঋণপ্রাপ্তি, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, কর প্রদান, বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন এবং দেউলিয়া হওয়ার ব্যবসার উন্নয়ন সহজীকরণ।

বিডার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করার কথা ছিল বিডার। কিন্তু নানা জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। অবশ্য সেবা দেওয়ার কার্যক্রম সহজ করতে এরই মধ্যে সাতটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছে বিডা। আপাতত যেসব সেবা দিয়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেওয়া শুরু হবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন), পরিবেশ ছাড়পত্র, ভিসা সুবিধা, বিদেশিদের কাজের অনুমতি। এ ছাড়া জমির দলিল ও ইজারা চুক্তিনামা নিবন্ধন, নামজারি, অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতিও দেওয়া হবে ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি প্রকল্প নিবন্ধন, শিল্প-কারখানার গ্যাস সংযোগ, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ, অফিসের নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স সেবাও দেওয়া হবে একই ছাদের নিচে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি দ্রুততার সঙ্গে পরিবেশ ছাড়পত্র দিতে এরই মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে বিডা। সাত দিনের মধ্যে প্রকল্পের ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরও।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা), বিডা, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আলাদা আলাদাভাবে বিনিয়োগকারীদের সেবা প্রদান করবে। সে জন্য তাদের নিজস্ব আইনের ওপর ভিত্তি করে এরই মধ্যে আলাদা আলাদা বিধিমালা তৈরির কাজও শেষ হয়েছে। বিধিমালা নিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আন্ত মন্ত্রণালয় সভা হয়েছে।

বেজার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এক সংস্থার সঙ্গে আরেক সংস্থার কাজের মিল-অমিল দুটিই আছে। সে জন্য আলাদা আলাদা বিধিমালা করা হয়েছে। যাতে করে প্রতিটি সংস্থা তাদের বিধিমালার আলোকে কাজ করতে পারে। সারা দেশে যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হবে, বিনিয়োগকারীরা সেখানে বিনিয়োগ করতে চাইলে বেজার নিজস্ব বিধিমালা অনুসরণ করা হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে সারা দেশে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করতে চাইলে তাকে বিডার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। একই সঙ্গে বিডার নিজস্ব বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে। প্রযুক্তি নিয়ে কেউ বিনিয়োগ করতে চাইলে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বিধিমালা অনুসরণ করা হবে। বেপজার জন্য তৈরি করা বিধিমালার আলোকে দেশের আটটি ইপিজেডের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ