রবিবার,১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং,৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: দুপুর ২:৪২
যে কারণে ফোনের চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে পদত্যাগের জন্য চাপ জাকারবার্গকে রোনালদো ছাড়াই সেমিফাইনালে পর্তুগাল অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতকেই ফেভারিট মানছেন ওয়ার্ন কাশ্মীর ইস্যুতে আফ্রিদিকে মিয়াঁদাদের কড়া বার্তা অস্ট্রেলিয়ায় কিসের অভাব অনুভব করবে ভারত, জানালেন হাসি ওয়েডিং গিফট! মাদাম তুসোয় উঠছে দীপিকার মূর্তি

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন স্থগিত ও ঐক্যফ্রন্টের রোড মার্চ বাতিল

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক:  নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের ফল জানাতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ঘোষিত আজকের রোড মার্চ কর্মসূচি বাতিল করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তবে আগামীকাল শুক্রবার রাজশাহীতে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ হবে।

গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব এহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, অনিবার্য কারণবশত প্রধানমন্ত্রীর বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। পরিবর্তিত তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে। এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কারণে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভা থেকে রাজশাহী অভিমুখে রোড মার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ঐক্যফ্রন্ট। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ শেষে গতকাল বিকেল ৪টার দিকেও ড. কামালের বাসভবনে এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর এক ঘণ্টার মাথায় রোড মার্চ কর্মসূচি হচ্ছে না বলে কালের কণ্ঠকে জানান বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি বলেন, ‘রোড মার্চ কর্মসূচি হচ্ছে না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা নিজেদের মতো করে রাজশাহীতে শুক্রবারের (কাল) জনসভায় অংশ নেবেন। এটা বিএনপি মহাসচিব আমাকে জানিয়েছেন।’

জানা যায়, রাজশাহীতে আজ রাত যাপন করে আগামীকাল সাহেববাজার গণকপাড়া মোড়ে জনসভা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এই কর্মসূচি রেখেছে। এ ছাড়া আজ তফসিল ঘোষণা হলে রবিবার নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচিরও ঘোষণা আছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের।

রোড মার্চ না হওয়ার কারণ হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা বলেন, ‘রোড মার্চের জন্য যে প্রস্তুতি থাকা দরকার, পুলিশি ধরপাকড়ে তা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তা ছাড়া শারীরিক অসুস্থতার কারণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো কোনো নেতা সড়কপথে এত দূর রোড মার্চ করে যেতে না পারার কারণে রোড মার্চ কর্মসূচি বাতিল করে শুধু জনসভা কর্মসূচি রাখা হয়েছে।’

ঐক্যজোটের সঙ্গে লিয়াজোঁ করছেন বিএনপির এমন এক নেতা বলেন, ‘আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজনে আলোচনাসভা রয়েছে। রোড মার্চ হলে বিএনপির অধিকাংশ নেতাই সেখানে অংশ নেবেন। ফলে বিএনপির এই কর্মসূচি গুরুত্ব হারাতে পারে। তাই সব দিক বিবেচনায় নিয়ে বিএনপিরও অনীহা রয়েছে।’

জনসভার প্রস্তুতি সম্পর্কে রাজশাহী বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে অনুমতি পাইনি। এরপর সাহেববাজার গণকপাড়া মোড়ে জনসভা করতে লিখিত অনুমতি চাই। সেখানে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেও আমরা জনসভা করতে প্রস্তুত রয়েছি।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা জানান, রাজশাহীর পর খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহে জনসভা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কার্যত এসব জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিয়ে রাখতে চায় তারা।

একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গত ১ নভেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সংলাপের প্রথম দিনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। পরে ১৪ দল, জাতীয় পার্টি, যুক্তফ্রন্ট, বাম জোট ও ইসলামী বিভিন্ন দলের সঙ্গে সংলাপ করেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশ জাতীয় জোটসহ বেশ কয়েকটি দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

জাতীয়,সারাদেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ