বৃহস্পতিবার,২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং,৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১২:৫৩

শাবিপ্রবিতে ‘মেকানিক্যাল ইননোভেশন’ শুরু ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৫:৪১ জাবি ছাত্রলীগের হল কমিটি হবে কবে? জবিতে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার চার দিনের দিবারাত্রির টেস্ট! আরো ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের আরো বিকাশ জরুরি মান্দায় দত্তক নেয়া নবজাতককে বিক্রির পায়তারা করছেন কিনিক মালিক

বাঞ্ছারামপুরে চামড়া নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

 মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: কোরবানি ঈদের ২ সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বিপুল পরিমাণ পশুর চামড়া অবিক্রিত। বিভিন্ন প্রকারের মজুদ থাকা ও ভালো মূল্য না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার বুধাইরকান্দি, সোনারামপুর, রুপুসদী, ফরদাবাদ, তেজখালী, আছাদনগর, উজানচরসহ বাঞ্ছারামপুর সদর উপজেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পর আজ পর্যন্ত কোন পাইকার ঢাকা বা নারায়নগঞ্জ থেকে চামড়া কিনতে আসে নি। ফলে প্রতিদিন লবন দিয়ে চামড়া আবাসিক এলাকায় রাখার ফলে পরিবেশ নষ্ট ও দূর্গন্ধ হচ্ছে। যে কারণে, এলাকাবাসীর তোপের মুখে পানির দামে বা ‘যেন-তেন’ কম মূল্যে মুজদকৃত চামড়া বিক্রি করে দিতে তীর্থের কাকের ন্যয় বসে আছেন তারা।

বৃহত্তর কুমিল্লার দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার মোকাম বাঞ্ছারামপুরস্থ বুধাইরকান্দির মেসার্স ছিদ্দিক লেদার হাউসে ঈদের দিন বিকেল থেকে অল্প পরিমাণে কাঁচা চামড়া আসা শুরু হয়। গত শুক্রবার পর্যন্ত বিশাল পরিমান চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা অবস্থায় মুজদ রয়েছে। এদিকে, বহু চামড়া ব্যবসায়ী জানান, মূল্যবৃদ্ধির আশায় থেকে থেকে তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ‘গোঁদের উপর বিষফোঁড় হয়ে দেখা দিয়েছে লবনের মূল্য বৃদ্ধি।

জানা যায়, আড়তদাররা আকারভেদে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত দরে  কাঁচা চামড়া কিনেছেন।

তবে মাঝারি আকারের চামড়ার মূল্য ৭০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে, সেগুলোই বেশি কিনছেন তারা। সংগৃহীত কাঁচা চামড়া কেনার পরপরই লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে লবণের দাম বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে চামড়া ব্যবসায়ীদের। চামড়ার ক্রয়মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত সংরক্ষণ খরচ বহন করতে হচ্ছে তাদের। এসব চামড়া বিক্রির সময় লোকসানের ঝুঁকিতে পড়তে হলো ঈদের ২ সপ্তাহ পরও চামড়ার মূল্য বৃদ্ধি না পাওয়ায়।

বাঞ্ছারামপুর এর বুধাইরকান্দির প্রবীণ চামড়া ব্যবসায়ী ও আড়ৎদার মো. ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমি এতোটাই লোকসান দিচ্ছি যে, মুখে বলা সম্ভব নয়। ১৫দিন অপেক্ষা করে ঢাকা থেকে কোন চামড়ার পাইকার না আসায় শেষমেষ বাধ্য হয়ে নিজের টাকায় ট্রাক ভাড়া করে পুরান ঢাকার পোস্তগোলায় হাজার খানেক চামড়া আজ পাঠিয়ে দিচ্ছি। সেখানে যা মূল্য পাবো, তাতেই বিক্রি করে দেবো।’

সোনারামপুৃরের চামড়া ব্যবসায়ী মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘কি বলবো, চামড়া কেউ কিনতে আসে নাই বিধায় গত সপ্তাহে কিছু চামড়া তিতাস নদীতে মনের দু:খে ভাসিয়ে দিয়েছি। কারন, এগুলো থাকলে দৈনিক লবণ দিতে হতো। এ ছাড়া আমার লক্ষাধিক টাকার চামড়া পঁচে গেছে। চামড়ার ব্যবসা ছেড়ে দিবো’।

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ