বৃহস্পতিবার,২২শে জুন, ২০১৭ ইং,৮ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ৮:২৩

এবারে 2017-2018 অর্থ বছরের বাজেটে বরাদ্দ নেই বেসরকারী স্কুল কলেজ মাদরাসা এমপিও ভুক্ত বন্ধ অবসর নিলেন লুক রঞ্চি মূত্র থেকে বিদ্যুৎ, চার্জ দেয়া যাবে স্মার্ট ফোন! ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সাজিয়ে রাখার জন্য তৈরি হয়নি’ ৪০ বছর পুরনো কমপিউটারের দাম তিন কোটি! ৯৫৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চাল সিন্ডিকেট ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা কমিটির বেঠক ২৫ জুন

ফুটপাত তুমি কার?

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: জনসাধারণের চলাচলের সুবিধায় রাজপথ থেকে গলিপথ ঘেঁষে ফুটপাতের জন্ম। বগুড়ার শেরপুর উপজেলার পৌরবাসীর করের টাকায় ফুটপাতের জন্ম ঘটলেও এর মালিকানা কাগজে কলমে পৌরসভার। বাস্তবের চিত্র ভিন্ন, ফুটপাতের মালিক ক্ষমতাশালীরা, প্রভাবশালীরা। বেদখল কান্ডে জনগণের চলাচলের সুবিধা শিকেয় উঠেছে। ফলে জনসাধারণের কাজে আসছে না ফুটপাত। বেদখলের যুগে এসে শেরপুর উপজেলার পৌরবাসীর ফুটপাত এখন লাখ টাকা আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের পাশের খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁর সামনে ফুটপাতের ওপর চুলা জ্বলছে। তৈরি হচ্ছে কাবাব, গ্রিল, পরোটা, মাংসের চাপসহ নানা খাবার। চুলা থেকে ধোঁয়া আর আগুনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশে। দিন-রাতের বেশির ভাগ সময়ই চুলা জ্বলতে থাকে। আর সড়কেও সব সময় যানবাহনের ভিড় লেগেই থাকে। এর মধ্যে মানুষজন ফুটপাত ব্যবহার করতে পারে না।

মহাসড়কের ওপরে এসব হোটেল ঠিক রাখতে প্রশাসনের সাথে হোটেল মালিকদের গোপন চুক্তির অভিযোগ উঠেছে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের অংশ হিসেবে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষা করে শেরপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উপর অবৈধভাবে চালু রাখা হয়েছে এসব হোটেলের কার্যক্রম। কার্যকর আইন ও উচ্চ আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের গাফিলতির কারণে শেরপুর পৌরবাসীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এগুলোতে সরকার দলের অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ছত্রচ্ছায়ার বসেছে পণ্যের পসরা। কোথাও কোথাও ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত বসছে পণ্যের পসরা। ফলে পৌরবাসীর ভোগান্তি তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বগুড়ার জেলার দক্ষিন সীমান্তে অবস্থিত ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক। মহাসড়কের উত্তরে বগুড়া জেলা শহর থেকে দক্ষিনে চান্দাইকোনা বগুড়াবাজার পর্যন্ত প্রায় ৪০কিলোমিটার মহাসড়কে এরকম অনিয়ম চলছে বহুদিন আগে থেকে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে মহাসড়কের ওপরে বসানো হয়েছে এই হোটেলগুলো। এসকল হোটেল মালিকদের কাছ থেকে দৈনিক চাঁদার নামে আদায়কৃত হাজার হাজার টাকা রাতের আধারে চলে ভাগ বাটোয়ারা। আর এ কাজের দায়িত্বে আছেন স্থানীয় কতিপয় নেতৃবৃন্দ। গত ২৯ মে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসে পরিষদের আইন-শৃংখলা কমিটির বিশেষ সভার এক পত্রের স্বারক নং-৫.৫০.১০৮৮.০০০.১০.০০৫.১৭.৭৯৬(৩০) সিদ্ধান্তের আলোকে শেরপুর পৌরশহর সহ উপজেলায় সকল রাস্তায় ফুটপাত অবৈধ দখল এবং  প্রভাবশালী দখল বাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর শেরপুর পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দোকান উচ্ছেদ করা হলেও প্রভাবশালী অসংখ্য রাঘব বোয়ালরা আছে এখনো ধরা ছোয়ার বাহিরে। ফলে মহাসড়কের ওপরে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে গেলেও যেন দেখার কেউ নাই। পৌরশহরের কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উপজেলা প্রশাসন এবং পৌর মেয়র ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানের নামে রমজান মাস উপলক্ষে স্থাপন করা কতিপয় অস্থায়ী ইফতারীর দোকান উচ্ছেদ করলেও আসলে পৌরবাসীর চলাচলের ফুটপাত দখল করে স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যারা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছেনা। শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সিরাজুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের জমানো অবৈধ দখলবাজ সমস্যা এটা। আমরা একটা মাত্র অভিযান পরিচালনা করেছি। থানার ওসি সাহেবকে বলেছি এটা চলমান পক্রিয়া তাই অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। শেরপুর থানার ওসি খান মো.এরফান জানান,হাইওয়ে রোডের ওপরে ফুটপাত দখল উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে, এটা অব্যাহত থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ