শনিবার,২২শে জুলাই, ২০১৭ ইং,৭ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ১০:৫১

পদত্যাগ করলেন হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সিন স্পাইসার আজ সকালে হজ ক্যাম্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী সুন্দরগঞ্জে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ নাটোরে জাতীয় শিক-কর্মচারী ঐক্য ফ্রন্টের মানববন্ধন ফকিরহাটে পৃথক অভিযানে গাজা সহ আটক-২ রাজধানীতে এপিবিএন-৫ এর অভিযানে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল, ইয়াবা উদ্ধারসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক নাটোরে ট্রেনের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু

বিদেশি সহায়তার লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব!

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭২০ কোটি ডলার বিদেশি সহায়তা পাওয়া যাবে। এমন হিসাব করেই বাজেট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই উচ্চাভিলাষী বিদেশি সহায়তা পাওয়ার পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বর্তমানে প্রতিবছর গড়ে যে পরিমাণ বিদেশি সহায়তা পাওয়া যায়, তা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যের অর্ধেক। এর মধ্যে খারাপ খবর হলো বিদায়ী অর্থবছরে আগেরবারের চেয়ে বিদেশি সহায়তা ছাড় কমে গেছে। তাই বিপুল বিদেশি সহায়তার লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদেরা।

বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৩৯ কোটি ডলারের বিদেশি সহায়তা এসেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৭ কোটি ডলার কম। আগের অর্থবছরে (২০১৫-১৬) ৩৫৬ কোটি ডলার ছাড় করেছিল দাতারা। কোনো একক অর্থবছরে সেটাই ছিল সর্বোচ্চ অর্থ ছাড়।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বিদায়ী অর্থবছরের সাময়িক হিসাব চূড়ান্ত করেছে। গত অর্থবছরে সব মিলিয়ে সাড়ে ছয় শ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দাতারা। বছর শেষে প্রতিশ্রুতির অর্ধেক অর্থ পাওয়া গেছে। ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) দাতারা ঋণ হিসেবে ৩০৬ কোটি ৪৪ লাখ ডলার এবং অনুদান হিসেবে ৩৩ কোটি ১৬ লাখ ডলার দিয়েছে। আগের অর্থবছরে (২০১৫-১৬) ছাড় করা অর্থের মধ্যে ঋণ সহায়তা ছিল ৩০৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, আর অনুদান ছিল ৫৩ কোটি ডলার।

অন্যদিকে বিদেশি সহায়তার দায় পরিশোধও বেড়েছে। ইআরডির তথ্যমতে, বিদায়ী অর্থবছরে দাতাদের দায় (আসল ও সুদ) পরিশোধ করতে হয়েছে ১১৪ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। এর মধ্যে আসল হিসেবে ৯১ কোটি ৩৩ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। আর ২৩ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছে সুদ বাবদ।

বিদেশি সহায়তা ব্যবহার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, চলতি অর্থবছরে ৭২০ কোটি ডলারের বিদেশি সহায়তা পাওয়ার যে লক্ষ্য ধরেছে সরকার, তা অর্জন করা সম্ভব হবে না। এত বিদেশি সহায়তা ব্যবহারের দক্ষতাই তৈরি হয়নি। অতীতেও কোনো বছরে এত বিদেশি সহায়তা কখনো আসেনি। বিদেশি সহায়তা ব্যবহারের অন্যতম সমস্যা হলো সরকারের সঙ্গে দাতা সংস্থা ও দেশের সমন্বয়ের অভাব। সেটি এক দিনে দূর করা সম্ভব হবে না।

জানা গেছে, একটি দেশের জন্য যে পরিমাণ বিদেশি সহায়তা পাইপলাইন আছে, এর ২০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারলে পারফরম্যান্স ভালো হিসেবে ধরা হয়। পৃথিবীতে এমন দেশ গুটিকয়েক আছে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশে পাইপলাইনে বিদেশি সহায়তার পরিমাণ ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেই প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এই অর্থ দেবে রাশিয়া। আর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল কাজ এখনো শুরু হয়নি; প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। তাই আগামী অর্থবছরে এই প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড়ের সম্ভাবনা কম। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র বাদ দিলে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাইকাসহ বড় দাতাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাইপলাইনে আছে ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার থেকে ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। এই পাইপলাইনের যদি ২০ শতাংশও চলতি অর্থবছরে পাওয়া যায়, তা-ও ৫০০ কোটি ডলারের বেশি হবে না।

গত কয়েক বছরের বিদেশি সহায়তা প্রাপ্তির চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত সাত অর্থবছরের ব্যবধানে বিদেশি সহায়তার অর্থ ছাড় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৭৭ কোটি ডলার দিয়েছিল দাতা দেশ ও সংস্থাগুলো। গত অর্থবছরে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে সাড়ে তিন শ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ