বুধবার,২৬শে জুলাই, ২০১৭ ইং,১১ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ২:৫১

এমপিওভুক্ত হচ্ছেন ১৩১৮ শিক্ষক-কর্মচারী যে ৫টি বিষয় সহকর্মীদের কাছে প্রকাশ করবেন না ই-মেইল লেখার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলি খেয়াল রাখা দরকার ফিজ আরো ভালো হয়ে ফিরে আসবে : ওয়ালশ ভয়ংকর সুন্দর নিয়ে যা বললেন জয়া আহসান ফকিরহাটে অবিরাম বৃষ্টিতে অনেক বাড়ি, সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে সিপিডিতে রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট পদে নিয়োগ

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব এম আব্দুর রহিমের ইন্তেকাল

Dinajpur M Abdur Rahim Photo
দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধ কালিন মুজিব নগর সরকারের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের চেয়ারম্যান সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব এ্যাড. এম. আব্দুর রহিম রোববার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ঢাকাস্থ বার্ডেম হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না….রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র, ৪ কন্যাসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন গুনগ্রাহী ও শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন।
তিনি ৩ আগষ্ট রাতে বার্ধক্যজনিক কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন এন্ড রিসার্চ সেন্টার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসা করাকালীন সময়ে কিছুটা উন্নতি হলে ৯ আগষ্ট বিকেল ৪টায় এয়ার এ্যাম্বুলেন্স যোগে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি ৯ আগষ্ট থেকে রোববার মৃত্যুর সময় পর্যন্ত ঢাকা বার্ডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তাঁর ছোট পুত্র জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি জানান, আজ রোববার বাদ আছর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় সংসদ ভবনে রাখা হবে। ঢাকায় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁর মরদেহ দিনাজপুর শহরের নিজ বাসভবন মুন্সিপাড়ায় নিয়ে আসা হবে। সোমবার দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড়ময়দানে তাঁর দ্বিতীয় নামাজে জানাজা সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে সোমবার বাদ আছর দিনাজপুর সদর উপজেলার জালালপুর গ্রামের নিজ বাড়ীর পারিবারিক কবরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন করা হবে। সোমবার সকাল ১০টায় দিনাজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বেদীতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হবে।
তাঁর প্রথম পুত্র এম. ইনায়েতুর রহিম বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে সুনামের সাথে নিয়োজিত ছিলেন। বর্তমান সরকারের সময়ে ২০০৯ সালের শেষ দিকে তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে যোগদান করেন।
ছোট ছেলে এম. ইকবালুর রহিম দিনাজপুর সদর আসন থেকে পর পর ২বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এবারে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ৪ কন্যার মধ্যে প্রথম ২ কন্যা ডাঃ নাসিমা বেগম ও ডাঃ নাদিরা বেগম ঢাকায় চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। অপর ২ কন্যা নাফিসা বেগম ও নাজিলা বেগম গৃহবধূ।
মরহুম এম. আব্দুর রহিম তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে একজন সৎ, নির্ভিক, সমাজসেবক ও প্রভাবশালী রাজনীতিবীদ হিসেবে ব্যাপক সুনাম ও খ্যাতি রয়েছে। তিনি পেশাগত জীবনে একজন আইনজীবী ছিলেন। আইন পেশাতেও তিনি ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন। তিনি দেশ, জাতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে ব্যাপক সুনাম রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি স্বাধীনতার জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করেছেন।
এম. আব্দুর রহিম ব্যক্তি জীবনে তিনি ১৯২৭ সালের ২১ নভেম্বর দিনাজপুর সদর উপজেলার ৮নং শংকরপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের এক বুনিয়াদি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রাবস্থায় রাজশাহী কলেজে ভাষা আন্দোলনের কর্মসূচীতে সংযুক্ত ছিলেন। মুসলিমলীগ সরকারের হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর যুক্তফ্রন্টের একজন কর্মি হিসেবে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনি প্রচারাভিযানে অংশ নেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার তিনি লিগ্যাল এইড কমিটির একজন সদস্য ছিলেন। আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বৃহত্তর দিনাজপুর আঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে অকান্ত পরিশ্রম করেন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন হলে সারা দেশকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যে ১১টি বেসামরিক জোনে ভাগ করা হয়। এম. আব্দুর রহিম ছিলেন পশ্চিম জোনের জোনাল চেয়ারম্যান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রনয়নের জন্য গঠিত কমিটির ৩৪ জন সদস্যের মধ্যে তিনি একজন সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৯১ সালে দিনাজপুর সদর আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য পুনরায় নির্বাচিত হন। তিনি দীর্ঘদিন দিনাজপুর জেলা আওয়ামীলীগ ও দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর মৃত্যুতে দিনাজপুর ৪ আসন (চিরিরবন্দর-খানসামা) নির্বাচিত সাংসদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর ২ আসনের সাংসদ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এ্যাডঃ মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুল ইমাম চৌধুরী, দিনাজপুর ১ আসনের সাংসদ মনোরঞ্জনশীল গোপাল, দিনাজপুর ৬ আসনের সাংসদ শিবলী সাদিক, দিনাজপুর শহর আওয়ামী লীগ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গসংগঠন, দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি, দিনাজপুর প্রেসকাব, দিনাজপুর মোটরপরিবহন মালিক সমিতি, দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

রংপুর,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ