মঙ্গলবার,১২ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং,২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১০:১৯
ঝিনাইগাতীতে কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত আজ ওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিবেন প্রধানমন্ত্রী আজ ১৩ ডিসেম্বর লালপুর মুক্ত দিবস আনুশকার জন্য আংটি খুঁজতেই তিনমাস গেছে বিরাটের! জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল ৩০ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে জমি নিয়ে বিরোধের মামলায় জেল হাজতে যুবক খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন

ফরিদপুরে চিকিৎসকের মৃত ঘোষনার পর দাফনের সময় নড়ে উঠলো নবজাতক।

downloadফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরে চিকিৎসকের মৃত ঘোষনার পর একটি নবজাতকের বেঁচে ওঠার ঘটনায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। জন্ম নেবার কিছুটা সময় পর চিকিৎসকেরা নবজাতককে মৃত ঘোষনা করে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দাফনের জন্য নেয়া হয় গোরস্থানে। দাফনের পূর্ব মুহুর্তে নড়ে-চড়ে উঠে শিশুটি। পরে দ্রুতই শিশুটিকে নেয়া হয় শিশু হাসপাতালে। বর্তমানে শিশুটিকে শিশু হাসপাতালের ইনকিউবিটরে রাখা হয়েছে। এমন ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। চিকিৎসকের অবহেলা এবং কান্ডজ্ঞানহীন কর্মকান্ডে বিচার দাবী স্থানীয়দের।
ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন মিঠুর স্ত্রী এ্যাডভোকেট নাজনীন আক্তার প্রসবজনিত ব্যথা নিয়ে বুধবার রাত ১১টার দিকে ভর্তি হন ফরিদপুর শিশু হাসপাতালে। হাসপাতালে নেবার পর চিকিৎসকেরা প্রসূতির তেমন একটা খেয়াল না রাখায় রাত ১টার দিকে নরমাল ডেলিভারী হয়। নাজনীন আক্তার জন্ম দেন একটি ছেলে সন্তানের। বেশকিছুটা সময় পর শিশু হাসপাতালের কর্তব্যরত গাইনী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ রিজিয়া আলম নবজাতকটিকে মৃত ঘোষনা করে। রাতেই লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয় পরিবারের স্বজনদের কাছে। বৃহস্পতিবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা নবজাতক শিশুটিকে দাফন করার উদ্দেশ্যে আলীপুর গোরস্থানে দাফন করার প্রস্তুতি নিলে দাফনের পূর্ব মুহুর্তে নড়ে-চড়ে উঠে শিশুটি।সাথে সাথেই শিশুটিকে আবার নেয়া হয় শিশু হাসপাতালে। শিশু টিকে হাসপাতালের ইনকিউবিটরে নিবীর পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের এমন অবহেলায় হতবাক শিশুটির স্বজন ও স্থানীয়রা।
নবজাতক শিশুর বাবা-নাজমুল হোসেন মিঠু বলেন, লাশ দাফনের জন্য আলীপুর কবরস্থানে খোঁড়া হয় কবর। আলিপুর গোরস্থান মসজিদের ইমাম দাফনের সব আয়োজনও সম্পন্ন করেন। কিন্তু শিশু লাশের মাথা কোনদিকে আছে দেখতে গিয়ে চোখ ছানাবড়া হয়ে ওঠে দাফন করার কাজে নিয়োজিতদের। আলীপুর কবরস্থানের কেয়ারটেকার বিল্লাল হোসেন বলেন, শিশুটির লাশের কাফনের কাপড় খুললে দেখা যায় সে জীবিত রয়েছে। এ সময় অন্যরাও শিশুটিকে জীবিত দেখতে পান। তাৎক্ষনিক তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।
এ ব্যাপরে ডাঃ রিজিয়া আলম বলেন, এ ব্যাপরে রিপোর্ট যা করার আমি অফিসে করেছি। আমি এ বিষয়ে কোন কথা বলবো না।
শিশু হাসপাতালের পরিচালনা পরিষদের সদস্য শওকত আলী জাহিদ বলেছে, ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হাসপাতাল থেকে মৃত ঘোষনার পর বেঁচে উঠার ঘটনায় শহরজুড়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটির বিষয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষের অবহেলা এবং চিকিৎসকেরা শাস্তি দাবী করা হয়েছে।
হাসপাতাল কতৃপক্ষ এবং চিকিৎসকদের এমন অবহেলায় আর যাতে এমন অনাকাঙ্খীত ঘটনা না ঘটে সেজন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী শিশুটির স্বজনদের।

আপনার মতামত লিখুন

ঢাকা,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ