বৃহস্পতিবার,২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং,৬ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১:০৭

মোকামে চালের দর কিছুটা কমেছে, প্রভাব নেই খুচরা বাজারে সোনার দাম বাড়ার পর এবার কমলো শাবিপ্রবিতে ‘মেকানিক্যাল ইননোভেশন’ শুরু ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৫:৪১ জাবি ছাত্রলীগের হল কমিটি হবে কবে? জবিতে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার চার দিনের দিবারাত্রির টেস্ট! আরো ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করবে বাংলাদেশ

ফরিদপুরে বন্যায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্ধী

Faridpur (2) copy
ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ গত কয়েকদিন ধরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফরিদপুর জেলার কয়েকটি এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। জেলার পদ্মার নিকটতম নিচু এলাকাগুলোই প্রধানত বন্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। বর্তমানে ফরিদপুর জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ১শ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফরিদপুরের সদর উপজেলা ছাড়াও সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বন্যার পানির তীব্র ¯্রােতে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ, নর্থচ্যানেল ও ডিক্রীরচর ইউনিয়নের কয়েক হাজার হেক্টর জমির নানা প্রজাতির ধানসহ সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বেশ কয়েকটি স্কুল-মাদ্রাসায় পানি উঠায় সেগুলো বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। গত রোববার রাতে চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের সরকার ডাঙ্গি গ্রামের নতুন দোকানের মোড় এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধেঁর প্রায় ১০০ মিটার বাধঁ পানির তোরে ভেঙ্গে যায়। পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে নতুন করে আরো অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে নতুন করে আরো অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। রোববার রাত সোয়া নয়টার দিকে এ বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায়।
স্থানীয় আইয়ুব ব্যাপারী জানায় আকস্কিকভাবে, বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করায় ক্ষতিগ্রস্তরা যে যা পেরেছে তা নিয়ে বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। ফসলসহ বাড়ীঘরের নানা আসবাবপত্র ভেসে গেছে পানিতে। চোখের সামনে সহায় সম্বল ভেসে যেতে দেখে দিশেহারা মানুষ।
অপরদিকে বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষেরা বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকটে রয়েছে। অবর্ণনীয় দূর্ভোগ পোহাচ্ছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। এদিকে, ফরিদপুর শহরের পুরাতন স্লুইজ গেটটি পানির তীব্র চাপে হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোন সময় সেটি ভেঙ্গে শহরে বন্যার পানি প্রবেশ করতে পারে। স্লুইজগেটটি যাতে ভেঙ্গে যেতে না পারে সেজন্য সেখানে বালির বস্তা ফেলার কাজ চলছে। এছাড়া নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ভাংগা উপজেলার দুটি ইউনিয়ন।
চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের বন্যার পানিতে পড়ে আলী হোসেন নামের এক বৃদ্ধ’র মৃত্যু হয়েছে।
গাজীরটেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী বলেন, বেড়িবাধঁ ভাঙার ফলে জয়দেব সরকারের ডাঙ্গি,চর অযোধ্যা,ছিটাডাঙ্গি,ঢালার পাড়, চর হোসেনপুর,শিকদার ডাঙিবগ, কোহেল মাতুব্বরের ডাঙ্গি, চর আদমপুর সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। বাধঁ ভেঙ্গে যাওয়ার ব্যাপারে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশরী আবদুর হেকিম জানায়, বাধেঁর মাটি ইঁদুরে গর্ত করে মাটি দুর্বল করে ফেলেছিলো। অনেকদিন তা মেরামত না করার কারনেই পানির চাপ ধারন করতে না পারায় এ ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত বানভাসি ৩০০ পরিবারের মধ্যে চাল ও শুকনা খাবার বিতরন করা হয়েছে।
বন্যার কারনে ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর উপজেলার ৬০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সাময়িক ভাবে বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এ সব স্কুলের অনেক স্থানেই বান ভাসিদের স্থান দিতে হবে।
এদিকে, বন্যার্ত প্রায় ৫শ পরিবারের মাঝে চাল, ডাল ও আলু বিতরণ করেছেন, স্থাণীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুত রউফ জানান, ফরিদপুরের তিনটি উপজেলায় ১৩৫ হেক্টর আউশ, ৬৯৭ হেক্টর বোনা আমন, দুই হেক্টর রোপা আমন বীজতলা, পাঁচ হেক্টর রোপা আমন, ও ৭৫ হেক্টর শাক সবজি নিমজ্জিত হয়েছে।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী জানান, এ পর্যন্ত বন্যা দুর্গত তিন হাজার পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক এক সাংবাদিক সম্মেলন করে বন্যার পরবর্তী প্রস্তুতি সম্পর্কে সাংবাদিকদেব অবগত করেন এবং জানান, খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। পানিবন্দি এলাকার মানুষের জন্য এখন পর্যন্ত ২৫০ মেট্রিক টন চাল ও ছয় লাধিক টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
গত ২৪ ঘন্টায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে সাত সেমি পানি হ্রাস পেলেও গত বিপৎসীমার ৯৩ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

চট্রগ্রাম,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ