বৃহস্পতিবার,১৯শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং,৬ই মাঘ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ২:১৯
মেধাবীদের ডিও লেটার দেবে সরকার পাঁচবিবিতে ঢেউটিন, নগত অর্থ বিতরণ চিরিরবন্দরে ইয়াবাসহ যুবক আটক গাজীপুরে ট্রাক উল্টে দুই শিশু নিহত দিনাজপুরে বিজিবির কম্বল বিতরণ দিনাজপুরে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক দিনাজপুরে পিস্তল ও গুলিসহ ১ ব্যক্তি গ্রেফতার

বাংলাদেশের মাটিতে তাদের বিচার হওয়া উচিত : প্রধানমন্ত্রী

pm-al_32244মুক্তিনিউজ24.কম ডেস্ক: যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকদের সবচেয়ে বড় অপরাধী ও রাজাকার হিসেবে বর্ণনা করে এদের বিচারে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছে, তাদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছে এবং ভোট চুরি করে যারা বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সংসদে বসিয়েছে তারাই সবচেয়ে বড় অপরাধী ও রাজাকার। তিনি বলেন, তারা মানবতাবিরোধী এবং বাংলাদেশের মাটিতে তাদের বিচার হওয়া উচিত। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ, কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি এবং সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যৌথসভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি যারা যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত। তিনি বলেন, তারা কেন যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছে … তারা জানত যে এ আল-বদর ও রাজাকাররা জনগণকে নির্যাতন করেছে, তাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং গণহত্যা চালিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর নিজের গ্রামে স্বাধীনতা বিরোধীদের নির্যাতন ও লুটপাটের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘রাজাকার-আলবদর আমাদের গ্রামের বাড়িতে বারবার হামলা চালিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের শহর ও গ্রামের সব জায়গায় তাদের লুটপাট চালানোর দৃশ্য ছিলো একই। কিন্তু আমার প্রশ্ন একটি গোষ্ঠী কেন তাদের জন্য মায়া কান্না করছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বজন হারানোদের যন্ত্রণা ও দুঃখ অন্যদের চেয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বেশি অনুভব করেন। তিনি বলেন, তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে এবং আমরা অবশ্যই তাদেরকে সে অধিকার দেবো। তিনি বলেন, তাঁর সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে, যাতে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বজন হারানো মানুষগুলো ন্যায় বিচার পেতে পারেন। তিনি বলেন, কিন্তু একটি গোষ্ঠী দোষী সাব্যস্ত হওয়া যুদ্ধাপরাধীদের জন্য মায়া কান্না করছে। তিনি বলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহর রহমতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ গত ৬ সেপ্টেম্বর একজন যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয় এবং এর ফলে দেশ অভিশাপ থেকে মুক্ত হচ্ছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পটভূমি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষ, বুদ্ধিজীবী, সংখ্যালঘু স¤প্রদায় ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিলো এবং পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে মা-বোনদের তুলে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, কিন্তু সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান সামরিক আইন অধ্যাদেশের মাধ্যমে সেই বিচার স্থগিত করে দেয় এবং জেলে থাকা সেই চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দিয়ে পুনর্বাসন করেছিলো। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশকে কলঙ্ক থেকে মুক্ত করতে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করে ছিলো সেই সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু করেন।
মহাজোট নেতা বলেন, যে সব দেশ যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করেছে, সেই সব দেশে এ ধরনের বিচার হয়েছে। ‘কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা হত্যা, ধর্ষণ এবং লুটপাটে জড়িত ছিলো তাদের জন্য একটি গোষ্ঠী মায়া কান্না করছে। তিনি সা¤প্রতিক সময়ে দেশে নিহত জঙ্গিদের পক্ষাবলম্বন করায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, জঙ্গিরা জঙ্গিই হয়, কিন্তু কেন খালেদা জিয়া তাদের (জঙ্গিদের) জন্য মায়া কান্না করছেন … পুড়ে যাওয়া মানুষের জন্য তিনি ব্যথা অনুভব করেন না, কিন্তু জঙ্গিদের জন্য গভীরভাবে তার হৃদয় কাঁদে। জঙ্গিদের সঙ্গে তার কী সম্পর্ক সেটা আমরা খুঁজে বের করবো।
সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ এ ২ দানবের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী শিক্ষক, ছাত্র, পিতা-মাতা এবং অভিভাবকসহ সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরী হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যদি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সফল অপারেশনের মাধ্যমে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের খুঁজে নির্মূল করতে না পারতো, তাহলে তারা আরো বেশি মানুষ হত্যা করতো। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে এবং ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাস বিএনপি-জামায়াত অপশক্তির পুড়িয়ে মানুষ মারা এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি লুটপাটের প্রতি ইংগিত করে তিনি বলেন, যারা এই অপরাধে জড়িত ছিল তাদেরকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।
সংসদ নেতা বলেন, বেগম জিয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত তিনি ঘরে ফিরবেন না। কিন্তু জনগণ তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে তিনি নাকে খৎ দিয়ে ঘরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। তিনি বলেন, যখন তাঁর সরকার দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করে দেশকে একট বিশেষ জায়গায় নিয়ে যাচ্ছিলেন তখনই দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান শুরু হলো। তিনি আরও বলেন, তাঁর সরকার মাত্র ১০ ঘন্টায় গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গিদের হত্যার মাধ্যমে জিম্মি সঙ্কটের সমাধান করতে সক্ষম হয়েছে এবং জীবিত উদ্ধার করা হয় ১৩জন জিম্মিকে। যা বিশ্বের কোনো দেশই এত কম সময়ের মধ্যে এই ধরনের সমস্যার সমাধান করতে পারেনি।
বিএনপি নেতাদের ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচাল করার জন্য এবং ২০১৫ সালে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করার জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারা পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে … আমরা তাদেরকে ফুল-চন্দন দিয়ে বরণ করতে পারি না। তিনি বলেন, যারা মানুষের ওপর অত্যাচার করেছিলো এবং তাদের জীবিকায় বাধাগ্রস্ত করেছে অবশ্যই তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, তাঁর দল এবং তাঁর নেতা-কর্মীরা সবসময় দেশ ও জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করেন। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগের তৃণমূল স্তর থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা-কর্মীরা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে যে বিশাল ত্যাগ স্বীকার করেছেন ‘পৃথিবীর অন্য কোন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের মত এত বড় ত্যাগ স্বীকার করেনি। এবিনিউজ
আপনার মতামত লিখুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


%d bloggers like this: