শুক্রবার,২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং,৭ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, সময়: রাত ১১:০৭

যমুনা ব্যাংকে উচ্চ বেতনে চাকরি সাতক্ষীরার অ্যাকুরিয়ামের রঙিন মাছ রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও ‘শুক্রবার থেকে ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেবে সেনাবাহিনী’ ‘মহাসড়ক নেটওয়ার্কে জনসাধারণের যাতায়াতে স্বস্তি ফিরে এসেছে’ একাধিক পদে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কাজের সুযোগ গাজীপুরে পিকআপের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত পবিত্র আশুরা ১ অক্টোবর

পোল্ট্রিতে এন্টিবায়োটিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে মানুষ

 মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: বর্তমানে পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশ ঘটেছে বিশ্বজুড়ে। দৈনন্দিন মাংসের চাহিদার বিরাট অংশ মেটাচ্ছে এই শিল্প। কিন্তু চিকিত্সা বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ব্যবসায়ীরা নিজেদের পকেট ভারি করার স্বার্থে সাধারণ মানুষের জীবনে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি টেনে আনছেন। তারা মুরগি মোটাতাজা করতে ও ওজন বাড়াতে যেসব এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন সেটা ভবিষ্যতে মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে।

বিজ্ঞানীরা আরো বলছেন, প্রতি বছর আমাদের প্রতি ১০ জনের একজনের অসুস্থতার কারণ খাদ্যজনিত। সাধারণত ই. কোলি এবং স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থেকে এসব অসুস্থতা সৃষ্টি হয়। পাঁচ বছরের নিচের বয়সের শিশুদের জন্য এসব ব্যাকটেরিয়া প্রাণঘাতী। আর এই ব্যাকটেরিয়ার বেশিরভাগ  জন্ম নেয় পোল্ট্রিশিল্পে পালিত মুরগি থেকে। জর্জিয়ার প্রাণী বিজ্ঞানী ম্যারিন ম্যাককেনা একথা জানিয়ে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি ম্যাগাজিনে ‘বিগ চিকেন’ নামে একটি প্রবন্ধও লিখেছেন।

তিনি বলেছেন, এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে এত সমালোচনার মধ্যেও একটি শ্রেণী তাতে কর্ণপাত করছে না। বিশেষ করে পোল্টিশিল্পের সাথে জড়িতরা। সাধারণের মধ্যে একটা  ধারণা আছে যে এন্টিবায়োটিক বোধ হয় কেবল অসুস্থ মানুষের উপর প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্বে এন্টিবায়োটিকের বড় অংশ ব্যবহার হয় মাংস শিল্পে। কেবল যুক্তরাষ্ট্রে সাড়ে তিন কোটি পাউন্ড এন্টিবায়োটিক মাংস উত্পাদনকারী পশু-পাখিদের শরীরে প্রয়োগ করা হয়, যা মানুষের শরীরে ব্যবহূত এন্টিবায়োটিকের চেয়ে কয়েকগুন বেশি। তবে রোগ সারানোর জন্য পশু-পাখিদের শরীরে এগুলো প্রয়োগ করা হয় তা নয়, এটা করা হয় দ্রুত বৃদ্ধি ও ওজন বাড়ানোর জন্য। বৃদ্ধি যত দ্রুত হবে তত তাড়াতাড়ি এগুলোর মাংস বিক্রি করা যাবে। আর ওজন যত বাড়বে তত আর্থিক লাভ হবে।

ম্যাককেনা বলেছেন, খাবার ও পানির সাথে প্রতিদিন এদের এসব এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয়। এর ফলে এদের অন্ত্রে এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়। এরপর এদের যখন জবাই করার জন্য ফার্ম থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় তখন ব্যাকটেরিয়াগুলোও বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী এই ব্যাকটেরিয়াগুলো যখন কোনো খাবারের সঙ্গে মানুষের শরীরে ঢুকে পড়ে তখন ধীরে ধীরে সেই মানুষকেও অসুস্থ করে তুলতে পারে। অসুস্থ মানুষটি চিকিত্সকের কাছে গেলে তিনিও হয়তো প্রেসক্রিপশনে এন্টিবায়োটিক সুপারিশ করবেন। কিন্তু এন্টিবায়োটিকে কাজ হবে না। কারণ যে ব্যাকটেরিয়ার কারণে এই অসুস্থতা সৃষ্টি হয়েছে সেই জীবানুগুলো তো এন্টিবায়োটিকের ডোজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে বিশাল ‘যোদ্ধা’ হয়ে উঠেছে। এখন ওষুধ তাকে কাবু করতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে পোল্ট্রিশিল্পে বেপরোয়া এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ম্যাগডোনাল্ডস, কেএফসির মতো বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাকৃতিকভাবে পালিত মুরগির মাংস সংগ্রহে গুরুত্ব দিচ্ছে বেশি। জানা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে পোল্ট্রিশিল্পে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার শুরু করেন থমাস জুকস নামের এক ব্যক্তি। তার দেখাদেখি অনেকেই এই কাজ শুরু করে। পরে এই চর্চা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। তবে বর্তমানে বিভিন্ন দেশ পোল্টি ফার্মে কঠোর নজরদারি করছে যাতে এসব ওষুধ ব্যবহার করে মুরগির ওজন ও আকার বাড়ানোর চেষ্টা না করা হয়। -ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ