রবিবার,১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং,২রা পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, সময়: বিকাল ৫:৩৭
রিক্সা ভ্যানে শহর ঘুরলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী লালমনিরহাটে মহান বিজয় দিবস পালিত জলঢাকায় বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে বিজয় দিবস পালিত হিলি সীমান্তে বিএসএফ’কে মিষ্টি উপহার দিলেন বিজিবি মির্জাপুরে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন নীলফামারী-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থীর গণসংযোগ মির্জাপুরে নানা আয়োজনে বিজয় দিবস পালিত

পুঁজির মডেল বদলে সরল সুদের ঋণ চালু

4 months ago , বিভাগ : অর্থনীতি,

মুক্তিনিউজ২৪.কম ডেস্ক: ইক্যুইটি অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ ফান্ডের (ইইএফ) নাম পরিবর্তন করে এন্টারপ্রেনারশিপ সাপোর্ট ফান্ড (ইএসএফ) নাম দিয়েছে সরকার। এখন থেকে উদ্যোক্তা উন্নয়নে ইক্যুইটি বা পুঁজি সহায়তার মডেল থেকে সরে এসে সহনীয় মাত্রায় সরল সুদহার সংবলিত ঋণ মডেলে পরিচালিত হবে এই তহবিলটি। ইইএফর মতো ইএসএফ থেকেও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও কৃষিভিত্তিক শিল্প খাত ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতে অর্থায়ন করা হবে।

এই ঋণের সুদহার হবে ২ শতাংশ এবং তা হবে সরল সুদ। এই তহবিল থেকে নেওয়া ঋণের মেয়াদও হবে আট বছর। গত রবিবার ইএসএফ পরিচালনার জন্য নতুন একটি নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ইক্যুয়িটি মডেল প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু ভুলের কারণে খুব একটা ইতিবাচক ফল আনতে না পারায় ইইএফের মডেল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইসিবি। জানা গেছে, গত ১৭ বছরে ওই তহবিল থেকে সরকার বিলি করেছে ২০২৫ কোটি টাকা। আট বছর পর টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও ফেরত আসছে না কোনো টাকা। বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে দেওয়া অর্থের বিপরীতে কাগজে-কলমে ওই কম্পানির ৪৯ শতাংশ মালিকানা আছে সরকারের। কিন্তু বিনা সুদে টাকা নিয়ে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর ধরে লোকসান দেখানোর কারণে মালিকানা থেকেও কোনো লভ্যাংশ পাচ্ছে না সরকার। নিজের শেয়ার বিক্রি করতে গিয়ে মামলা করেও সুফল পাচ্ছে না সরকার। কারণ, সরকার নিজেই কম্পানির মালিক হওয়ায় মামলা করেও শেয়ার বিক্রি করতে পারছে না। বিলি করা টাকা ফেরত পেতে অন্য কোনো পথও আপাতত খোলা নেই সরকারের সামনে। এ অবস্থায় যে তহবিল থেকে বিনা সুদে টাকা দেওয়া হয়েছে সেই ইইএফের নাম পরিবর্তন করে নতুন মডেলে চালু করল সরকার।

নীতিমালা অনুযায়ী, ইএসএফ থেকেও উদ্যোক্তাদের মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৪৯ শতাংশ অর্থঋণ হিসেবে দেওয়া হবে। বাস্তবতার নিরিখে ঋণের পরিমাণ ৪৯ শতাংশের কমও হতে পারে। তিন কিস্তিতে এই ঋণ দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তির অর্থ বিতরণের পর থেকে আট বছরে ছয় মাস অন্তর কিস্তিতে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ঋণগ্রহীতা কম্পানির সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে কম্পানিতে সরকারের কোনো মালিকানা থাকবে না। কৃষি, আইসিটি ও মত্স্য খাতের পাশাপাশি ইএসএফ থেকে এই ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পেও।

ইইএফ তহবিল থেকে টাকা দেওয়ার নিয়ম ছিল, কোনো ব্যক্তির ৫১ টাকার সম্পদ থাকলে সরকার তাকে ৪৯ টাকা দেবে। তাতে যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে সেখানে সরকারের শেয়ার থাকবে ৪৯ শতাংশ। সরকারের তহবিল থেকে টাকা নেওয়ার আট বছর পর ওই ব্যক্তি হয় টাকা ফেরত দেবেন, না হয় সরকারের ৪৯ শতাংশ শেয়ার কিনে নেবেন। কিন্তু যাঁরা টাকা নিয়েছেন, তাঁরা এর কোনোটিই করছেন না। যেহেতু ইইএফ থেকে টাকা দেওয়া হয়েছে মালিকানার বিপরীতে, তাই বিতরণ করা টাকাকে ঋণ হিসেবে দেখানো সম্ভব হচ্ছে না।

এই ঋণের জন্য আবেদন করতে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের ইইএফ ইউনিট বরাবর আবেদন করতে হবে। অন্যদিকে আইসিটি খাতের উদ্যোক্তাদের আইসিবির ইইএফ উইং থেকে ফরম সংগ্রহ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে।

নতুন করে চালু করা তহবিল থেকে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও কৃষিভিত্তিক খাতের প্রকল্প ব্যয় সর্বনিম্ন আট লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা এবং যন্ত্রপাতি নির্ভর প্রকল্পের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রকল্প ব্যয় ১২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সহায়তা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া আইসিটি প্রকল্পের জন্য সর্বনিম্ন প্রকল্প ব্যয় ৫০ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সহায়তা পাওয়া যাবে।

আপনার মতামত লিখুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ