বুধবার,২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং,৫ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১:৪১

কলকাতায় আনা হল ব্র্যাডম্যানের ব্যাট অনেক কিছুই দেওয়ার ছিল আমার: মাশরাফি বাংলাদেশ কঠিন প্রতিপক্ষ, বললেন দক্ষিণ আফ্রিকার হেড কোচ স্বর্ণের দাম কমল পার্বতীপুরে খরায় পুড়ছে রোপা আমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা ‘মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে’ রোহিঙ্গা নিধন বন্ধে মুসলিম দেশগুলোকে এক হওয়ার আহ্বান

ফেদেরারের ১৯

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: গ্র্যান্ড স্লামের রাজা তিনি অনেক আগে থেকেই। কাল থেকে রজার ফেদেরার উইম্বলডনেরও রাজা। আর এমন ফুলেল পথ তো রাজার জন্যই। উইম্বলডনে রেকর্ড অষ্টম শিরোপা জয়ের আবেশ মেখে সেন্টার কোর্টের পাশের ব্রিজ িদয়ে হেঁটে যাচ্ছেন ফেদেরার l রয়টার্স

প্রথম সেটটা শেষ হওয়ার পর এক অদ্ভুত দৃশ্য। মারিন চিলিচ চেয়ারে বসে কাঁদছেন, পাশে দাঁড়িয়ে কেউ একজন সান্ত্বনা দিচ্ছেন। সেটটা চিলিচ হেরেছিলেন ৬-৩ গেমে। কিন্তু তাতেই তো আর উইম্বলডনের ফাইনাল শেষ হয়ে যায়নি। কান্নার কী আছে?

তখন পর্যন্ত হয়তো শুধু চিলিচ বুঝতে পেরেছিলেন। পরে বুঝলেন সবাই। বাঁ পায়ে মারাত্মক এক চোট পেয়েছেন চিলিচ। যে চোট নিয়ে হয়তো কোনোরকমে খেলা চালিয়ে যাওয়া যায়, উইম্বলডনের ফাইনাল জেতা যায় না। আর প্রতিপক্ষের নাম যদি হয় রজার ফেদেরার, তাহলে তো আরও নয়। প্রথম সেটটা হারার পরই হয়তো চিলিচ বুঝতে পেরেছেন, এই ম্যাচে তাঁর কোনো আশা নেই। এমন একটা ম্যাচ হারার আগেই হেরে যেতে কার ভালো লাগবে! কান্নাও সেই জন্যই। পরের দুটি সেটও ফেদেরার জিতলেন ৬-১, ৬-৪ গেমে। আর তাতেই লেখা হয়ে গেল নতুন এক ইতিহাস। উন্মুক্ত যুগে তাঁর চেয়ে বেশি বয়সে উইম্বলডন জেতেননি আর কোনো পুরুষ খেলোয়াড়। অষ্টম উইম্বলডন জিতে উইলিয়াম রেনশ ও পিট সাম্প্রাসকে ছাড়িয়ে অল ইংল্যান্ড ক্লাবে সবচেয়ে সফল পুরুষ খেলোয়াড়ও এখন সুইস কিংবদন্তি!

একে তো এত কীর্তি অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে। তার ওপর খ্যাতিতেও চিলিচের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে। অল ইংল্যান্ড ক্লাব ম্যাচের শুরু থেকেই তাই মুখরিত ছিল ‘রজার, রজার’ চিৎকারে। কিন্তু একটু পরে দর্শকেরাও বুঝতে পেরেছেন, চোট চিলিচের ম্যাচটা শেষ করে দিয়েছে। ফেদেরারের সমর্থকেরাও তখন ‘মারিন, মারিন’ বলে উৎসাহ দিয়ে গেছেন। শত হলেও এক মাস আগে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে গাঁটের পয়সা খরচ করে কেনা ম্যাচের টিকিট। একতরফা ফাইনাল হলে কি আর সেই পয়সা উশুল হয়!চোটে পড়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন মারিন চিলিচ। লাভ হয়নি যদিও। ম্যাচে দাঁড়াতেই পারেননি ফেদেরারের সামনে। এই চোটই শেষ করে দিয়েছে চিলিচের স্বপ্ন l রয়টার্স

কিন্তু একতরফাই হলো আসলে। দ্বিতীয় সেটের মাঝে চিলিচ চিকিৎসা-বিরতি নিয়েছেন, পায়ে প্লাস্টার লাগিয়েছেন। কিছুতেই কিছু হয়নি। বিবিসির ধারাভাষ্যে বসে বরিস বেকারও বলছিলেন, ‘এভাবে ম্যাচ জেতা যায় না। চোট ওকে এত নার্ভাস করে দিয়েছে, ওর মতো খেলোয়াড় যেসব ভুল করার কথা না, সেগুলো করে যাচ্ছে।’ পুরো ম্যাচে চিলিচের ২৩টি আনফোর্সড এরর বেকারের কথাটাকে আরও যৌক্তিক করে দেয়, যেখানে ফেদেরারের আনফোর্সড এরর মাত্র ৮টা! তিন নম্বর সেটটাতেই যা একটু লড়লেন চিলিচ, একসময় ৩-২ গেমে এগিয়েও ছিলেন। শেষ পর্যন্ত হয়নি। ম্যাচ শেষে ফেদেরারের কণ্ঠেও প্রতিপক্ষের জন্য সমবেদনা, ‘ফাইনালের মতো ম্যাচে এভাবে চোট পাওয়া নিষ্ঠুর ব্যাপার। কিন্তু মারিন পুরো টুর্নামেন্ট লড়াই করে এই পর্যন্ত এসেছে, এখানেও শেষ পর্যন্ত লড়ে গেছে। আমার চোখে সে নায়ক।’

কেঁদেছেন অবশ্য ফেদেরারও। তবে সেটা আনন্দের কান্না। ২০১২ উইম্বলডন জেতার পর আরও একটা গ্র্যান্ড স্লাম জিততে তাঁকে প্রায় পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। কতবার ফাইনালে উঠে হেরে গেছেন! একটা সময় তো মনে হচ্ছিল, বুঝি ফুরিয়েই গেছেন। সেই ফেদেরারই গত বছর প্রায় ছয় মাস বিশ্রাম নিয়ে এসে কোর্টে ফেরার পর থেকে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছেন। এ বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর এই উইম্বলডন এল তাঁর ১৯তম গ্র্যান্ড স্লাম হয়ে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হাসতে হাসতেই বললেন, ‘আগে বুঝতে পারলে ওই বিশ্রামটা অনেক আগেই নিতাম। দেখি, এখন আবার কয়েক মাসের বিশ্রামে যাওয়া যায় কি না!’

কী বুঝলেন? ২০তম গ্র্যান্ড স্লামের কথা কিন্তু এখনই ভাবতে শুরু করেছেন ফেদেরার। স্টার স্পোর্টস।

হয়তো বোঝার বয়স হয়নি সবার। তবে বাবা রজার ফেদেরারের কীর্তি গ্যালারিতে বসেই দেখেছে যমজ দুই কন্যা ও যমজ দুই পুত্র। সঙ্গে তাদের মা মিরকা ফেদেরার। কাল অল ইংল্যান্ড ক্লাবে l এএফপিফেদেরারনামা

১৯

রজার ফেদেরারের গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা। পুরুষ বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫টি শিরোপা জিতেছেন রাফায়েল নাদাল।

অষ্টম উইম্বলডন জিতে উইলিয়াম রেনশ ও পিট সাম্প্রাসকে ছাড়িয়ে অল ইংল্যান্ড ক্লাবে সবচেয়ে সফল পুরুষ খেলোয়াড় এখন ফেদেরার।

৩৫ বছর ৩৪২ দিন

উন্মুক্ত যুগে সবচেয়ে বেশি বয়সে উইম্বলডন জিতলেন ফেদেরার। সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লামের মালিক পেছনে ফেললেন আর্থার অ্যাশকে। ১৯৭৫ সালে ৩১ বছর বয়সে উইম্বলডন জিতেছিলেন অ্যাশ।

২য়

উন্মুক্ত যুগে ফেদেরারের চেয়ে  বেশি বয়সে গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন শুধু কেন রোজওয়াল। ১৯৭২ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের দিন রোজওয়ালের বয়স ছিল ৩৭ বছর ৬২ দিন।

১৯৭৬

ফেদেরারের আগে কোনো সেট না হেরে সর্বশেষ ১৯৭৬ সালে উইম্বলডন পুরুষ একক জিতেছিলেন বিয়র্ন বোর্গ।

আপনার মতামত লিখুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ