মঙ্গলবার,১৭ই জানুয়ারি, ২০১৭ ইং,৪ঠা মাঘ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ১২:৫৩
ধোলাইখালে ট্রাকের ধাক্কায় চাচা-ভাতিজা নিহত সিরিয়ায় নিজ নৌ এবং বিমান ঘাঁটিগুলোর উন্নয়ন করবে রাশিয়া সাত খুনের মামলার রায় ন্যায় বিচারের প্রমাণ : ওবায়দুল কাদের সাথীর লাকি সেভেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা বাড়াতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন শান্তিপদক পেয়েছেন

প্রাচীন স্থাপত্য শিল্পের অপুর্ব সৌন্দর্যমন্ডিত নিদর্শন পাঁচবিবির লকমার জমিদার বাড়ি

panchbibi-lokma-jomidarbari-23-09-16
মোস্তাকিম হোসেন,পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা ঃ
দেশের উত্তর জনপদের সীমান্তবর্তী জেলা জয়পুরহাটে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন। এসব নিদর্শনের মধ্যে একটি হলো পাঁচবিবির লকমার জমিদার বাড়ি। প্রাচীন স্থাপত্যের সৌন্দর্য মন্ডিত এ নিদর্শনটি যথাযথ রনাবেন করা গেলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষন করা সম্ভব হবে। অপর দিকে সরকারের রাজস্ব আয় হবে অনেক।
উত্তর জনপদের জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবির প্রাচীন স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন লকমার জমিদার বাড়ি। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পিলারের মাত্র ৪ গজ দুরে পাঁচবিবি উপজেলার সীমান্তবর্তী কড়িয়া গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক এ নিদর্শনটি। ধ্বংসপ্রায় এ জমিদার বাড়িটি কে কবে নির্মান করেছিল তার সঠিক ইতিহাস পাওয়া না গেলেও, অনেকের ধারনা প্রায় ৪/৫শ’ বছর আগে কোন এক জমিদার এটি নির্মান করেন।

প্রায় তিন একর জমির উপর পৃথক দুই ভাগে নির্মিত এ জমিদার বাড়ি। লোহার রড ছাড়াই শুধু ইট, চুন সুরকী দিয়ে নির্মিত ৩ তলা এ জমিদার বাড়ির এক তলা ইতি মধ্যেই মাটির নীচে দেবে গেছে। জমিদার বাড়িটিতে রয়েছে ২৫/৩০ টি ক। যার ভিতরে রয়েছে আরো ছোট ছোট কুঠরী বা কামরা। হাতিশালা, ঘোড়াশালা, কাচারীবাড়ি সবই ছিল এখানে। রনাবেনের অভাবে আজ শুধু কালের সাী হয়ে ধ্বংশপ্রায় অবস্থায় নীরবে দাঁড়িয়ে আছে এ জমিদার বাড়িটি। কিছুদিন আগেও এটি একটি জঙ্গলে পরিনত ছিল। তবে বর্তমানে এলাকার কিছু উদ্যোগী যুবক এটি পরিস্কার করে আরো আকর্ষনীয় করে তুলেছে। প্রত্যেন্ত গ্রামে অবস্থিত সীমান্ত ঘেঁষা, নয়নাভিরাম প্রাচীন এ জমিদার বাড়িটি দেশী বিদেশী দর্শনার্থীদের কাছে আরো জনপ্রিয় করে তুলতে সরকারী-বেসরকারী সহায়তার মাধমে এটি সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসি।
পাঁচবিবি শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দুরে এই জমিদার বাড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব ভাল না হলেও টেম্পু আর রিক্সা-ভ্যানে করে সহজেই আসা যায় এখানে। এলাকাবাসি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসেন প্রাচীন এই নিদর্শনটি দেখার জন্য।
প্রাচীন এই জমিদার বাড়িটি সম্পর্কে পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরউদ্দিন আল ফারুক জানান- প্রাচীন এই জমিদার বাড়িটি আমি নিজেও পরির্দশন করেছি, আমার কাছেও খুব ভাল লেগেছে। তিনি আরো বলেন আমি দেখেছি যেহেতু বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষা এই নির্দশনটি সে কারনেই এখানে দু’দেশের বিভিন্ন প্রজাতির পাখির অবাদ বিচরন, বাড়িটি যেহেতু ব্যক্তি মালিকানার সে কারনে সরকারি ভাবে সরাসরি কোন উদ্যোগ নেওয়া না গেলেও এলাকার সচেতন লোকদের সহায়তায় পর্যটন মুখর পরিবেশ করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবশেষে বলা যায়, পর্যটনে সম্ভবনাময় প্রাচীন স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন এই লকমার জমিদার বাড়িটির যথাযথ রনাবেনের মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব। যা একদিকে প্রাচীন ঐতিহ্য সংরনে সহায়ক হবে অন্যদিকে বাড়িয়ে তুলবে সরকারের রাজস্ব আয়। আর এ প্রত্যাশা এলাকাবাসির।

আপনার মতামত লিখুন

রাজশাহী,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ


%d bloggers like this: