শুক্রবার,২৩শে জুন, ২০১৭ ইং,৯ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: সকাল ৬:০০

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভার সাড়ে ১৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা বাগাতিপাড়ার দরিদ্র মেধাবী সজনীকে ল্যাপটপ দিলেন ইউএনও পাঁচবিবিতে নগত অর্থ বিতরণ সৈয়দপুরে সুবিধা বঞ্চিতদের পাশে খুচরা পয়সা সংগঠন ইটভাটার কালোধোঁয়ায় ফসলের তিপূরণের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন লালমনিরহাটে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার বায়তুল মুকাররমে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের সময়সূচি

প্রবীণদেরও পছন্দ উজ্জ্বল রঙের পোশাক

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: জাহানারা বেগমের (৫০) পাঁচ ছেলে। গতকাল তাঁর সঙ্গে কথা হয় বসুন্ধরা সিটিতে। বড় ছেলের বউ ও আরেক ছেলের সঙ্গে বের হয়েছেন। ৫ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে ভারতের একটি গোলাপি কাশ্মীরি কাতান কিনে দিয়েছেন সুইডেনপ্রবাসী বড় ছেলের বউ। তিনি ঈদ করার জন্য দেশে এসেছেন। জাহানারা বেগমের চোখমুখ খুশিতে ঝলমল করছে। হাসতে হাসতে বললেন, ‘সালোয়ার কামিজ পরি সব সময়। কিন্তু ঈদে ছেলে ও ছেলের বউরা একটু দাম দিয়ে উজ্জ্বল রঙের শাড়ি কিনে দেবেই।’

রাজধানীর ঈদবাজারে ঢুঁ দিয়ে দেখা গেল, ফ্যাশন ডিজাইনাররা পরিবারের প্রবীণ সদস্যের জন্য খুব মনোযোগ দিয়ে যে আলাদা কিছু তৈরি করেছেন তা নয়। একটু হালকা রং, চিকন পাড়, সুতি নরম শাড়ি সাধারণত প্রবীণ সদস্যরা পছন্দ করেন। আর বাবা বা শ্বশুরের জন্য গোল গলা, লম্বা এবং একটু ঢিলেঢালা পাঞ্জাবি খুঁজছেন ক্রেতারা। আর কেউ কেউ আছেন যাঁরা বয়সকে খুব একটা তোয়াক্কা করেন না, তাঁদের জন্য বিকল্প তো আছেই। চাইলে যেকোনো রঙের পোশাক চলবে।

দিনাজপুরের প্রকৌশলী জাহিন আবদুল্লাহ। রাজধানীতে একটি কাজে এসেছিলেন। কাজ শেষে জামদানি কর্নারে একটি শাড়ি অনেকক্ষণ ধরে নেড়েচেড়ে দেখছিলেন। মায়ের জন্য ঈদের শাড়ি কিনবেন। একই দোকান থেকে তিন হাজার টাকা দিয়ে একটি উজ্জ্বল রঙের মসলিন জামদানি কিনেছেন। হালকা রঙের সুতি জামদানিটাও পছন্দ হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে মুঠোফোনে একটি ছবি তুললেন, হাসিমুখে জানালেন, ছবিটা মাকে পাঠিয়ে মতামত জানার পর হয়তো শাড়িটা কিনেই ফেলবেন।

ফ্যাশন হাউস বিশ্বরঙ পরিবারের প্রবীণ সদস্যের জন্য ‘শ্রদ্ধা’ নামে আলাদা পোশাক তৈরি করছে। রাজধানীর অরচার্ড পয়েন্টে শ্রদ্ধার একটি আউটলেট আছে। এ ছাড়া সারা দেশে বিশ্বরঙের ২১টি আউটলেটেই শ্রদ্ধার পোশাক বিক্রি হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বিপ্লব সাহা প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত প্রবীণ সদস্যদের কথা আলাদাভাবে চিন্তা করে পোশাক বানানোর প্রবণতা বাংলাদেশে তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। প্রবীণদের পোশাক বানানোর ক্ষেত্রে ম্যাটেরিয়াল, কালারটোন, সাইজে একটু বড়সহ নানা বিষয় মাথায় রাখতে হয়। তাঁরা আরাম পাবেন না এমন কাপড় দেওয়া যাবে না। আবার তা যাতে দেখতে উজ্জ্বল হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কেননা, উজ্জ্বল রঙের কাপড় পরলে মনটাই ভালো হয়ে যায়। তিনি জানালেন, তাঁদের তৈরি পোশাকে সাদার প্রাধান্য থাকলেও তার সঙ্গে মেজেন্টা, নীলসহ অন্যান্য রঙের মিশেলে কাপড়কে উজ্জ্বল করেছে।

ফ্যাশন হাউস নগরদোলার পরিচালক ফরশাদ আইভী জানালেন, ঈদে ক্রেতারা প্রবীণ সদস্যের জন্য হাফ সিল্ক, টাঙ্গাইল সুতি শাড়ি, তাঁতের শাড়ি বেশি কিনছেন। শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৯০০ টাকা থেকে শুরু তিন হাজার টাকার মধ্যে। হাতের কাজের সাদা পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দামে।

ফরহাদ আলভী হেসেই জানালেন, ঈদের বিক্রি ভালো। নগরদোলা থেকে লাভের পুরো অংশ চলে যাচ্ছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ক্যানসার হাসপাতালে।

আপনার মতামত লিখুন

লাইফস্টাইল বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ