শনিবার-২৩শে মার্চ, ২০১৯ ইং-৯ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৪:৫৬
লালমনিরহাটে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবী, শিক্ষক-কর্মচারী আতংকে লালমনিরহাটে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবী, শিক্ষক-কর্মচারী আতংকে গাইবান্ধায় বিএনপি মরহুম নেতাদের জন্য শোকসভা ও দোয়া মাহাফিল অনুষ্ঠান খানসামায় বিজ্ঞান মেলার শুভ উদ্বোধন মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল ৬০ সরকারি কর্মকর্তার কলকাতায় কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাতে দুজন নিহত ১০ উপজেলায় সম্পূর্ণ ইভিএমে ভোট, থাকবে সেনা

বছরের শুরু থেকে রাজস্ব ঘাটতি পূরণের কৌশল

3 months ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:চলতি অর্থবছরে গত চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৭ শতাংশের বেশি। নতুন বছরে রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সম্প্রতি এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসে একগুচ্ছ কৌশল চূড়ান্ত করেছেন। যা আগামী রবিবার বিভিন্ন রাজস্ব দপ্তরে পাঠিয়ে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন বছরে রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে এরই মধ্যে কৌশল চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ কৌশলের মধ্যে পুরনো যেসব পদক্ষেপে সুফল পাওয়া গেছে তা চলমান রাখা হয়েছে। যেসব কৌশলে রাজস্ব আদায়ে আশানুরূপ সুফল পাওয়া যায়নি তা সংশোধন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর বলে প্রমাণিত পদক্ষেপ বাদ দেওয়া হয়েছে। এসবের সঙ্গে নতুন পদক্ষেপ যোগ হয়েছে। এভাবে রাজস্ব আদায় বাড়াতে কার্যকর একগুচ্ছ কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। যা বছরের প্রথম ভাগে বিভিন্ন রাজস্ব দপ্তরে পাঠিয়ে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হবে। আশা করি এতে সুফল আসবে।’

এনবিআর সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৮৪ হাজার কোটি টাকা, স্থানীয় পর্যায়ে মূসক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর এক লাখ দুই হাজার ২০১ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ এক হাজার ৭০৫ কোটি টাকা। এ সময় পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৭৯ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময় পর্যন্ত আদায় হয় ৭৪ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের নভেম্বর পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি ৭.১৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের নভেম্বর পর্যন্ত আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আদায় ২৬ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। স্থানীয় পর্যায়ে মূসক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। আদায় হয় ৩১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। আয়কর ও ভ্রমণ কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। এ সময়ে আদায় হয় ২১ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা। গত ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এনবিআরের সাময়িক হিসাবে ঘাটতি ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে নতুন বছরে এনবিআর সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে যাচ্ছে নতুন করদাতা সংগ্রহে। তাত্ক্ষণিকভাবে এনবিআর কর্মকর্তাদের অভিযানে ইটিআইএন এবং অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন প্রদানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। বছরের শুরু থেকেই নামিদামি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে, উৎসে রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে গুরুত্ব বাড়াতে, আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে মিথ্যা ঘোষণা ও অবমূল্যায়ন সম্পর্কিত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ জোরদারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটনে নজরদারি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে করদাতাদের সঙ্গে (খাতভিত্তিক) আলোচনার মাধ্যমে কর প্রদানে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণে বলা হয়েছে। গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনবিআরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সততা এবং জবাবদিহি নিশ্চিতের পাশাপাশি করদাতাদের হয়রানি না করতে সতর্ক করা হয়েছে।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে অনিবন্ধিত নতুন প্রতিষ্ঠান জরিপে চিহ্নিত করে নিবন্ধিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা কার্যকর করাসহ উচ্চ আদালতে অনিষ্পন্ন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি কার্যক্রম গ্রহণে আইন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নিতে বলা হয়েছে। বকেয়া পরিশোধে সর্বোচ্চ তিনবার সময় বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সহায়তা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্ড কার্যক্রম পরিচালনাসংক্রান্ত কার্যক্রমে এনবিআরের তিন গোয়েন্দা শাখার নজরদারি বাড়ানো হবে। নতুন বছরে এনবিআর থেকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাদের সদস্যদের অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর গ্রহণে উৎসাহিত করতে অনুরোধ জানানো হবে। একই সঙ্গে ভ্যাট আইন ২০১২ বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে বিভিন্ন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চল থেকে নতুন বছরের শুরু থেকে পর্যায়ক্রমে সংলাপ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে।সূত্র:কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ